গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ক্রেতা সেজে প্রশ্নপত্র যাচাই করতে চেয়েছিল পুলিশ। তাতেই ধরা পড়ে যান অভিযুক্তেরা। মহারাষ্ট্রের টেট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নয়া তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে অভিযুক্তেরা মারাঠি, হিন্দি, সমাজবিজ্ঞান এবং গণিতের প্রশ্নপত্র বিক্রি করতে চেয়েছিল। এই ঘটনায় মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছে এক অভিযুক্তের স্ত্রীকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্ত বিহারের বাসিন্দা বৃজেন্দ্রকুমার গুপ্তের স্ত্রী সুমন কুমারী ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযুক্তের স্ত্রীকে পটনা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঠাণে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মহারাষ্ট্র সরকারের সংগঠিত অপরাধ দমন আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২৮ জুনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির তথ্য ২৭ জুন গোপন সূত্র মারফত জানতে পারে পুলিশ। ক্রেতা সেজে প্রশ্নপত্র বিক্রেতার সঙ্গে মুখোমুখি দেখা করার দাবি করেন এক পুলিশ আধিকারিক। ভিডিয়ো কল-এ কথা বলার পর অভিযুক্তেরা প্রশ্নপত্রের দেড় কোটি টাকা দাবি করেন। এমনকী সামনাসামনি প্রশ্নপত্র যাচাই করে নেওয়ার পরই এক লক্ষ টাকা আগাম দেওয়ার কথাও বলেন অভিযুক্তেরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, এর পরই দু’জন সাক্ষীর সঙ্গে ভিওয়ান্ডির ডোঙ্গারালি এলাকায় প্রশ্নপত্র হস্তান্তরের কথা জানিয়েছিলেন অভিযুক্তেরা, সেই সময়ই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের টেট কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) দিল্লি, বিহার, হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে। তদন্তকারী দল ঠাণের জয়েন্ট সিপি পঞ্জাবরাও উগালের নেতৃত্বে কাজ করছে।
প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্তদের মোবাইলের মেসেজ, কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে দেশের একাধিক রাজ্যে প্রশ্নফাঁস করার একটি সংগঠিত চক্রের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। তাই প্রয়োজনে অন্য রাজ্যে গিয়েও তদন্ত করতে পারে সিট। আপাতত অভিযুক্তদের ৬ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।