Mid Day Meal Supply Stopped in parts of West Bengal

দুপুরের পাতে পড়ুয়ারা পেল লেবু, কেক-বিস্কুট! জেলায় জেলায় গ্যাসের অভাবে বন্ধ মিড-ডে মিলের রান্না

বুধবার রান্না করা যায়নি গ্যাসের অভাবে। পড়ুয়াদের পাতে দেওয়া যায়নি ভাত-ডাল, সব্জি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজার থেকে খাবার কিনে এনেছেন শিক্ষকেরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৩:৩৭
Share:

প্রতীকী চিত্র।

আশঙ্কাই সত্যি হল। রান্নার গ্যাসের অভাব বন্ধ রাখতে হল মিড-ডে মিল।

Advertisement

স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রের জানা গিয়েছে ঝাড়গ্রাম, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার কোনও কোনও স্কুলে রান্নার গ্যাসের অভাবে মিড-ডে মিল রান্না করা যায়নি। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে দফতরে। তার পরই তড়িঘড়ি বৈঠকে বসেছেন কর্তৃপক্ষ।

বুধবার জেলার অনেক স্কুলেই রান্নার গ্যাসের অভাবে মিড-ডে মিলের রান্না করা যায়নি। কোথাও লেবু, কোথাও সামান্য কিছু শুকনো খাবার দিয়ে পরিস্থিতির সামাল দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতরের এক কর্তা বলেন, “পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ দিকে যাচ্ছে। মিড-ডে মিল শিশুদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা সকলেরই জানা। স্কুলে তাদের খাবার দেওয়া গেল না এমন অবস্থা এর আগে কখনও হয়নি।”

Advertisement

ইরান-ইজ়রায়েল, আমেরিকার সংঘর্ষে এ দেশে তৈরি হতে পারে গ্যাসের আকাল, এমন আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল চলতি মাসের গোড়া থেকেই। গত সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন, তাঁরা রান্না করতে পারছেন না। কাঠ সংগ্রহ করে রান্নার ছবিও দেখা গিয়েছিল কোনও কোনও স্কুল। কলকাতার স্কুলগুলিতে কমিউনিটি কিচেন থেকে কোনও দিন গিয়েছিল ডিম সিদ্ধ, কোনও দিন শুধু খিচুড়ি। তার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কোনও ভাবেই মিড-ডে মিল বন্ধ হতে দেওয়া যাবে না।

প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছে। সুনির্দিষ্ট ভাবে জেলাশাসকের দফতরে মিড-ডে মিল বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয় কোনও ভাবেই যেন মিড-ডে মিল বন্ধ না হয়। গ্যাস সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

কিন্তু সেই পরিস্থিতি এই সপ্তাহেও যে চলছে এই রিপোর্ট তার প্রমাণ। তাই এ বার বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে শুরু করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর।

ইতিমধ্যেই বেশ কিছু স্কুল কাঠের জ্বালানি দিয়ে রান্না শুরু করেছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। দফতরের এক কর্তা জানান, বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক রয়েছে। সেখানে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তারপর সেগুলি জেলাশাসকের দফতরে পাঠানো হবে। আপাতত তাঁরা চাইছেন, বৃহস্পতিবার যেন কোনও ভাবেই কোথাও মিড-ডে মিল বন্ধ না হয়।

এ প্রসঙ্গে অবশ্য উঠে আসছে রাজনীতির প্রসঙ্গও। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “সঙ্কট তো রয়েছেই। এ সমস্যা হবে বোঝাই যাচ্ছিল। কেন্দ্রের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তৃণমূল ঘনিষ্ঠেরা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছে বলে মনে হয়।”

যদিও পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি প্রীতম হালদার বলেন, “শিশুদের খাবার না পাওয়াটা দুঃখজনক। সরকার সব রকম ভাবে চেষ্টা করছে। কিন্তু যাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাঁদের ধিক্কার জানাই। তৃণমূলের সরকার বলেই তার বিরোধিতা করতে হবে, এ রকম দায়িত্বজ্ঞানহীন চিন্তা ভাবনা থেকে বেরিয়ে মূল সমস্যার দিকে দৃষ্টি দেওয়া দরকার।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement