US Iran Tensions

ইরানে ৩০ হাজার কোটি ডলার লগ্নির ব্যবস্থা করবে আমেরিকা, অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত! বিতর্কের মাঝে জানাল রিপোর্ট

ইতিমধ্যেই ইরানের পাঁচটি অঞ্চলে প্রস্তাবিত অর্থের অর্ধেক বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১৪:০৮
Share:

(বাঁ দিকে) মোজতবা খামেনেই এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

৩০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে ইরানে? দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী এক সূত্র সংবাদসংস্থা রয়টার্স-এর কাছে অন্তত তেমনই দাবি করেছেন। ইতিমধ্যেই ইরানের পাঁচটি অঞ্চলে প্রস্তাবিত অর্থের অর্ধেক বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে ওই সূত্রের দাবি। ওই সূত্রের আরও দাবি, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের উপরেই অনেকটা নির্ভর করছে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হবে কি না। তবে ওই সূত্র দাবি করেছে, সমঝোতার রাস্তা মসৃণ করতে এই বিনিয়োগ জরুরি। ওই সূত্রের দাবি, আলোচনা কতদূর এগোয়, তার ভিত্তিতেই ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তিগুলি ফেরত দিতে পারে আমেরিকা। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে সমঝোতা চুক্তি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তার উপর নির্ভর করবে।

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই সূত্রের দাবি, কোনও সরকারি বিনিয়োগ নয়, বেসরকারি উদ্যোগেই এই বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা, উপসাগরীয় দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার বেসরকারি সংস্থাগুলি। পরিবহণ, শিল্পোৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে সেই বিনিয়োগ করা হবে প্রাথমিক ভাবে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরই জল্পনা শুরু হয়েছে, তা হলে কি সমঝোতার রাস্তা মসৃণ করতে ইরানের ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব মেনে নিল আমেরিকা? যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এই রিপোর্টের তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। শুধু তা-ই নয়, ইরানকে কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এটাও জানিয়েছেন, ইরানে যাতে অন্য দেশগুলি বিনিয়োগ করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে একটাই শর্ত, ইরানকে সমঝোতা চুক্তির সব ক’টি নিয়ম মেনে চলতে হবে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত চার দশক ধরে ইরানের উপর নানা রকম নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা তো বটেই, এ ছাড়াও পশ্চিমি দেশ এবং আন্তর্জাতিক মহলের নানা নিষেধাজ্ঞা এবং চাপের মুখে রাখা হয়েছে তেহরানকে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে সামরিক সংঘাত ইরানের বিভিন্ন পরিকাঠামোকে আরও দুর্বল করেছে। শুধু তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক দিক থেকে চাপে রয়েছে ইরান। সূত্রের দাবি, এই পরিস্থিতিতে ইরানকে সরাসরি ক্ষতিপূরণ না দিয়ে তাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিদেশি বিনিয়োগে ছাড়পত্র দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আমেরিকা।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এক সূত্রের দাবি, ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধের জন্য ৪০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল তেহরান। কিন্তু তাদের সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয় আমেরিকা। তবে ইরানকে একেবারে ‘খালি হাতে’ ফেরাতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। নিজেরা সেই অর্থ না দিলেও বিনিয়োগের ব্যবস্থা করে দিতে চাইছে। ওই সূত্রের দাবি, বিনিয়োগে ছাড়পত্র দিয়ে আমেরিকা সমঝোতার রাস্তা আরও মসৃণ করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তা হলে ৩০ হাজার কোটি বিনিয়োগের রাস্তা আরও মসৃণ হবে। প্রসঙ্গত, ইরানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার রয়েছে। এ ছাড়াও বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ। মূলত ইরানের অর্থনীতি নির্ভর করে খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির উপর। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের উপর আন্তর্জাতিক মহলের নানা নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিদেশি লগ্নি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু এ বার সেই রাস্তা মসৃণ হতে চলেছে বলে ওই সূত্রের দাবি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement