দার্জিলিং গভর্নমেন্ট কলেজ। নিজস্ব চিত্র।
মাতৃভাষার সঙ্গে বিদেশি কিংবা আঞ্চলিক ভাষায় দক্ষতা থাকলে চাকরির পথ প্রশস্ত হয়। এ ক্ষেত্রে জাপানি, ইটালিয়, জাপানিজ়, ফার্সি, রাশিয়ান, আরবি, চিনা ভাষার সঙ্গে তিব্বতিও শেখার চাহিদা রয়েছে। পৃথিবীর প্রায় ৬৮ লক্ষ মানুষ তিব্বতি ভাষায় কথা বলতে পারেন। চিন, ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের মানুষ ওই ভাষায় কথা বলেন। তাই সরকারি থেকে বেসরকারি সংস্থায় সংশ্লিষ্ট ভাষা বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে যথেষ্ট। এই ভাষাই শেখার সুযোগ দিচ্ছে রাজ্যের সরকারি কলেজ।
‘কেরিয়ার ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম’-এর অধীনে দার্জিলিং গভর্নমেন্ট কলেজ এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর হিমালয়ান স্টাডিজ়-এর যৌথ উদ্যোগে তিব্বতি ভাষা শেখানো হবে। পড়ুয়ারা মোট এক বছরের প্রশিক্ষণ পাবেন। কলেজের টিবেটান বিভাগের শিক্ষক লুংডুপ সোমো ভুটিয়া জানিয়েছেন, তিব্বতি ভাষার বিলুপ্তপ্রায় লিপি ব্যবহারের কৌশল শেখানো হবে। এ ছাড়াও তাঁদের দার্জিলিং এবং কালিম্পঙের বিস্তীর্ণ এলাকায় বসবাসকারী তিব্বতি জনজাতির ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য ফিল্ড ট্যুরও করাবেন বিশেষজ্ঞেরা।
কলেজের তরফে জানানো হয়েছে, ভাষা শিক্ষার প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে নিয়মিত অভ্যাসের সুযোগ দেওয়া হবে। তা ছাড়াও কর্মশালার মাধ্যমে তিব্বতি সংস্কৃতির চর্চা চলবে। কী ভাবে এই জনজাতি সুস্থতা এবং মননশীলতার চর্চা করে থাকেন, তা-ও শেখাবেন বিশেষজ্ঞেরা। ক্লাস শুরু হবে ২ এপ্রিল থেকে।
দ্বাদশ উত্তীর্ণ হয়েছেন, এমন ব্যক্তিরা এই প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। এ ছাড়াও যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজে পাঠরত পড়ুয়ারা এবং স্বীকৃত সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিরা আবেদনের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়াও এই কোর্সটি করার সুযোগ পাবেন। মোট ৫০টি আসনে আগ্রহীদের ভর্তি নেওয়া হবে। ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরাসরি কলেজে গিয়ে প্রার্থীদের আবেদন জানাতে হবে। কলেজের ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশিকা মোতাবেক আবেদনপত্র তৈরি করতে হবে। আবেদনের শেষ দিন ২৭ মার্চ।