NEET UG 2026

পদার্থবিদ্যার প্রশ্ন কঠিন, পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে বললেন পড়ুয়ারা! দেশ জুড়ে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হল নিট ইউজি পুনঃপরীক্ষা

রাজ্যের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ মোট ২১৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা হয়। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে একাধিক পড়ুয়ার অভিযোগ করেন পদার্থবিদ্যার প্রশ্ন বেশ কঠিন হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১৮:২৪
Share:

শেষ হল নিট ইউজি-র পুনঃপরীক্ষা। নিজস্ব চিত্র।

শেষ হল নিট ইউজি-র পুনঃপরীক্ষা। রবিবার নিট ইউজি-র পুনঃপরীক্ষার চেয়ে ৩ মে-র পরীক্ষাই ভাল হয়েছিল বলে জানিয়েছেন একাধিক পরীক্ষার্থী। এই পরীক্ষা দিয়েছেন মোট ২২ লক্ষ ৭৯ হাজার জন। রাজ্য থেকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৯ হাজার। রাজ্যের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ মোট ২১৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা হয়। সূত্রের দাবি, ২১ জুন রাজ্যের অনেক কেন্দ্রেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম ছিল ৩ মে-র তুলনায়।

Advertisement

বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে একাধিক পড়ুয়ার অভিযোগ করেন পদার্থবিদ্যার প্রশ্ন বেশ কঠিন হয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন পড়েছিল মালদহের অনুষ্কা আগরওয়ালের। তাঁর মতে, আগের পরীক্ষা বেশি ভাল হয়েছিল। ওই একই মত জানিয়েছেন টলিগঞ্জ ও খিদিরপুর থেকে দুই পরীক্ষার্থীরও। যদিও হাওড়ার পরীক্ষার্থী উতথ্য মান্না জানিয়েছেন, যে হেতু এক মাস বেশি সময় পাওয়া গিয়েছে, তাই পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও ভাল ভাবে নেওয়া গিয়েছে। তাই তাঁর পরীক্ষা মোটের উপর ভাল গিয়েছে।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে দেশের অন্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যেও। মোট ৫৫১টি শহরের ৫,৪৪০টি কেন্দ্রে এবং ভারতের বাইরে ১৪টি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁদের জীববিদ্যার পরীক্ষা ভাল হলেও পদার্থবিদ্যার পরীক্ষা তত ভাল হয়নি।

Advertisement

এ দিকে গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসকদের সহায়তায় কলকাতায় পরীক্ষা দিলেন এক ছাত্রী। জানা গিয়েছে, গত ১৪ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক জখম হন তিনি। পাঁজরের ৯টি হাড় ভেঙে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ফুসফুসে ছিল আঘাত। সৃষ্টি দুবে নামে ওই পরীক্ষার্থী রবিবার চিকিৎসক দলের সঙ্গে এসে পরীক্ষা দেন দক্ষিণ কলকাতার বিনোদিনী বালিকা বিদ্যালয়ে।

মেয়ের দুর্ঘটনার পর সৃষ্টির বাবা যোগাযোগ করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে। তার পরই তাঁর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয় কেন্দ্রীয় শিক্ষা দফতরের তরফে। এনটিএ জানিয়েছে, সৃষ্টির জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রের এক তলায় বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। চিকিৎসক দল সঙ্গে ছিল। বাইরে সব সময় দাঁড়িয়ে ছিল একটি অ্যাম্বুল্যান্স।

উল্লেখ্য, রবীন্দ্র সেতু-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যোগ দিবস পালিত হয়েছে রাজ্যে। এ জন্য একাধিক রাস্তাও বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাই বিলম্বের আশঙ্কায় ভোরবেলাই রওনা দিয়েছিলেন অনেক পরীক্ষার্থী। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানিয়েছিল, বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। তার পর আর কোনও পরীক্ষার্থীকে ভিতরে যেতে দেওয়া হবে না। যে হেতু বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের জন্য অনেকটাই সময় প্রয়োজন, তাই পরীক্ষার্থীদের আগে আসার পরামর্শ দিয়েছিল নিয়ামক সংস্থা। তাতেই অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩ মে প্রায় ২২ লক্ষের বেশি পরীক্ষার্থী বসেছিলেন স্নাতক স্তরের চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তি হওয়ার প্রবেশিকা। তবে, এই পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ১২ মে পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে নিয়ামক সংস্থা এনটিএ। এই প্রথম নয়। ২০২৪-এও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র (এনটিএ) বিরুদ্ধে। তার পরই পরীক্ষা বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিট ইউজি ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর কখনও না হয়, সে জন্য ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ করছিল পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement