Teachers Movement

পর্ষদ ও সংসদের নির্দেশিকা উপেক্ষা করেই ধর্মঘটে শিক্ষকদের একাংশ, শিক্ষা ভবনে উপস্থিতির হার স্বাভাবিক, দাবি আধিকারিকদের

ধর্মঘটের প্রভাব সর্বত্র পড়েছে বলেই জানান আন্দোলনরত শিক্ষকেরা। তবে কিছু স্কুলে শিক্ষকের উপস্থিতির হার স্বাভাবিক ছিল বলেই দাবি প্রধান শিক্ষকদের ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৮:০৫
Share:

নিজস্ব চিত্র।

মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নির্দেশিকা কার্যত উপেক্ষা করেই শুক্রবার ধর্মঘটে শামিল হলেন শিক্ষকদের একাংশ। কলকাতায় শিক্ষা ভবনের সামনে এ দিন সকাল থেকেই পিকেটিং শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষকেরা। দুপুরের পর তাঁরা পিকেটিং তুলে নেন। তাঁদের দাবি, এই দিনের ধর্মঘটে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গিয়েছে।

Advertisement

বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবি তো ছিলই, পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) রায়ের ‘মডিফিকেশন পিটিশন’ দাখিল করেছে রাজ্য সরকার। সেখানে বকেয়া ডিএ-র নথি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। তাঁদের অভিযোগ ছিল বকেয়া ডিএ-র হিসাব সংক্রান্ত যে নথি তাঁদের কাছে পৌঁছেছে সেখানে দেখানো হয়েছে, গ্রুপ এ, বি, সি এবং ডি পর্যায়ের কত জন কর্মচারী এখন কর্মরত এবং কত জন পেনশনভোগী রয়েছেন। সেখানে পৃথক ভাবে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের দেখানো হয়নি। এখানেই 'ষড়যন্ত্রে'র অভিযোগ তুলেছে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠন। যে কারণে এ দিনের ধর্মঘটে শামিল হয়েছিলেন স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা।

কলকাতার শিক্ষা ভবনের সামনে বিক্ষোভে শিক্ষকরা

কিন্তু তার মধ্যেই পর্ষদ ও সংসদের তরফ থেকে এক নির্দেশিকা দেওয়া হয়। কী ছিল সেই নির্দেশিকায় ?গত বুধবার পর্যদ জানিয়ে দেয় যে, মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকেরা কোনও ভাবেই ১৩ মার্চ 'লিভ অফ অ্যাবসেন্স অন ডিউটি' নিতে পারবেন না। অর্থাৎ পরোক্ষে পরীক্ষার খাতা দেখার অজুহাতে কোনও শিক্ষক যেন ধর্মঘটে শামিল হতে না পারেন সেই কারণেই এই বিজ্ঞপ্তি বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষকদের একাংশ। পরের দিন বৃহস্পতিবার একই ভাবে সংসদ জানিয়ে দেয়, যে সব শিক্ষকেরা উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা কোনও ভাবেই শুক্রবার ‘অন ডিউটি’ ছুটি নিতে পারবেন না। এই নির্দেশ মূলত দেওয়া হয়েছিল সব স্কুলের প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক এবং স্ক্রুটিনির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের। কিন্তু এ দিন দেখা যায়, কলকাতা শিক্ষা ভবনের সামনে বিক্ষোভে প্রধান পরীক্ষক বা পরীক্ষকদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

ধর্মঘটে সামিল শিক্ষকদের একাংশ

নির্দেশিকা উপেক্ষা করার পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, " আমরা আগেই জানিয়েছিলাম যে, কোনও নির্দেশিকা দিয়ে আমাদের আটকানো যাবে না। আমাদের ঘোষিত ধর্মঘটের কর্মসূচিকে কেউ আটকাতে পারে না।" একই ভাবে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাসও বলেন, "ধর্মঘট আমাদের অধিকারের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু তার পরেও সরকার যে ভাবে কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল, সেটা আমরা রুখে দিয়েছি। গোটা রাজ্যেই ধর্মঘটের ভাল প্রভাব পড়েছে।"তাঁদের এই ধর্মঘটকে সমর্থন করে

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন কুটা-র সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষ বলেন, "সরকারি বঞ্চনার প্রতিবাদে এই ধর্মঘটকে আমরাও সমর্থন করেছি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে। "

তবে স্কুলে শিক্ষকদের উপস্থিতি স্বাভাবিক বলেই দাবি এক প্রধান শিক্ষকের। কলকাতার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন , "আমাদের স্কুলে শুধুমাত্র তিন জন শিক্ষক আসেননি। ৪৩ জনের সকলেই এসেছেন। " শিক্ষা ভবনের এক আধিকারিক বলেন, "এ দিন অফিসের উপস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক ছিল। "

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement