Mobile App Developer Jobs 2026

কারা তৈরি করেন মুঠোফোনের ‘অ্যাপ’? উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পরে সুযোগ, কোথায়, কী ভাবে শিখবেন?

মুঠোফোনের দুনিয়ায় মানুষের ঘুম থেকে ওঠা এবং ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত প্রতি পদে নানা ‘অ্যাপ’ দরকার। এই ব্যবস্থায় মুখে কথা বলে বা না বলেও তথ্য পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় দায়িত্ব সামলানো যায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৪
Share:

ছবি: এআই।

মুঠোফোনে অ্যালার্ম দেওয়া থেকে শুরু করে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য রোজ রকমারি ‘অ্যাপ’ ব্যবহারের চল রয়েছে। ওই ‘অ্যাপ’-এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের নানারকমের পরিষেবা ঘরে বসেই পাওয়া সম্ভব। দূরের জিনিসকে হাতের মুঠোয় এনে দেওয়ার এই বিশেষ ব্যবস্থা যাঁরা করেন, তাঁদের অ্যাপ ডেভেলপার বলা হয়ে থাকে। এমন কাজ শেখার জন্য থাকা চাই বেশ কিছু বিষয়ে দক্ষতা।

Advertisement

‘মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপিং’ কী?

  • মুঠোফোনের ‘অ্যাপ’ তৈরির কাজকে সাধারণত ‘মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপিং’ বলা হয়। এই কাজটি করার জন্য জানতে হয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, কোডিং। ‘সি’, ‘সি++’, ‘জাভা’, ‘সুইফ্‌ট’, ‘কোটলিন’ হল সর্বাধিক ব্যবহৃত যান্ত্রিক ভাষা। এই ভাষাগুলিকে কোডিং-এর কাজে ব্যবহার করে ‘অ্যাপ’ তৈরি করেন ডেভেলপাররা। এ ছাড়াও বর্তমানে কৃত্রিম মেধার সংযোজনের কারণে ‘চ্যাটবট’ তৈরি করার কাজটিও করতে হয় তাঁদের।
Advertisement
  • মূলত ‘অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম’-এর জন্য বেশি ‘অ্যাপ’ তৈরি বা ডেভেলপ করা হয়ে থাকে। যদিও অ্যাপেল সংস্থার তরফে ‘আইফোন অপারেটিং সিস্টেম’-এর (আইওএস) চাহিদা বাড়তে থাকায়, বেশ কিছু ‘অ্যাপ’ আইওএসের সাহায্যেও যাতে মানুষ সহজেই ব্যবহার করতে পারে, তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
  • এ ছাড়াও বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা, সংবাদমাধ্যম, সরকারি বিভাগের তরফে জনসাধারণকে পরিষেবা দেওয়ার কাজেও ‘অ্যাপ’ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই এই বিভাগে বিশেষজ্ঞদের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে হয়?

এ দেশে সরাসরি ‘মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপিং’ বিষয়টি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে, যাঁরা পড়তে চান, তাঁদের উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা সমতুল স্তর থেকেই বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের অঙ্ক, রসায়ন, পদার্থবিদ্যায় বিশেষ দক্ষতা থাকতে হবে।

এর পরে স্নাতক স্তরে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটঅয়্যার ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও দ্বাদশের পরে সফটঅয়্যার ডেভেলপমেন্ট বিষয়টিতে ডিপ্লোমাও করতে পারেন। স্নাতকোত্তর স্তরে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপিং, মোবাইল অ্যাপ ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিস্তারিত পড়ার সুযোগ পাবেন পড়ুয়ারা।

দরকার অনুমোদপত্রও:

যে কোনও বিশেষ অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু করার জন্য শুধুমাত্র ডিগ্রি থাকলেই চলবে না। পড়ুয়াদের সরকারি অনুমোদনও সংগ্রহ করতে হবে। এর জন্য তাঁদের পড়াশোনার পাশাপাশি, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট-এর কাজ হাতেকলমে শিখে শংসাপত্র অর্জন করতে হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন আইটি সংস্থার তরফে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট-এর প্রফেশনাল কোর্স করানো হয়। এই কোর্স সম্পূর্ণ করার পরে যে শংসাপত্র মেলে— তা চুক্তিভিত্তিক কাজ কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়।

কী কী বিষয়ে দক্ষতা থাকা দরকার?

পড়ুয়াদের প্রযুক্তিগত বিষয়ে যে ধরনের পরিবর্তন নিয়মিত হয়ে চলেছে, সেই সমস্ত বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। পাশাপাশি, নতুন কিছু তৈরি করার ভাবনাকে বাস্তবের রূপ দেওয়ার কাজও করতে হবে পড়ুয়াদের। এই কাজে সৃজনশীল মানসিকতা থাকলেই উন্নতির সুযোগ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে মোবাইলের চলতি ‘অ্যাপ’গুলি কী ভাবে কাজ করছে, কী কী বিষয়ে পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে— সেই সমস্ত কিছু নখদর্পণে থাকা প্রয়োজন।

কাজের সুযোগ:

মুঠোফোন দিয়ে ঘেরা ইন্টারনেটের দুনিয়ায় অ্যাপ ডেভেলপারদের নিয়মিত ভাবে বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহাবস্থানে ওই পেশা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এ দেশে এবং আন্তর্জাতিক স্তরের মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে সরকারি কাজের জন্য এমন পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হয়। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষানবিশ থেকে শুরু সরাসরি চাকরির সুযোগ দেওয়া হয় সকলকে। সে ক্ষেত্রে সঠিক যোগ্যতা এবং কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে পেশায় প্রবেশের সুবিধা রয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement