Manoj Bajpayee on Big Budget Movies

‘পরিবেশকদের ধমকে-চমকে শো নিয়ে নেওয়া হয়’! বড় বাজেটের ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ মনোজের

ছোট ও স্বাধীন ছবিরও সমান সুযোগ পাওয়া উচিত, মত মনোজ বাজপেয়ীর। বড় বাজেটের ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে তুললেন কোন অভিযোগ?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১১:১৩
Share:

মনোজ বাজপেয়ী। ছবি: সংগৃহীত।

বড় বাজেটের ছবির নির্মাতারা নাকি পরিবেশকদের ধমকে-চমকে বেশি সংখ্যক শো হাতিয়ে নেন! এমনই দাবি করলেন অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী। ছোট ছবির সমান সুযোগ পাওয়া উচিত, মত অভিনেতার। বড় বাজেটের ছবির একচেটিয়া আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি।

Advertisement

ভারতে সব ধরনের এবং সব বাজেটের ছবির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন মনোজ। তাঁর মতে, বড় বাজেটের ছবির একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে ছোট ও স্বাধীন ছবিগুলির পক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রেক্ষাগৃহে যথেষ্ট পরিমাণে স্ক্রিন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক রীমা কাগতি জানিয়েছিলেন, ছোট ছবির জন্য দর্শকের ‘সমর্থন’ নয়, বরং ‘পৃষ্ঠপোষকতা’ প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে মনোজ বলেন, “ছোট ছবির ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতার শুরুটাই হয় প্রদর্শন থেকে। যে দিন সরকার এমন নীতি তৈরি করবে, যাতে প্রতিটি ছবি পর্যাপ্ত সংখ্যক শো এবং প্রদর্শনের সুযোগ পাবে, সেই দিন এই ছবিগুলি সমানে সমানে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র পাবে। তার আগে পরিস্থিতি কঠিনই থাকবে।”

রীমার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে মনোজ বলেন, স্বাধীন চলচ্চিত্রের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে তা দর্শকের নয়, বরং প্রশাসনের তরফ থেকে আসা উচিত। তাঁর মতে, এই পৃষ্ঠপোষকতা আর্থিক সহায়তার আকারে নয়, বরং পরিকাঠামোগত সহায়তা হিসাবে আসা বাঞ্ছনীয়। মনোজের কথায়, “সরকারের কাছ থেকেই আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া উচিত। অর্থের মাধ্যমে নয়, বরং এই নিশ্চয়তার মাধ্যমে যে আমাদের ছবিও প্রদর্শিত হবে এবং সব ছবি সমান সুযোগ পাবে।”

Advertisement

উদাহরণ হিসাবে তিনি মহারাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, মহারাষ্ট্র সরকার উদ্যোগী হয়েছে যাতে মরাঠি ছবিগুলি রাজ্যের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে যথেষ্ট পরিমাণে স্ক্রিন পায়। এমনকি মুম্বইয়েও এই প্রবণতা লক্ষ করা গিয়েছে। মনোজের কথায়, “মরাঠি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, মহারাষ্ট্র সরকার নিশ্চিত করেছে যে, তারা যেন সমান সুযোগ পায়। আমাদের জন্যও সারা দেশে একটা ন্যূনতম সংখ্যক স্ক্রিন নিশ্চিত করা উচিত।”

ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিন ধরেই ছবির পরিবেশনা এবং প্রদর্শন ব্যবস্থার উপর বড় স্টুডিয়ো ও তারকাদের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই প্রসঙ্গে মনোজও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, “বড় বাজেটের ছবিগুলির নির্মাতারা অনেক সময়েই পরিবেশক এবং প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের বকে-ধমকে, তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করে সর্বাধিক সংখ্যক শো নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।” তাঁর দাবি, এর ফলে সব ছবির জন্য প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সমান হয় না।

উল্লেখ্য, মনোজের সাম্প্রতিক ছবি ‘গভর্নর: দ্য সাইলেন্ট সেভিয়ার’ একটি স্বল্প বাজেটের স্বাধীন চলচ্চিত্র, যা সীমিত সংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ায় ভারতের অর্থনৈতিক সঙ্কট পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন গভর্নর এস বেঙ্কিটারমণনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনোজ। দেশকে অর্থনৈতিক পতনের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement