Actuarial Science Course and Job Prospects in India

আর্থিক ঝুঁকি খতিয়ে দেখে নিদান দেন অ্যাকচুয়ারি! কী ভাবে পাওয়া যায় এই পদ?

দেশের সর্বোচ্চ সংস্থা ইনস্টিটিউট অফ অ্যাকচুয়ারিজ় অফ ইন্ডিয়া (আইএআই)-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০৩০-২০৩৪ সালের মধ্যে এই বিষয় সংক্রান্ত পেশার চাহিদা বাড়বে প্রায় ২২ শতাংশ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৭
Share:

প্রতীকী চিত্র।

কখনও যুদ্ধ, কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ— তারই মধ্যে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। প্রযুক্তি উন্নতির যুগে নতুন ত্রাস সাইবার হানাদারি। এরই প্রভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনও ঘটছে প্রতিনিয়ত।

Advertisement

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা প্রভাবিত করে ব্যবসাকে। তাই বিভিন্ন আর্থিক সংস্থাকে নানা দিক খতিয়ে দেখে বাজারে টিকে থাকার পথ দেখায় বিজ্ঞান— অ্যাকচুয়ারিয়াল সায়েন্স।

বর্তমান বিশ্বে এ বিষয়ের চর্চা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বাড়ছে উচ্চশিক্ষা বা চাকরির সুযোগও। রইল খুঁটিনাটি।

Advertisement

অ্যাকচুয়ারিয়াল সায়েন্স বিষয়টি কী?

গণিত, পরিসংখ্যান এবং আর্থিক তত্ত্বের এক সমন্বিত শাখা অ্যাকচুয়ারিয়াল সায়েন্স। গণিত নির্ভর এই বিষয়ের মূল উদ্দেশ্য ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিক বিবেচনা করে কোনও আর্থিক সংস্থার জন্য পরিকল্পনা করা। এ জন্য বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে গাণিতিক ও পরিসংখ্যান মডেল তৈরি করা হয়। তার নিরিখে আর্থিক ঝুঁকি সম্ভাবনা কেমন হতে পারে এবং কী ভাবে তা সামাল দেওয়া যায়, সে পরামর্শ দেওয়া হয়। যাতে ভবিষ্যতে কোনও দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলেও আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলার পথ খুঁজে পাওয়া যায়।

মোটের উপর সংস্থাগুলি যাতে গ্রাহকদের প্রাপ্য মিটিয়েও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে, তার গাণিতিক রূপরেখা তৈরি করে অ্যাকচুয়ারিয়াল সায়েন্স।

বর্তমান চাহিদা

তথ্য নির্ভর আর্থিক ঝুঁকির হদিস দেয় যে বিষয়, সেই অ্যাকচুয়ারিয়াল সায়েন্সের চাহিদা বিশ্ব জুড়েই বাড়ছে। দেশের সর্বোচ্চ সংস্থা ইনস্টিটিউট অফ অ্যাকচুয়ারিজ় অফ ইন্ডিয়া (আইএআই)-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০৩০-২০৩৪ সালের মধ্যে এই বিষয় সংক্রান্ত পেশার চাহিদা বাড়বে প্রায় ২২ শতাংশ।

কারা পড়তে পারেন?

যে কোনও বিভাগে দ্বাদশ উত্তীর্ণ হলেই পড়া যায় এই বিষয়। তবে গণিত, রাশিবিজ্ঞান বা সম্পর্কিত কোনও বিষয় পাঠ্যক্রমে থাকা জরুরি। পরীক্ষায় মোট নম্বরও থাকতে হবে ৫০-৬০ শতাংশের বেশি। এর পর দু’ভাবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পড়ুয়ারা আইএআই আয়োজিত অ্যাকচুয়ারিয়াল কমন এন্ট্রান্স টেস্ট (আসেট) দিতে পারেন। অথবা, যদি কেউ প্রবেশিকা না দিয়েই আইএআই-এর সদস্য হন, তাঁরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের এক জন পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কোম্পানি সেক্রেটারি, কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে হবে। অথবা আইআইটি, আইআইএম বা আইএসআই থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর হতে হবে। যাঁরা বিদেশের কোনও অ্যাকচুয়ারিয়াল সংস্থা থেকে পড়াশোনা করেছেন, তাঁরাও এখানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে পারেন আসেট প্রবেশিকা ছাড়াই।

কোর্স

পড়ুয়ারা আসেট প্রবেশিকা দিয়ে আইএআই থেকে ১৩টি পেশাদারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন। আবার স্নাতক বা স্নাতকোত্তরে বিএসসি, এমএসসি বা পিজি ডিপ্লোমাও করতে পারেন।

কোথায় সুযোগ?

দেশের কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ মিললেও অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই বিষয় পড়ানো হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে কেরল বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অফ অ্যাকচুয়ারিয়াল অ্যান্ড কোয়ান্টিটেটিভ স্টাডিজ় অন্যতম। মুম্বই বা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বাকি প্রতিষ্ঠানে সম্পর্কিত বিষয় উচ্চশিক্ষার সুযোগ মেলে।

চাকরির সুযোগ

দেশের বিভিন্ন বিমা সংস্থা, বিনিয়োগ সংস্থা, ব্যাঙ্ক-সহ নানা আর্থিক সংস্থায় অ্যাকচুয়ারিদের চাকরির সুযোগ রয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement