ম্যানুয়েল ন্যুয়েরের এই জার্সি ঘিরেই বিতর্ক। ছবি: রয়টার্স।
দুধের শিশু কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পরেও বিতর্কে জার্মানি। বিতর্কের কেন্দ্রে তাদের গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ের। ফিফার জার্সি সংক্রান্ত দু’টি নিয়ম ভেঙেছেন ন্যুয়ের। এই ভুল দেখার কথা ছিল রেফারির। কিন্তু তিনিও ন্যুয়েরের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেননি।
কেরিয়ারে প্রায় সব ম্যাচেই হাফ স্লিভ জার্সি পরে খেলেছেন ন্যুয়ের। বিশ্বকাপে তাঁর জার্সি ছিল ফুল স্লিভ। তিনি কনুইয়ের কাছ থেকে জার্সি কেটে ফেলেন। তার পর তা পরে খেলেন। কুরাসাও ম্যাচে ন্যুয়েরের সবুজ রঙের জার্সি দেখে বোঝা যাচ্ছিল, সেটি কেটে নিয়েছেন তিনি।
ফিফার ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ফুটবলারের হাফ বা ফুল স্লিভ জার্সি পরে খেলতে পারেন। তবে কোনও ভাবেই তা কেটে ব্যবহার করা যাবে না। সেই নিয়মই ভেঙেছেন ন্যুয়ের। পাশাপাশি জার্সির ভিতরে সম্পূর্ণ অন্য রঙের টি-শার্ট পরা ফিফার নিয়মে অপরাধ। ন্যুয়ের জার্সির নীচে সাদা রঙের একটি টি-শার্ট পরেছিলেন। অর্থাৎ, জোড়া নিয়ম ভেঙেছেন তিনি।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
তবে এ সব ক্ষেত্রে ফিফা সরাসরি কোনও ফুটবলারকে শাস্তি দিতে পারে না। সেই অধিকার রয়েছে রেফারির। তিনি চাইলে সেই ফুটবলারকে জার্সি বদল করে না আসা পর্যন্ত মাঠে না ঢোকার নির্দেশ দিতে পারেন। কিন্তু জার্মানি বনাম কুরাসাও ম্যাচের রেফারি সে রকম কোনও নির্দেশ দেননি। ফলে ন্যুয়ের হয়তো শাস্তি পাবেন না। কিন্তু ফিফার নিয়ম ভেঙে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের ইউরো কাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন ন্যুয়ের। কিন্তু গত মরসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। পাশাপাশি জার্মানির এক নম্বর গোলরক্ষক আন্দ্রে টের স্টেগেন চোটে থাকায় ন্যুয়েরকে অবসর ভেঙে ফেরার অনুরোধ করেন কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। সেই অনুরোধ ফেরাননি ন্যুয়ের। নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে বিতর্কে জড়িয়েছেন ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ন্যুয়ের বিতর্কে জড়ালেও ম্যাচে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। কুরাসাওকে হাসতে হাসতে হারিয়েছে জার্মানি। গোটা ম্যাচে ন্যুয়েরকে বেশি পরিশ্রমও করতে হয়নি। যদিও ক্লিন শিট রাখতে পারেননি তিনি। একটি গোল হজম করতে হয়েছে তাঁকে।