NEET UG Re-Exam

মণিপুরে নিট! হতাশা-আতঙ্ক নিয়ে পরীক্ষায় কুকি-মেইতেইরা, সেনা নজরদারিতে যান চলাচল

ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ৩ মে-র পরীক্ষায় বসেছিলেন মণিপুরের প্রায় ৯ হাজার ছাত্রছাত্রী। ১২ মে এক দিকে যেমন বাতিল হয়েছে নিট ইউজির পরীক্ষা। তেমনই রাজ্যের পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়েছে। এক দিকে সংঘর্ষ চলছে মেইতেই-কুকি, অন্য দিকে নাগা সম্প্রদায়ের সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে কুকি জো সম্প্রদায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১০:১৮
Share:

ছবি: প্রতিনিধিত্বমূলক

রাতের অন্ধকারে ওঁরা বেরিয়ে পড়েছিলেন গত মঙ্গলবার। সেনা কনভয়ের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে জনা কুড়ি তরুণ-তরুণী পৌঁছে গিয়েছেন নিরাপদ আশ্রয়ে। কারণ, রবিবার ২১ জুন তাঁরা নিট ইউজি-র পুনঃপরীক্ষায় বসতে চলেছেন। ওঁরা সকলেই মণিপুরের বাসিন্দা।

Advertisement

গত ৩ মে যখন পরীক্ষা হয়েছিল, সে সময়ও মণিপুরের কাংপোকোপি এলাকার বাসিন্দা এক ছাত্রী নাগাল্যান্ডের কোহিমায় পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, সে সময় জাতীয় সড়ক-২ ধরে পৌঁছেছিলেন পরীক্ষাকেন্দ্র, পার হতে হয়েছিল সেনাপতি জেলা। সমস্যা তেমন হয়নি। কিন্তু তার পর একের পর এক ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে মণিপুর। ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষার আগে নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনো যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। তাই বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ৩ মে-র পরীক্ষায় বসেছিলেন মণিপুরের প্রায় ৯ হাজার ছাত্রছাত্রী। ১২ মে এক দিকে যেমন বাতিল হয়েছে নিট ইউজির পরীক্ষা। তেমনই রাজ্যের পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়েছে। এক দিকে সংঘর্ষ চলছে মেইতেই-কুকি, অন্য দিকে নাগা সম্প্রদায়ের সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে কুকি জো সম্প্রদায়। ফলে নতুন করে পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়ে ভাবতে হয়েছে প্রশাসনকে।

Advertisement

২১ জুনের পুনঃপরীক্ষার জন্য মণিপুরের তিনটি শহরে নিট কেন্দ্র স্থির করা হয়েছে। রাজধানী ইম্ফল, চুড়াচাঁদপুর এবং চান্দেল। এর মধ্যে ইম্ফলে মেইতেইরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, চুড়াচাঁদপুর কুকি অধ্যুষিত। চান্দেলে অবশ্য মিশ্র জনবসতি। মণিপুরের বহু ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষাকেন্দ্র স্থির হয়েছে পার্শ্ববর্তী অসম, নাগাল্যান্ডেও।

সমস্যায় পড়েছেন কাংপোকোপি এলাকার কুকি সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীরা। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সেখানকার জনা ২০ পরীক্ষার্থীকে যেতে হবে কুকিদের জন্য নিরাপদ চুড়াচাঁদপুরের পরীক্ষাকেন্দ্রে। কিন্তু পথে পড়বে মেইতেই বা নাগা অধ্যুষিত এলাকা। বিপদের আশঙ্কায় তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন কাংপোকপি-র সহ-সভাপতি থাংটিনলেন হাওকিপ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরিবহণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একটি দলকে মঙ্গলবারই চুড়াচাঁদপুর পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আর একটি দলকে একই ভাবে ইম্ফল বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে পারেন নিরাপদে।

ক্রমাগত চলতে থাকা সংঘাতের কারণ কাংপোকপি, কামজং, ননি, তামেনলং, তেংনৌপাল এবং সেনাপতির মতো বিভিন্ন জেলার পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের যাতায়াতের জন্য প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা করেছে।

এক কুকি ছাত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে তাঁরা বেরিয়েছিলেন। আতঙ্কের প্রহর গুনতে গুনতেই পেরিয়েছেন গোটা রাস্তা। আপাতত তিনি চুড়াচাঁদপুরে তাঁর মাসির বাড়িতে রয়েছেন। রবিবার পরীক্ষা। ছাত্রী বলেন, “শারীরিক এবং মানসিক ভাবে আমি বিধ্বস্ত। চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম, সে পরীক্ষা বাতিল হল। আবার পরীক্ষা দিলে কি তেমন ভাল হবে? জানি না। তা ছাড়া, এই এক-দেড় মাসে রাজ্যের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ভয় করছে।”

তবে শুধু কুকি সম্প্রদায়ের পড়ুয়ারা নন। আতঙ্কে রয়েছে নাগা-মেইতেইরাও। নাগা সম্প্রদায়ের এক ছাত্রের পরীক্ষাকেন্দ্র ইম্ফলে। তিনি সেনাপতির বাসিন্দা। ফলে কাংপোকোপির উপর দিয়েই যাতায়াত করতে হবে। ৩ মে সংঘর্ষ পরিস্থিতি এত গুরুতর ছিল না। তাই অসুবিধা হয়নি। ২১ জুনের পরীক্ষা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন তাঁরা। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সেনাপতি জেলা থেকে প্রায় ৮০ জন পরীক্ষার্থী ইম্ফল যাবেন।

সংবাদমাধ্যমকে ওই ছাত্র জানিয়েছেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনী নিরাপত্তা দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেবে। তার পর থেকে যেন আরও আতঙ্কে রয়েছি। যদি পথে কোনও হামলা হয়! পরীক্ষা নিয়েই যথেষ্ট উদ্বেগে রয়েছি। তার পর রাজ্যের এই পরিস্থিতি। কী ভাবে সফল হব, জানি না!”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement