বৈজয়ন্তী বন্দ্যোপাধ্যায় । নিজস্ব চিত্র।
কন্যাসন্তানের আবার পড়াশোনা!
বাবা বলেই দিয়েছিলেন, মেয়ের পড়াশোনার পিছনে বেশি টাকা খরচ করতে তিনি রাজি নন। তাই মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন মা। এমনই অভিযোগ দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থী বৈজয়ন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বুধবার, বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনে সিবিএসই দশম শ্রেণির প্রথম পর্বের ফলপ্রকাশের পর দেখা যায় উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের নারায়ণা স্কুলের ওই ছাত্রী ৫০০-র মধ্যে ৪৯৮ নম্বর পেয়ে পাশ করেছে।
জানা গিয়েছে, বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তিতে ১০০-র মধ্যে ১০০ পেয়েছে বৈজয়ন্তী। ইংরেজিতে পেয়েছে ৯৮, সমাজবিজ্ঞানে ৯৯। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে সমাজসেবার স্বপন দেখে ছাত্রী। তার মা অনসূয়া বন্দ্যোপাধ্যায় আদতে বাঁকুড়ার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন স্বামীবিচ্ছিন্না। বুধবার তিনি বলেন, “মেয়ে হয়েছিল বলে আমার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী স্বামী কোনও দায়িত্ব নিতে চাননি। কিন্তু আমি লড়াইটা ছাড়িনি। আমার মেয়েও সেই লড়াইয়ের মর্যাদা রেখেছে।” তিনি জানান, কোনও গৃহশিক্ষক ছিল না বৈজয়ন্তীর। স্কুল শিক্ষকেরা যা পড়িয়েছেন, তাই শিখেছে সে। অনসূয়া বলেন, “স্কুলের পড়াই সব। আমি বাংলা মাধ্যমের ছাত্রী, যতটুকু পেরেছি ওকে দেখিয়ে দিয়েছি। বাকিটা মেয়ে নিজেই করেছে।”
লড়াইয়ের সংসারে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে মেয়ে। তাই আশঙ্কা প্রতি পদক্ষেপে। বৈজয়ন্তীর কথায়, “আমার সাফল্যের মূল স্তম্ভ মা। আমাদের মতো পরিবার থেকে চিকিৎসক হওয়া কম ঝুঁকির নয়। জানি না কত দিন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব!”
এ রাজ্যে বহু পড়ুয়াই ভাল ফল করেছে। নারায়ণা স্কুলের নিউটাউন শাখার ছাত্র মহীপ বসু পেয়েছে সেরা পাঁচ বিষয়ে ৪৯৮। নিউটাউনের বাসিন্দা মহীপ ভবিষ্যতে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চায়। গণিত, সমাজবিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তিতে ১০০-এ ১০০ এবং ইংরেজি ও হিন্দিতে ৯৯ পেয়ে ৫০০-এ ৪৯৮ পেয়েছে সে। বিজ্ঞানে পেয়েছে ৯৮। বাবা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, থাকেন ভিন রাজ্যে। মা গৃহবধূ। তিনিই পড়াশোনায় সাহায্য করেন বলে জানিয়েছে মহীপ। এ ছাড়া স্কুল শিক্ষকদেরই কৃতিত্ব, দাবি ছাত্রের।
মহীপ বসু
কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুলের শীর্ষজিৎ মুখোপাধ্যায় বিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞানে ১০০, বাংলা ও গণিতে ৯৯ এবং ইংরেজিতে ৯৮ পেয়েছে। সে চায় কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করতে। মা পদার্থবিদ্যার ছাত্রী হওয়ায় প্রাথমিক ভাবে সাহায্য করেছেন। পাশাপশি স্কুলের শিক্ষক ও গৃহশিক্ষক তাকে সাহায্য করেছে বলে জানায় ওই পড়ুয়া। দিদি এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছে। বাবা ন্যাশনাল জীবন বিমা কোম্পানির ‘ডেভলেপমেন্ট অফিসার’ হিসেব কর্মরত।
শীর্ষজিৎ মুখোপাধ্যায়
এর পাশাপাশি বিডিএম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের জয়শীর্ষ বসু বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ১০০ নম্বর পেয়েছে। সেরা পাঁচ বিষয়ে ৫০০-র মধ্যে ৫০০ পেয়েছে সে। শুধু ইংরেজিতে পেয়েছে ৯৯। পাশাপাশি বিধাননগরের ভবনস গঙ্গাবক্স কানোরিয়া বিদ্যামন্দিরের অনিশা ঘোষ একটি বিষয় ছাড়া বাকি সব বিষয়েই ৫০০-র মধ্যে ৫০০ পেয়েছে বলেই খবর।