ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
জরুরি অবস্থার ইতিহাস পড়বে নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা। এনসিইআরটি-র সমাজবিজ্ঞানের বইয়ে সেই সময়ের ইতিহাস যোগ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোস্যাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক বইয়ের ওই অধ্যায়ে জরুরি অবস্থার ঘটনাটিকে ‘অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছে এনসিইআরটি।
কী হয়েছিল সেই সময়ে?
১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত এ দেশে ২১ মাসের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। ‘জাতীয় সুরক্ষা’র কারণে নাগরিকদের সব মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকার গণমাধ্যমের উপরেও বিধিনিষেধ জারি করেছিল।
জানা গিয়েছে, পাঠ্যবইয়ের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে জরুরি অবস্থার যাবতীয় ঘটনার বর্ণনা করা হয়েছে। লেখা হয়েছে, “ভারতে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে ১৯৭৫-৭৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির ঘটনাটি নথিভুক্ত হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের প্রতি জনগণের অসন্তোষ বাড়ছিল। ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং সুশাসনের অভাবের মতো বিভিন্ন অভিযোগে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছিল।”
সূত্রের খবর, নবম শ্রেণির বইয়ের ওই অধ্যায়ে অভ্যন্তরীণ গোলমালের কারণে সরকার জাতীয় স্তরে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই ঘটনার প্রায় ৫০ বছর পর স্কুলপাঠ্যে যোগ হল জরুরি অবস্থার ইতিহাস। তাতে লেখা হয়েছে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করার ক্ষেত্রে জয়প্রকাশ নারায়ণের ভূমিকা নিয়েও। অধ্যায়ে ‘লোকনায়ক’ নামে জনপ্রিয় জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে পরিচালিত গণআন্দোলনের ভূমিকাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের পর সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে শাসক সরকারের পরাজয়কে গণতন্ত্রের শক্তি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে।
পড়ুয়াদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোস্যাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’ বইয়ে আলাদা করে একটি অধ্যায় রয়েছে। ‘ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইউ’ শীর্ষক ওই অধ্যায়ের মাধ্যমে নাগরিক হিসাবে কী কী কর্তব্য পালন করা প্রয়োজন, তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসাবে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিশদ বিবরণ রয়েছে ওই বইয়ে।