Ministry of Education

কোচিং নির্ভরতা কমাতে আইন! কেন্দ্রের প্রস্তাবে বদল হতে পারে জেইই, নিট-এর রূপরেখাও

ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা মেডিক্যালের স্নাতকে ভর্তির যোগ্যতা নির্ণায়ক প্রবেশিকাগুলির রূপরেখা বদলানোর বিষয়ে আলোচনা করতে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১৩:২৬
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

ভাল ফলের আশায় দেশের বড় বড় কোচিং সেন্টারে হাজার হাজার পড়ুয়া ভর্তি হচ্ছেন। অথচ, তাঁরা সকলেই ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা মেডিক্যালের স্নাতকের জন্য যোগ্যতা অর্জন করছেন, তা নয়। বরং, ব্যর্থতা দায় বা অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। এমন অভিযোগ উঠেছে বার বার। এরই বিপরীতে অসাধু শিক্ষাব্যবসায়ীরা রোজগার করছে দু’হাতে।

Advertisement

এ বার কোচিং-এর প্রতি পড়ুয়াদের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে জাতীয় স্তরে বিশেষ আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে কেন্দ্র। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের তরফে নতুন আইনের খসড়া তৈরির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নয় সদস্যের ওই কমিটির মতে, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন বন্ধ করে কিংবা নিয়মিত পরিদর্শন করে কোচিং ব্যবস্থার পটপরিবর্তন সম্ভব নয়। এ জন্য পরীক্ষা ব্যবস্থার রূপরেখাও বদলানো দরকার।

উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা মেডিক্যালের স্নাতকে ভর্তির যোগ্যতা নির্ণায়ক প্রবেশিকা পদ্ধতিতে বহু বিকল্পমূলক প্রশ্ন বা এমসিকিউ থাকে। স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি, এই বিষয়গুলি নিয়ে খুঁটিনাটি পড়াশোনা, মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। এখানেই সাহায্যে হাত বাড়ানোর কথা বলে কোচিং সেন্টারগুলি। বিনিময়ে নেওয়া হয় চড়া মূল্য। আবার এ সব কোচিং সেন্টার থেকেই বহু বার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, কোচিং সেন্টারের ফি-এর টাকা মেটাতে গিয়ে ঋণ নিতে হয়েছে পড়ুয়ার অভিভাবকদের। কিছু ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল না হলে অবসাদে ভুগেছেন পড়ুয়ারা। মৃত্যুও হয়েছে অনেকের। এই সমস্যার সমাধানের জন্য পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা করেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের কমিটি।

জানা গিয়েছে, উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে এই মর্মে একটি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। সব তথ্য খতিয়ে দেখার পর ফাইনাল রিপোর্ট কেন্দ্রের কাছে জমা দেওয়া হবে। ওই রিপোর্টে জয়েন্ট এন্ট্রান্স, নিট, কুয়েট-এর মতো প্রবেশিকা ব্যবস্থার রূপরেখা বদলানোর প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে স্কুলের পঠনপাঠনের পদ্ধতি পরিবর্তন, শিক্ষা পর্ষদ এবং শিক্ষা সংসদগুলিকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলা এবং ক্লাসরুমের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিযোগিতামূলক প্রবেশিকার আয়োজনের বিষয়গুলির বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির প্রবেশিকার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পড়ুয়াদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। কোচিং সেন্টারগুলি কী ভাবে চালানো হচ্ছে, পড়ুয়াদের ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে কী নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে, কারা পড়াচ্ছেন, তাঁদের যোগ্যতা সম্পর্কিত একাধিক বিষয়গুলি নতুন আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক শিক্ষামন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত খসড়ায় ওই সব বিষয়ে বিশদ তথ্য সরকারকে জানানোর বিধি থাকছে। এ ক্ষেত্রে স্কুলের পঠনপাঠনের পর নিয়মিত ক্লাসের সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়ার বিষয়টিও খসড়ায় থাকছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement