Upper Primary Teacher

সুপরিশপত্র পেয়েও কাজে যোগ দেননি কারা, জানতে চায় এসএসসি! প্রার্থীরা কি উচ্চ প্রাথমিকের আগ্রহ হারাচ্ছেন?

সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে এসএসসি জানতে চেয়েছে, উচ্চ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক পদে সুপারিশপত্র পেয়েছেন অথচ চাকরিতে যোগ দেননি (নন-জয়েনিং ভ্যাকেন্সি) এমন শূন্যপদের সংখ্যা কত। স্কুল পরিদর্শকদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫৬
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

চাকরি পেয়েও কাজে যোগ দিচ্ছেন না উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক পদপ্রার্থীরা। তবে কি সরকারি স্কুলে শিক্ষকতায় আগ্রহ হারাচ্ছেন তাঁরা?

Advertisement

সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে এসএসসি জানতে চেয়েছে, উচ্চ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক পদে সুপারিশপত্র পেয়েছেন অথচ চাকরিতে যোগ দেননি (নন-জয়েনিং ভ্যাকেন্সি) এমন শূন্যপদের সংখ্যা কত। স্কুল পরিদর্শকদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কারণ এখনও ১২৪১ জনের নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়নি।

হিসাব বলছে, ২০১৫ সালে টেট পাশ করে ২০১৬ সালের নিয়োগ পদ্ধতিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রার্থীরা। নানা জটিলতায় ২০১৬ সালের নিয়োগের প্যানেলে কাউন্সেলিং শুরুই হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে। আদালতের নির্দেশে ২০২৪ থেকে ২০২৫ অগস্ট পর্যন্ত ৮ দফা কাউন্সেলিং হয়। তার পর নিয়োগ হয়। কিন্তু সব শূন্যপদে এখনও নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানান পশ্চিমবঙ্গ আপার প্রাইমারি চাকরি প্রার্থী মঞ্চের সভাপতি সুশান্ত ঘোষ। বাকি রয়ে গিয়েছে ১২৪১ জনের নিয়োগ।

Advertisement

কিন্তু অনেক প্রার্থীই সুপরিশপত্র পেয়েও কাজে যোগ দেননি। সেই শূন্যপদগুলির কথাই জানতে চেয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন।

এ খবর জানাজানি হতেই শোরগোল পড়েছে। তবে কি সরকারি চাকরিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন প্রার্থীরা?

Advertisement

শিক্ষামহলের একাংশের দাবি, ইতিমধ্যেই বেসরকারি কোনও স্কুলে বা অন্যত্র চাকরি পেয়েছেন এমন প্রার্থীরা আর নতুন করে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তাই নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া থেকেই নিজেদের দূরে রেখেছেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘‘দুর্নীতির দায়ে যে ভাবে ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হয়েছিল, তার ফলে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ার জড়াতেই ভয় তৈরি হয়েছে।’’

২০১৬ প্যানেল বাতিল হওয়ায় এমন অনেক শিক্ষককে চাকরি হারাতে হয়েছে, যাঁরা যোগ্য ছিলেন। সামাজিক ভাবেও তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি। তাই তাঁদের অবস্থা দেখে পুরনো চাকরি ছেড়ে অনেকেই আর নতুন কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘স্কুল শিক্ষকের মতো সম্মানজনক চাকরিতে যোগ দিতেই কেউ ভয় পাচ্ছেন এটাই দুর্ভাগ্যের। যাঁরা ইতিমধ্যে কোথাও চাকরি করছেন অনেকেই আর স্কুল শিক্ষকের চাকরিতে আসতে চাইছে না।’’

পাশাপাশি, অন্য একটি কারণ নিয়েও চলছে আলোচনা। উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ নিয়ে গত প্রায় ১০ বছর ধরে টালবাহানা চলছে। অনেকে বিরক্ত হয়েই ওই চাকরিতে আর যোগ দিতে চাইছেন না, দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গ আপার প্রাইমারি চাকরি প্রার্থী মঞ্চের সভাপতি সুশান্ত ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় যাঁরা নতুন চাকরির আবেদন করেছিলেন তাঁরা সকলেই স্কুলে শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু যাঁরা অন্যত্র কোনও চাকরি করছেন তাঁরা এই এত বছর ধরে টালবাহানা চলার জন্যে পুরনো চাকরি ছেড়ে আর আসতে চাননি।’’

যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের তরফে ধীতীশ মণ্ডল বলেন, ‘‘সমাজের মেরুদণ্ড হলেন শিক্ষকেরা। বর্তমান পরিস্থিতে সেই শিক্ষকের চাকরির প্রতি অনেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। অনেকে কম বেতনে থেকেও শিক্ষকের চাকরিতে যোগ দিতে ভয় পাচ্ছেন শুধু নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান হওয়ার কারণে।’’

পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি প্রীতমকুমার হালদারও বলেন, ‘‘একটা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গিয়েছে। সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু বর্তমানে আদালতের নজরদারিতে সব কিছু হচ্ছে। তাই এখানে কোনও অনিশ্চয়তার সম্ভাবনা নেই। আগামী দিনেও কোনও অসুবিধা হবে বলে আমার হয় না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement