প্রতীকী চিত্র।
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) সংক্রান্ত কাজ করা যাবে এ বার অনলাইনেই। স্কুলশিক্ষা দফতর আনছে বড় বদল।
শিক্ষক শিক্ষিকাদের জিপিএফ চালু হয়েছে ১৯৮৫ সাল থেকে। এত দিন প্রভিডেন্ট ফান্ড বদলি নিয়ে বিস্তর সমস্যায় পড়তে হত তাঁদের। মাত্র ছ’মাসের সুদে পেতেন তাঁরা। কোনও শিক্ষক এক স্কুল থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র গেলে বা কোনও শিক্ষাকর্মীর বিভাগ পরিবর্তন হলে পিএফ-এর সুদ পেতে সমস্যা হত। এই সমস্যার সূত্রপাত ১৯৯৫ সালের পর থেকে সরকারি একটি নির্দেশকে ঘিরে। ২৬.৯.১৯৯৫ সালে শিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। জিপিএফ এর প্রদত্ত টাকার উপর ৬ মাসের সুদ দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষকরা এ বিষয়ে সরব হয়েছেন। অবশেষে সেই সমস্যার সমাধান করল সরকার। ১৯৯৫ সালের সেই নিয়মে পরিবর্তন আনল শিক্ষা দফতর।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “শিক্ষক শিক্ষাকর্মীদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ট্রান্সফার ও সুদ দেওয়া নিয়ে জটিলতা চলছিল সেই ১৯৯৬ সাল থেকে। আমরা বার বার শিক্ষাদফতর ও অর্থ দফতরে দরবার করেছিলাম এই জটিলতা কাটানোর জন্য। অবশেষে বহু পুরোনো সমস্যার সমাধান হলো। এতে বহু শিক্ষক শিক্ষাকর্মী উপকৃত হবেন।”
সরকারের এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে হেতু পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যে অনলাইন, তাই জিপিএফ ট্রান্সফার করতে হবে কোনও কর্মীর বদলির সঙ্গে সঙ্গে। তা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। যে মাসে কোনও শিক্ষিক বদলি হচ্ছেন, তার অব্যবহিত আগের মাসের সম্পূর্ণ টাকা ও সুদ-সহ ট্রান্সফারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে।
তবে শিক্ষকদের একাংশ দাবি করেছেন, সরকারি নিয়মে খামতি থাকায় ইতিমধ্যেই যারা সুদ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের ব্যাপারটা ও একটু ভাবা দরকার সরকারের।
এ ছাড়া এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কী ভাবে অনলাইনে ঋণের আবেদন করতে পারবেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। দ্বিতীয়ত, অবসরের আগে জমা অর্থ কী ভাবে তাঁরা এই নয়া পদ্ধতিতে তুলতে পারবেন বা অবসরের পরে জিপিএফ-এর টাকা কী ভাবে পাওয়া যাবে।