— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
দেশের স্বাধীনতার জন্য কত মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, কত মানুষের আত্মত্যাগ রয়ে গিয়েছে বিস্তৃতির অতলে। তাঁদের দেশপ্রেমের কাহিনি পড়ুয়াদের কাছে তুলে ধরবেন শিক্ষকেরা। সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক অধীনস্থ সেন্টার ফর কালচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড ট্রেনিং থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই কাজ ঠিক মতো এগোচ্ছে কি না, এ বার তা-ই খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হল।
শিক্ষকতার পাশাপাশি ভারতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন অনেকেই। দেশের বহু অজানা তথ্য সকলের সামনে তুলে ধরলেও তাঁরা মনে করছেন, অনেক তথ্যই অজানা থেকে যাচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষানীতি এবং ভারতের সভ্যতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পড়ুয়াদের নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয় কেন্দ্র। প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন শিক্ষকেরা এই প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু আদৌ কি সেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরে পড়ুয়াদের মধ্যে সেটা ছড়িয়ে পড়ে?
বেথুয়াডহরির বীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক নদিয়ার দীপেন দত্ত জানান, তিনি নিজে অন্তত সেই প্রশিক্ষণ নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে সেই শিক্ষার প্রসার ঘটাতে উদ্যোগী হয়েছেন। প্রতিটি জেলাতেই এ রকম বহু শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা ‘ডিস্ট্রিক্ট রিসোর্স পার্সন’ বা ডিআরপি হিসেবে কাজ করেন। বছর খানেক আগে তিনি একটি তথ্য সকলের সামনে তুলে ধরে ছিলেন। যাঁরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু তেমন ভাবে সাধারণ মানুষ জানতে পারেননি, তাঁদের জীবনের নানা ঘটনাকে তুলে ধরেছেন পড়ুয়াদের সামনে।
এ সব তথ্য কেন্দ্রের একটি পোর্টালেও তুলে ধরা হচ্ছে। স্কুলের পড়ুয়াদের জানানো হয়েছে সেই সব বিপ্লবীর নানা অজানা কথা। পাশাপাশি বহু পুরনো ও অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে ‘জ্ঞান ভারতম’ নামক অ্যাপের মাধ্যমে।
সম্প্রতি ফের স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে থেকে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। যে সব শিক্ষকেরা এই কোর্স করতে ইচ্ছুক তাঁদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জেলাস্কুল পরিদর্শকদের থেকে অনুমতি নিতে হবে। পড়ুয়াদের মধ্যে ভারতের সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহ বৃদ্ধি করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের এই পথকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে প্রশিক্ষিত হওয়ার পরে দফতরের তরফ থেকে কি কোনও নজরদারি থাকে?
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পরে তার বাস্তবায়ন সঠিক ভাবে হচ্ছে কিনা সেটাই দেখার।’’ মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনার সম্পাদক অনিমেষ হালদারও বলেন, ‘‘এই উদ্যোগ খুবই ভাল। কিন্তু সরকারের কাছে অনুরোধ প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরে শিক্ষকেরা পড়ুয়াদের মধ্যে সেই জ্ঞানের প্রসার ঘটাচ্ছেন কিনা সেটা খতিয়ে দেখুক। শিক্ষকেরা যেটা শিখছেন সেখান থেকে পড়ুয়ারা নতুন কিছু শিখতে পারলে তবেই তার সার্থকতা।’’