Syllabus Committee

ফের বদলাচ্ছে পাঠ্যক্রম! এনসিইআরটি বই বিতর্কের পর কি বাড়তি সতর্ক রাজ্য সিলেবাস কমিটি?

বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, স্কুল পাঠ্য বইয়ের ক্ষেত্রে খসড়ায় বা প্রাথমিক ভাবে ছাপার পর কোনও ভুল থাকলে সিলেবাস কমিটির তা খতিয়ে দেখার কথা। সেখানে কোনও ভুল থাকলে তা চোখে পড়বেই।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫৩
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বইয়ের খসড়া চলে গিয়েছিল ছাপাখানায়। কিন্তু ‘ডিজিটাল প্রিন্ট’ আসার পর দেখা যায় সেখানে অবাঞ্ছিত এক সাপের ছবি! অথচ, খসড়ায় সাপের ছবি দূরের কথা, সাপ সম্পর্কিত কোনও বিষয়েরই উল্লেখই নেই।

Advertisement

বছর কয়েক আগে এমনই অভিজ্ঞতা হয়েছিল এ রাজ্যের সিলেবাস কমিটির সদস্যদের। সঙ্গে সঙ্গে ওই বই বাতিল করা হয়। সম্প্রতি এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ের ‘সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক অধ্যায়ে বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে উল্লেখ করায় বইটি নিষিদ্ধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় শিক্ষা দফতর ও এনসিইআরটি-র বিরুদ্ধে উঠেছে আদালত অবমাননার অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যক্রমের খোলনলচে বদলাতে চলেছে রাজ্য। ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৬০ সদস্যের কমিটি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক ঘটনার প্রক্ষিতে কি অতিরিক্ত সতর্ক কমিটি?

বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, স্কুল পাঠ্য বইয়ের ক্ষেত্রে খসড়ায় বা প্রাথমিক ভাবে ছাপার পর কোনও ভুল থাকলে সিলেবাস কমিটির তা খতিয়ে দেখার কথা। সেখানে কোনও ভুল থাকলে তা চোখে পড়বেই।

Advertisement

পাঠ্যক্রম পরিবর্তন বা পাঠ্যপুস্তক ছাপার কাজ কী ভাবে হয়?

বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, ২০১২ সালে পাঠ্যক্রমের আমূল পরির্বতন করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় ২৪ জনকে নিয়ে কমিটি গঠন হয়েছিল। এখন সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬০।

প্রথমে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকেরা খসড়া প্রস্তুত করেন। তার পর তা নিয়ে সেটা আলোচনা হয় কমিটিতে। কোনও বিষয় সংযোজন বা বিয়োজন হলে সংশোধন করার পরে তা চলে যায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, দফতর, শিশু সুরক্ষা কমিশন বা স্বাস্থ্য দফতরে। সেখানে থেকে ছাড়পত্র পেলে তা পাঠানো হয় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে। তাঁরাও একপ্রস্ত যাচাই করেন।

এর পরে সকলকে নিয়ে একটি ‘জয়েন্ট রিভিউ কমিটি’ বৈঠকে বসে। কোনও ভুল থাকলে সেটা সংশোধন করে পাঠানো হয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। তাঁর মন্তব্যের ভিত্তিতে ফের একবার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয় জয়েন্ট রিভিউ কমিটি-তে।

তার পর জনসাধারণের কাছে মতামত নেওয়ার জন্য পোর্টালে পাঠ্যক্রম পিডিএফ আকারে প্রকাশ করা হয়। জনসাধারণের কোনও মতামত থাকলে তা নিয়েও কমিটিতে আলোচনা হয়, মন্ত্রীর কাছেও তা জানানো হয়। একেবারে শেষ পর্যায়ে মন্ত্রিসভায় পাশ করলে প্রাথমিক ভাবে সিলেবাসের কাজ সম্পূর্ণ হয়। এর পর আসে ডিজিটাল প্রিন্ট। তা খতিয়ে দেখে সিলমোহর দেন কর্তৃপক্ষ।

বিকাশ ভবনের এক কর্তা বলেন, “ডিজিটাল প্রিন্ট নেওয়ার পরই সাপের ছবি দেখা গিয়েছিল একবার। এ ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকতে হয়। যেমন জাতীয় পতাকার রঙে সামান্য হেরফের হলেও বড় সমস্যা হতে পারে। তাই ভাল করে খুঁটিয়ে দেখা হয় সব দিক।” পাশাপাশি তিনি জানান পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন না করে যখন কোনও নির্দিষ্ট অংশের সংযোজন প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রেও সিলেবাস কমিটি, পর্ষদ বা সংসদ এবং স্কুল শিক্ষা দফতর একসঙ্গে সেই কাজ করে। ফলে বড় কোনও ভুল থাকার আশঙ্কা কম।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement