ছবি: সংগৃহীত।
হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নগর সভ্যতার চেনা ছবি বলতে চোখের সামনে ভেসে ওঠে নৃত্যরত নারীমূর্তি। নগ্নিকা নারীর মূর্তিতেই আপত্তি কেন্দ্রে? আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে চর্চা।
কারণ এনসিইআরটি-র নবম শ্রেণির ইতিহাস পাঠ্যবইতে অনাবৃত নারীমূর্তির ঊর্ধ্বাঙ্গ মুড়ে দেওয়া হয়েছে কালো কাপড়ে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ‘মধুরিমা’ নামের ইতিহাস বইটিতে ‘হিস্ট্রি অফ আর্টস’ অধ্যায়ে মূল মূর্তির বদলে রয়েছে নৃত্যরত সিন্ধু নারীর নতুন অবয়ব। এই বই প্রকাশের প্রায় ২৫ বছর পরে অনাবৃত নারীমূর্তির ছবিতে এমন কোনও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষামহলে উঠছে প্রশ্ন, ইতিহাসের এত গুরুত্বপূর্ণ নারীমূর্তির ছবিতে এই বিকৃতি কোন যুক্তিতে করা হল?
উল্লেখ্য, এনসিইআরটি-র সমাজবিজ্ঞানের বিতর্কিত পাঠ্যবইয়ের সিলেবাস কমিটির প্রাক্তন সদস্য মাইকেল ড্যানিনো এই বিষয়ে বিশেষ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ওই নারীমূর্তির ‘নগ্ন’ ছবিটি আপত্তিকর এবং বিতর্কিত। বইয়ের পাতায় ছোট করে ওই ছবি ছাপানো দরকার। ছোটদের অনাবৃত মূর্তি দেখানোই উচিত নয় বলেও দাবি করেছিলেন ড্যানিনো। বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে বিচারব্যবস্থার প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে ফরাসি বংশোদ্ভূত ওই অধ্যাপক ও লেখকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শীর্ষ আদালত।
ইতিহাসবিদদের মতে, ওই অনাবৃত নারীমূর্তি সিন্ধু সভ্যতায় নারীদের সমাজে অবস্থান এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যক্ত করে। এই মূর্তি পরীক্ষা করেই সিন্ধু সভ্যতায় ধাতুবিদ্যার চর্চার হদিশ পান নৃতত্ত্ববিদরা। তাই ইতিহাস পাঠ্যে ওই বিশেষ নারীমূর্তির উপস্থিতি বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমানে ওই মূর্তিটি নয়া দিল্লির জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
তবে, ছবিটিকে কেন বদলানো হল? তার সাপেক্ষে কোনও বক্তব্য দেননি এনসিইআরটি-র অধিকর্তা দীনেশ প্রসাদ সাকলানি। জাতীয় স্তরের একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “এর কোনও নির্দিষ্ট কারণ আছে বলে আমার মনে হয় না। ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবইতে হরপ্পা সভ্যতার খননকার্যে পাওয়া সব সামগ্রীর সঙ্গে নৃত্যরত নারীমূর্তির ছবিও রয়েছে। এই বিষয়ে বিশদে টেক্সটবুক ডেভেলপমেন্ট দলের সদস্যেরা বলতে পারবেন।”