Effects of AI on students

কৃত্রিম মেধার হাতে বন্দি স্কুল স্তরের পড়াশোনাও! বইয়ের প্রয়োজন কি তবে ফুরোল? কী বলছেন শিক্ষকেরা?

এক সময়, শুধুমাত্র উচ্চ স্তরের শিক্ষার্থীরাই নানা ওয়েবসাইট ঘেঁটে ‘নোটস্‌’ তৈরি করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্কুল স্তরের পড়ুয়ারাও পাঠ্যবইয়ের থেকে এআই ভিত্তিক নানা অ্যাপের প্রতিই ভরসা রাখছে! যদিও প্রাথমিক সমীক্ষা বলছে, এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভাবে পাঠ্যবই ভুলে যায়নি স্কুল পড়ুয়ারা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

স্কুল পড়ুয়ারাও কী ঝুঁকছে এআই-এ? ছবি: সংগৃহীত।

বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ! এ বিতর্ক বহুদিনের। তারই মধ্যে উন্নত হচ্ছে প্রযুক্তি। দিনে দিনে মুঠোফোনে জায়গা পাচ্ছে নতুন নতুন অ্যাপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে নেটদুনিয়ার অনেক কিছুই ‘ভাইরাল’। সংক্রামণের মতো ছড়িয়ে পড়া সে সব ভিডিয়ো কিংবা ছবি দেখে বলা দায় তা এআই তৈরি— না কি আসল!

Advertisement

প্রভাব পড়ছে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও। এক সময়, শুধুমাত্র উচ্চ স্তরের শিক্ষার্থীরাই নানা ওয়েবসাইট ঘেঁটে ‘নোটস্‌’ তৈরি করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্কুল স্তরের পড়ুয়ারাও পাঠ্যবইয়ের থেকে এআই ভিত্তিক নানা অ্যাপের প্রতিই ভরসা রাখছে! যদিও প্রাথমিক সমীক্ষা বলছে, এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভাবে পাঠ্যবই ভুলে যায়নি স্কুল পড়ুয়ারা। কিন্তু যত দিন যাবে ততই বেশি প্রভাব বিস্তর করবে এআই!

তা হলে কী ধীরে ধীরে পাঠ্যবই থেকে মন উঠে যাবে পড়ুয়াদের— কী বলছেন শিক্ষকরা?

Advertisement

‘‘পাঠ্যবইয়ের কোনও বিকল্প হয় না,’’ যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধানশিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য এমনটাই মনে করেন। তিনি বলেন, ‘‘এই এআই প্রযুক্তি আমাদের পরিশ্রমকে যেমন লাঘব করে দিয়েছে, তেমনই এ কথাও সত্যি যে বইয়ের কোনও বিকল্প নেই। বই খুঁটিয়ে পড়লে যে জ্ঞান আমরা পাই, তাতে কিন্তু আমাদের চিন্তাভাবনা জ্ঞানবৃদ্ধিও হয়। কিন্তু চ্যাট জিটিপি, গুগল জেমিনি-র মতো ক্ষেত্রগুলিতে শুধুমাত্রই জানার জায়গাটুকুর উত্তর পাচ্ছি। এতে সার্বিক মানোন্নয়নে খামতি থেকে যাচ্ছে।’’ তিনি আরও জানান, বর্তমানে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রশ্নের মধ্যে বেশির ভাগই বোধমূলক প্রশ্ন থাকে। অর্থাৎ কোনও বিষয় কতটা ভাল ভাবে পড়ে বুঝেছে তা-ই লিখতে হয়। সে ক্ষেত্রে পাঠ্যবই পড়া না থাকলে অনেকটাই সমস্যায় পড়বে শিক্ষার্থীরাই। তাই একটা সমতা বজায় রাখা খুবই প্রয়োজন।

একই ভাবে সমতা বজায়ের কথা তুললেন যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের বর্তমান প্রধানশিক্ষক অমিত সেন মজুমদার। তাঁর কথায়, ‘‘নতুন প্রযুক্তি যখনই ব্যবহারোপযোগী হয়ে ওঠে তখন তাকে স্বাগত জানানোই উচিত। এআই ব্যবহারে ছাত্রছাত্রীদের উপকারই হবে।’’ তা হলে কী খুঁটিয়ে বই পড়ার অভ্যাস হারাবে? অমিত বলেন, ‘‘সমস্যাটা আসলে এআই ব্যবহারে নয়। কোনও কিছুই দ্রুত পথে সেরে ফেলার অভ্যাস হয়ে গেলে কঠিন পথ আর নেওয়া যায় না! এই ক্ষেত্রেও তাই। পড়ুয়ারা যদি এআই ব্যবহার করতে গিয়ে পাঠ্যবইকে ভুলে যায় তা হলেই সমস্যা তৈরি হবে।’’

Advertisement

তা হলে উপায়?

যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে অবশ্যই প্রযুক্তিগত উন্নতিকে গ্রহণ করতে হবে। পাঠভবনের প্রধানশিক্ষিকা ব্রততী চট্টোপাধ্যায় এমনটাই মনে করেন। তাঁর কথায়, ‘‘পড়ুয়াদের এআই-এর সঠিক ব্যবহার শেখানো খুবই প্রয়োজন। স্কুল স্তর থেকেই তা শেখানো দরকার।’’ পড়ুয়াদের এই প্রযুক্তিতে স্বাবলম্বী করতে খুব শীঘ্রই পাঠভবনের স্কুল স্তরেই চালু হচ্ছে এআই প্রশিক্ষণ। তবে, এ ক্ষেত্রে পরিবারের দায়িত্ব রয়েছে বলেও মনে করেন ব্রততী। তিনি মনে করেন, কোনও পড়ুয়া স্কুলের বাইরে বাকি সময়টুকুই বাড়িতে থাকছে। তাই সে মুঠোফোন কতটা পড়াশোনার স্বার্থে ব্যবহার করছে, কতটা বই পড়ছে তা সব থেকে ভাল পরিবারই বুঝতে পারে। দু’টির মধ্যেই সমতা রাখলে সার্বিক উন্নয়নে কোনও খামতি থাকবে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement