Bengali Short Story

অলীক ডাঙার খোঁজে

রোজ কিন্ডারগার্টেন স্কুলটার সামনে দিয়েই যাই। শিশুদের দেখি, আর মনে নানা রঙের বেলুন ওড়ে। শৈশবের স্মৃতি নাভিমূল থেকে উঠে সাঁতরে বেড়ায়। আহা! স্বপ্নের স্কুল! যদি পড়তে পারতাম! এখানে যেন শৈশবের জিয়নকাঠি লুকিয়ে আছে।

বীথি ব্রহ্ম

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০৬:৪২
Share:

ছবি: প্রসেনজিৎ নাথ।

ও আঙ্কেল... আঙ্কেল! শোনো! এই যে আমি...”

কচি কণ্ঠের ডাকে হাঁটা থমকে যায়। স্কুল ইউনিফর্ম পরা বাচ্চাটা আমার হাঁটুর কাছে। দু’হাত গুটিয়ে বুকের কাছে। ও একেই খুদে মানুষ, তায় বুকের মাঝে পুঁচকে কাঠবিড়ালী ছানা।

পুট পুট করে উচ্চারণ করল, “এটা পুকুরের পাড়ে পড়ে ভিজে কাঁপছিল। তুমি কি এটাকে ওর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেবে?”

শিশুটার মায়া-মাখা আবেদন বুকের ভিতরে থাকা মায়াগাছের কচিপাতাকে তিরতির করে নাড়িয়ে দিল। দু’হাত বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর মতো এগিয়ে দিয়ে গ্রহণ করি কচি ছানাকে।

শিশুটা হাঁপ ছেড়ে বল, “ক্লাস শুরু হয়ে যাবে! আমি যাই-ই...”

এক ছুট্টে দৃষ্টির আড়াল হল। কিন্তু মনের অনেকটা দখল করে নিল।

আমি তো অথৈ জলে! অফিস যাওয়ার পথে এ কী কাণ্ড!

রোজ কিন্ডারগার্টেন স্কুলটার সামনে দিয়েই যাই। শিশুদের দেখি, আর মনে নানা রঙের বেলুন ওড়ে। শৈশবের স্মৃতি নাভিমূল থেকে উঠে সাঁতরে বেড়ায়। আহা! স্বপ্নের স্কুল! যদি পড়তে পারতাম! এখানে যেন শৈশবের জিয়নকাঠি লুকিয়ে আছে।

ইস্কুলের সামনে মোরাম পাতা রাস্তা। দু’পাশে বকুল, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনাঝুরি। দূরে সামান্য ঘাসঝোপ। সেখানে জলাশয় নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে মুখ লুকোয়। উন্নয়নের ভয়ে। আম, পেয়ারাগাছগুলো জানে কাঠবিড়ালীরা আসবে, ছুটবে, চিড়িক চিড়িক শব্দ করবে। ছোট ছোট পাখির কিচিরমিচিরে সারা দিন গাছের মনে আনন্দের হাট বসবে। এ-সব আমাকে রবিঠাকুরের অমল বানিয়ে দেয়।

কাঠবিড়ালীর ছানাটা আমার কোল ও মন দখল করল। রুমাল জড়িয়ে কচি ছানার ভিজে শরীর থেকে জল মুছে নিলাম। কী নরম ধুকপুকে প্রাণ! গাছের নীচে এদিক-ওদিক তাকিয়ে ভাবছি, জলে পড়লে মানুষ হাবুডুবু খায়, এমনকি ডুবেও যায়, ছানাটার ভাগ্য ভাল।

ওই তো, গাছের উপরের ডালে ওর মা! চিড়িক চিড়িক শব্দ করে লেজ তুলে পুটুস পুটুস করে তাকাচ্ছে! ওর কাছে ছানাটাকে পৌঁছে দিলাম।

এই মুহূর্তে, এই পরিবেশে দুটো শব্দ পলকহীন চেয়ে রইল আমার দিকে— অদিতি আর শালুকপুকুর।

*****

“অ্যাই রাতু! ঘুম থেকে উঠেই শালুর ধারে ঘুরঘুর করা! তাড়াতাড়ি মুখ ধুয়ে চলে আয়, ইস্কুলের কত পড়া বাকি!”

মা ওরকমই হাঁকডাক করত। আমাদের ভাবসাব বন্ধুত্ব টান ভালবাসা ঝগড়া সব গচ্ছিত ছিল শালুক পুকুরের বুকে।

আমি আর অদিতি শালুক পুকুরের ধারে সিমেন্টের চেয়ারে বসে পা দোলাতে দোলাতে দিনমানের গল্পের থলে ঝেড়েঝুড়ে দিতাম।

সকালে উঠেই ব্রাশ-পেস্ট হাতে ছুট্টে যেতাম স্বপ্নের জলাশয়ের পাড়ে। অদিতির পরনে সাদার উপরে লাল-নীল-সবুজ ডাল ফোঁড়ের কাজ করা ফিনফিনে আদ্দির কাপড়ের জামা ও ইজের। তার শরীরে তখনও লজ্জার অভিসার হয়নি। আমার হাড্ডিসার শরীরে ফুটো জালি গেঞ্জি আর মেটে রঙের হাফপ্যান্ট।

“শালুক পুকুর, শালুক পুকুর! তুমি আমাদের গপ্পো শুনবে?”

শালুক পুকুর খুশিতে টলমল করত। নীরব হাতছানিতে পায়ে পায়ে ওর পাড়ে বসে সারা দিন গল্প-গল্প খেলা। খেলা-খেলা গল্প। গল্পের কেন্দ্রে ছিল, শালুর অতলে ঠিক কী ঘাপটি মেরে আছে! সকাল-বিকাল সারা দিন পরিধিতে চক্কর দু’জনের। সকালে মায়ের তাড়ায় গল্প কেটে যেত। ইস্কুল থেকে ফিরে নতুন করে সকালের গল্পের গায়ে ঝালনুন ছিটিয়ে বিকেলের ঠোঙায় পরিবেশন করত অদিতি। বেশ পারদর্শী ছিল ও এই কাজে।

গরমের শুনশান দুপুর! টাপুরটুপুর বর্ষা ও কাশফুলের দোলা-দেওয়া দুপুরেও অদিতির হাতের মুঠোর মধ্যে থাকত তেঁতুলের আচার। জিভ-তালুর সঙ্গতে যে শব্দ ছিটকে বেরোত, তা শুনতে শুনতে আমি অদিতিকে প্রজারপাইন ভাবতাম, সেরাস-এর কন্যা। সেই যে রোমান রূপকথার মেয়েটি! ওর নিত্যনতুন গল্পে আমি হারিয়ে ফেলতাম নিজেকে। এক দিন ঘোষণা করল, “জানিস, ইতিহাসের রাতুলস্যর বলেন, পৃথিবীর সব সভ্যতাই জলের ধারে হত। মানুষকে চাষের জল, খাওয়ার জল দিত সেই নদী। আবার জল এক-একটা সভ্যতাকে ভাসিয়ে ধ্বংসও করে।”

আমি ইতিহাসের স্যরের কথা ভাবতাম। কিন্তু উত্তর দিতাম না।

এর পরেই ও আমার গা ঘেঁষে এসে বসে গলা নামিয়ে গোপন কথা বলার ভঙ্গিতে বলেছিল, “জানিস, আমারও মনে হয় শালুক পুকুরের মধ্যিখানে একটা অনেক পুরনো সভ্যতা ছিল। শালু ওর বুকের মাঝে লুকিয়ে রেখেছে।”

বুঝতাম, অদিতি মূল ঘটনার সঙ্গে অনেক কিছু যোগ-বিয়োগ করতে শিখে গেছে। তবু ও প্রজারপাইন।

“জানিস, আমার মা সেদিন সাঁতার কেটে শালুর মাঝে গিয়েছিল!” আমি বলি।

অদিতির জিভের তেঁতুল আটকে থাকে। চোখ বড় বড় করে বলত, “ও মা! তাই? কী গভীর কালো কুচকুচে জল! কী দেখল কাকিমা?”

“মা তো বলল, মাঝশালুতে একটা ইটের স্তম্ভ আছে। ওখানে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম করে ফিরে এসেছিল।”

অদিতি উত্তেজিত, “হ্যাঁ রে! ওটাই পুরনো কোনও সভ্যতার অংশ হবে। কাকিমা বুঝতে পারেনি। স্যর তা হলে ঠিকই বলেছিলেন।”

ওই কথার পক্ষে বা বিপক্ষে কিছু না বলে উঠে পড়ি, “এখন যাই, মা ডাকছে। পড়তে বসতে হবে।”

আমায় ফিরে আসতে দেখে অদিতি বলেছিল, “তোর তো বিশ্বাস হল না, দেখবি রাতু, এক দিনএর পেট থেকে বিখ্যাত কিছুএকটা বেরোবেই।”

কী হবে না হবে, অনেক কিছু আগে থেকেই বুঝতে পারত অদিতি! আমি ভাবতাম, অদিতিটা দিন-দিন কেমন যেন হচ্ছে। খালি উদ্ভট সব গল্প! মনে হয় তেঁতুল বেশি খাওয়ার ফল। ঠাকুমা বলেন, “বেশি তেঁতুল খেলে রক্ত জল হয়ে যায় ধীরে ধীরে।” ওর কি মাথার ভিতরেও জল জমেছে!

*****

ছুটির দিনগুলোয় খুব আনন্দ হত। আমার মা, অদিতির মা এক সঙ্গে শালুর ধারে আসত। সাবান-টাবান হাতে-মুখে দিয়ে, আঁচল কোমরে গুঁজে ঝাঁপিয়ে পড়ত। সাঁতার দেখে মনে হত দুই মৎস্যকন্যা। ওরা ঝাঁপালে আমরা উচ্ছ্বাসে হাততালি দিয়ে উঠতাম। কী আনন্দ হত ওরা মাঝশালুকে পৌঁছলে! আমরা ভাল সাঁতার জানতাম না।

আমার ঠাকুমা তখন পিতলের ঘটি, মাটি দিয়ে মেজে এক ঘটি জল নিয়ে ঘরে ফিরতে ফিরতে গজগজ করতেন, “অজাত-কুজাতের বৌ-ঝিগো লগে গায়ে গা লাগাইয়া স্নান করার কী আছে!”

পরে মা ঘরে ফিরে কাপড় নিংড়ে জল বার করে শোধ নিত, “আপনি কুজাতের স্নান করা জলে ঠাকুরের ঘটি ধুয়ে জল আনলেন যে! ঠাকুর রাগ করল না!”

বাবা, পিসিমণি ঠাকুমাকে বোঝাত, কেউ এখন জল-অচল নয়! ঠাকুমার মন থেকে শেষ দিন অবধি সে-ধারণা উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি।

তবে কার পরিহাস বুঝিনি, এক দিন ঠাকুমা পা পিছলে তুলসীতলায় পড়ে যান। চোট পান বড়সড়। সেই ওঁর শেষ শোওয়া। বিছানা টেনে রেখেছিল। অন্তিম সময়ে মা বুকের উপরে গীতা রেখে তড়িঘড়ি আমাদের বলেছিল, ওঁর মুখে গঙ্গাজল দিতে। দিয়েছিলাম। মুখের কষ গড়িয়ে পড়ে গেছিল। অদিতিও দিয়েছিল, পেট অবধি গেছিল কিনা আমরা বুঝিনি। মা শুধু এক বার অদিতির দিকে চেয়ে ‘হরিবোল’ বলে ওঁর চোখের পাতা দুটো বুজিয়ে দিয়েছিলেন।

প্রজারপাইন অদিতি আপনমনে বলেছিল, “মানুষ মরলে কোন অতলে যায় যেন!”

*****

আকাশের কোলে চোখ মেলে দেখি অনেক চিলের ডানা। প্রকাণ্ড সব উড়ান। মাথা ঘোরে কারও উড়ান দেখে। যেমন আমার মা এখন ঠাকুমার খর জিভের ভূমিকা পালন করছে। দুঃখের তাপে দগ্ধ। বাবার চাকরি গেছে। কারখানা বন্ধ। ভাইয়ের অ্যাক্সিডেন্টে পা ভেঙেছে। চাকরিতে হতাশা। অশান্তির দমবন্ধ করা হাওয়ায় বুকে অক্সিজেন ঢোকেই না। অদৃশ্য কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে। অদিতি গানের টিউশন করে হাল ধরেছিল ওর বাড়ির নৌকার। আমাদের বাড়ির হালও আলগা করে ধরতেই মা পুরোপরি ঠাকুমা বনে গেল ।

মাঝেমধ্যেই আমাকে বলত, “অ্যাই রাতু, অদিতিকে ডাক তো। ওকে পাঁচটা ডিম নিয়ে আসতে বল ওদের পোলট্রি থেকে। আজ ঘরে সবই বাড়ন্ত।”

হালকা-পলকা অদিতি যেন তুলোর মতো ভাসতে ভাসতে ডিম নিয়ে এসে ডাকত, “কাকিমা, এই নাও! সঙ্গে একটু আদা, পেঁয়াজ, রসুনও এনেছি। আজকের মতো চালাও, কাল বেশি করে এনে দেব।”

“চুপ কর তো পোড়ারমুখী! কাঙালকে শাকের খেত দেখাচ্ছে! আর কিচ্ছু আনবি না আমাদের জন্য।” মায়ের ঝাঁঝালো গলা।

আচমকা কথা-বলা পুতুল, প্রজারপাইন অদিতি মিনমিন করে বলত, “কাকিমা, রাতু তো ফোনে বলল তুমিই আনতে বলেছ।”

“মা আমার শাঁখের করাত! আনতে বললেই আনতে হবে। যা! আর কোনও দিন আনবি না।... আর রাতু, তোকেও বলি! আমি বলেছি বলেই বাধ্য ছেলের মতো আনতে বলবি? অদিতি, রাতুকে দাদা বলবি। তোর চেয়ে বড়। সোজা বাড়ি যা। না... না... রাতুর ঘরের দিকে যাবি না!”

বেচারি অদিতি! সিঁদ-কাটা চোরের মতো মাথা নিচু করে বুনো বিষাক্ত কাঁটাঝোপ ছুটে পার হয়েছিল।

আমার চাকরি হতেই মায়ের অসন্তোষ-অশান্তির আগাছাগুলো লজ্জায় মুখ লুকোল। ফর্মালিটি রপ্ত করে ফেলল। কোথায় কী ভাবে চলতে হবে, দাদু-দিদাকে কী গিফ্ট দিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে হবে, বাবাকে মাথায় হাত বুলিয়ে চাকরির প্রথম দিনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে হবে।

আর অদিতি আনকোরা নতুন যেন! স্বভাবে, হাবভাবে, শিক্ষা-দীক্ষায়! প্রথম দিন জয়েন করে ফিরছি, ও বলল, “কোন শার্টটা পরেছিলে রাতুলদা? কোন কলমে সাইন করলে? ইয়ে... মানে কাকিমা কী টিফিন দিয়েছিলেন? যাওয়ার সময় ওঁকে প্রণাম করেছিলে?”

ও সব জানে,আমি স্থির চোখে তাকিয়ে রইলাম আমার প্রজারপাইনের দিকে। ও বলেছিল, “আর যা-ই করো, রোজ কাকিমাকে প্রণাম কোরো...” বলেই নিজের বাড়িতে ঢুকে গেল।

শালুক পুকুরের কাছে গচ্ছিত রাখা আমাদের দু’জনের ‘গোপন ফিসফিসে’ অনুভূতিকে আমার মা, মা কালীর কাছে বলি দিতে বদ্ধপরিকর হল। ঠিক ঠাকুমার মতো খর শব্দে সুচালো বাক্যে দিব্যি দিয়ে বলেছিল, “যদি অদিতির ঘাটে ডুবে যাস, আমিও কিন্তু শালুক পুকুরে…” জানতাম, মা সাঁতার জানে, ওটা সম্ভব নয়— তবুও আমার দুর্বল পৃথিবীতে থরথর কাঁপন উঠেছিল। তার মানে আর কখনও অদিতির সঙ্গে...

পড়ন্ত বেলায় কনে-দেখা আলোয় অদিতিকে দেখেছিলাম। শেষ বার। ওর ইতিহাসের স্বপ্ন-মাখা চোখ, কথকঠাকুরানির ঠোঁট, নতুন কোনও আবিষ্কারের গন্ধ পাওয়া বাঁশির মতো নাক, এক পশলা জল আটকে থাকার খাতযুক্ত থুতনি, শরতের শালুক-ফোটা গায়ের রং। নতুন সভ্যতার তলদেশ থেকে টেনে তোলা হয়েছিল আমার প্রজারপাইনের নিষ্প্রাণ শরীর।

আচ্ছা, ও কি নিজে ডুবেছিল? না কি ওকে আমার মা ওখানে যেতে ঠেলেছিল? কে জানে! ডুবতে চাওয়াই বোধহয় দোষের, ডুবেমরা ভাগ্যদোষ।

*****

আজ আমি আর জল দেখি না। সেখানে কালো কুটিল চোখ দেখি। স্থলে জনারণ্যে ডুবে আছি। হাঁপিয়ে উঠছি আমার অপ্সরাকে নিয়ে। সে আমায় সব দিক থেকে ডোবাচ্ছে। এক কোমর-জলে হাবুডুবু খাচ্ছি। অপ্সরার সঙ্গে কথায় কথায় শালুক পুকুর উঠে আসে নতুন সংসার ও দাম্পত্যের বধ্যভূমিতে।

শুনতে হয়, “দূর! সব কথায় শালুক পুকুর! ওটা ছাড়া কী জীবন মরুভূমি! জলের তো অভাব নেই।”

বলেছিলাম, “শালুক পুকুর আমার আবাল্য প্রেম, টলটলে প্রেম। বর্ষায় ওতে সাদা গোলাপি শালুক ফুল ফুটে থাকে। আর পাতার উপরে পা টিপে টিপে ডাহুক পাখির চলন নড়ে চড়ে বুকের পুকুরে।”

বিহ্বল অপ্সরাকে মজা করে বলি, “ওটা তোমার সতিন।”

ঠাট্টার মাঝে সতিনের নাগাল পায়নি। কিন্তু কয়েক বছর বাদে অদিতির কথা জানতে পেরে আমায় যেন জ্যান্ত ডুবিয়ে মারতে চায় অপ্সরা। খর জিভ মরে না, তার মুখ বদল হয় শুধু।

বিশাল অপরাধের বোঝা নিয়ে অর্ধডুবন্ত অবস্থায় চলছি ফিরছি। আমার ঘর-বাড়ি-সন্তান সবই যেন গলা জলে। আর একটু জল বাড়লেই সব ডুবে যাবে।

বকের মতো পাখা থেকে জল ঝেড়ে ফেলতে চেষ্টা করি অবিরাম। তবু যেন জল যেতে চায় না!

হালকা নরম রোদে কচি কাঠবিড়ালী ছানাটার ভিজে ভাব শুকিয়েছে। উপরের ডালে পিড়িং পিড়িং করছে ওর মা। আমি দু’হাত উঁচু করে ওটাকে মায়ের কাছাকাছি তুলে দিই। দেখি ওটা মায়ের বুকের ওম নিচ্ছে।

লম্বা পা ফেলে এগোই অফিসের দিকে। এটুকু বুঝেছি, জলেই যাদের ঘরবসত, তাদের ডাঙার চিন্তা একেবারেই অলীক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন