ছবি: সংগৃহীত।
গুহা মানুষের বসতি বা সভ্যতার গোড়াপত্তন— নগরপরিকল্পনায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন এসেছে। খ্রিস্ট পূর্ব ২৫০০ শতকের সিন্ধু সভ্যতা, মেসোপটেমিয়া বা মিশরীয় সভ্যতা ছিল নকশাভিত্তিক। টেকসই সড়ক, সুপরিকল্পিত নিকাশী ব্যবস্থা-র মাধ্যমে নগর সভ্যতা গড়ে তুলেছিল মানুষ। যারা এ কাজ করেছিল, তারা পরিকল্পনাবিদ ছিলেন।
মধ্যযুগীয় সভ্যতায় নান্দনিকতার অভাব ছিল না। একই সঙ্গে ছিল নিশ্ছিদ্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। শিল্প বিপ্লবের পর এই চিত্রই আমূল বদলে যায়। শহরাঞ্চলে ব্যাপক ভাবে বাড়তে থাকে জনসংখ্যা। পরিস্থিতি সামাল দিতে উনিশ ও বিশ শতক থেকে পেশাদার পরিকল্পনাবিদদের চাহিদা বাড়তে থাকে। পরিকল্পনাবিদ্যা ক্ষেত্রটি হয়ে ওঠে বিজ্ঞানের একটি শাখা।
পরিকল্পনাবিদ্যার গুরুত্ব
আধুনিক জনজীবন, বিপুল জনঘনত্বের চাপ সামাল দেওয়ার সঙ্গে মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। একই সঙ্গে প্রয়োজন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। নাগরিক জীবনের মানোন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘স্মার্ট সিটি’। জোর দেওয়া হচ্ছে সুস্থায়ী উন্নয়নের উপর। নীতি আয়োগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতেও ক্রমশ বাড়ছে পরিকল্পনাবিদদের চাহিদা।
পরিকল্পনাবিদের কাজ
এক কথায় বলতে গেলে পরিকল্পনাবিদেরা জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সুষ্ঠু ভাবে বসবাসের জন্য নকশা তৈরির রূপকার। শহরাঞ্চল থেকে বিভিন্ন জেলা উন্নয়ন পরিকল্পনার ভার তাঁদের। সুস্থায়ী পরিবেশ থেকে সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও তাঁদের। এমনকি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তথ্য বিশ্লেষণ করে সরকারি নীতি নির্ধারণেও তাঁদের যোগ দিতে হয়। সাহায্য নিতে হয় জিআইএস, ডেটা অ্যানালিসিস, ভিস্যুয়ালাইজ়েশন টুলকে কাজে লাগানোর।
কোন যোগ্যতা থাকলে পড়া যায় পরিকল্পনাবিদ্যা
দ্বাদশের যে কোনও বিভাগের পড়ুয়াদের পাঠ্যবিষয়ের মধ্যে শুধু গণিত থাকলেও এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করা যায়। তবে প্রয়োজন দ্বাদশের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০-৬০ শতাংশ নম্বরও।
স্নাতকে ভর্তির প্রবেশিকা
বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে বিপ্ল্যান কোর্সে ভর্তির জন্য প্রয়োজন জয়েন্ট এন্ট্রান্স মেন (জেইই মেন)-এর দ্বিতীয় পত্র অর্থাৎ পেপার বি-র মাধ্যমে মেধা যাচাই করা হয় আগ্রহীদের। কিছু ক্ষেত্রে কুয়েট ইউজি-তে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেও কিছু প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কোর্সে ভর্তি নেয়।
স্নাতকোত্তর
বিটেক-এ উত্তীর্ণেরা উচ্চশিক্ষার জন্য পড়তে পারেন এমপ্ল্যান বা মাস্টার অফ প্ল্যানিং কোর্স। বিই, বিটেক, বিআর্ক, বিপ্ল্যান ডিগ্রি ছাড়াও ভূগোল, অর্থনীতি, পরিবেশ বিজ্ঞান বা সমাজবিদ্যা স্নাতক হলেও স্নাতকোত্তরে ভর্তির আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের আরও এক বার প্রবেশিকা দিতে হয়। উত্তীর্ণ হতে হয় গেট, কুয়েট পিজি অথবা কোনও প্রতিষ্ঠান আয়োজিত প্রবেশিকায়।
বিশেষ পত্র
স্নাতকোত্তরে পড়ুয়ারা শহরাঞ্চলের পরিকল্পনা, পরিবেশ পরিকল্পনা, পরিবহণ ব্যবস্থার পরিকল্পনা, বাসস্থান এবং পরিকাঠামো পরিকল্পনার মতো নানা বিষয়কে বিশেষ পত্র হিসাবে বেছে নিতে পারেন। যার ভিত্তিতে পরবর্তী কালে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ এবং পেশাদার হয়ে ওঠার সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
কোথায় পড়ানো হয়
কোন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ
সরকারি বিভিন্ন দফতর বা সংস্থায় নানা পদে কাজের সুযোগ পেতে পারেন পরিকল্পনাবিদেরা। এমনকি বেসরকারি সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাতেও নানা পদে কাজের সুযোগ পান তাঁরা।