ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
তথ্য বলছে ২০২৫-এ প্রায় ৬.২৬ লক্ষ ভারতীয় শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছেন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৯.০৮ লক্ষ। পরবর্তীকালে এই পড়ুয়াদের অধিকাংশই দেশের বাইরের থেকে যান কাজের সূত্রে। আবার এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেছেন ভারতে কিন্তু চাকরি বা গবেষণার জন্য কর্মরত দেশের বাইরে। মেধা নিষ্কাশনের এই প্রক্রিয়ায় রাশ টানতে চাইছে সরকার।
সেই লক্ষ্যে ২০২৬-এ শুরু হয় প্রাইম মিনিস্টার রিসার্চ চেয়ার (পিএমআরসি) স্কিম। যার মূল লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাদারদের ভারতমুখী করা। নির্বাচিত গবেষকদের দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় গবেষণা পরীক্ষাগারগুলিতে নিয়োগ করা হবে, যাতে তাঁরা দেশের প্রধান প্রধান ক্ষেত্রগুলিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে অবদান রাখতে পারেন।
২০২৬-এর পিএমআরসি স্কিমের সেই আবেদন প্রক্রিয়াই শুরু হয়েছে। মূলত কী কী সুবিধে পাওয়া যাবে পিএমআরসি স্কিমের মাধ্যমে—
১) গবেষণা প্রকল্প শুরু করার জন্য এককালীন বিশেষ ‘রিসার্চ গ্র্যান্ট’ বা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
২) ফেলোশিপের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে পুনর্বাসন বা যাতায়াত সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করা হবে।
৩) উন্নত গবেষণা পরিকাঠামো এবং আধুনিক গবেষণাগার ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যাবে।
৪) শিক্ষাক্ষেত্রে নিজস্ব পরিচিতি ও বিশেষ স্বীকৃতি।
কোন কোন প্রতিষ্ঠানে মিলবে গবেষণার সুযোগ?
‘এনআইআরএফ’-এর র্যাঙ্কিংয়ের সামগ্রিক তালিকায় থাকা শীর্ষ ১০০টি সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এনআইআরএফ ইঞ্জিনিয়ারিং তালিকায় থাকা দেশের সেরা ১০০টি প্রতিষ্ঠানে। এনআইআরএফ রিসার্চ তালিকায় থাকা শীর্ষ ৫০টি প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়া যাবে। এছাড়াও ডিপার্টমেন্ট অফ বায়োটেকনোলজি (ডিবিটি), ডিপার্টমেন্ট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডিএসটি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অধীনে থাকা বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষাগার এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
বিদেশের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা পরীক্ষাগার, প্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন সুনামসম্পন্ন সংস্থায় কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাদাররা এই স্কিমের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের মূলত তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। ইয়ং রিসার্চ ফেলো:
পিএইচডি করার পর যাঁদের গবেষণার অভিজ্ঞতা ৫ বছরের কম তাঁদের জন্য এই বিভাগ।
২। সিনিয়র ফেলো:
পিএইচডি-র পর যাঁদের ৫-১০ বছরের কম সময়ের গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
৩। রিসার্চ চেয়ার:
পিএইচডি করার পর ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকা প্রতিষ্ঠিত গবেষক, যাঁদের গবেষণা ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রমাণিত রেকর্ড রয়েছে।
কী ভাবে আবেদন করতে হবে?
প্রথমে পিএমআরসি-র অফিশিয়াল পোর্টালে (pmrc.education.gov.in) যেতে হবে।
হোমপেজ থেকে ‘সাবমিট ইয়োর প্রোপোজ়াল’ অথবা ‘অ্যাপ্লাই নাও’-তে যেতে হবে।
এরপর ‘ফেলো’ অথবা ‘হোস্ট ইনস্টিটিউশন’ হিসাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
ফেলো হিসাবে আবেদনের জন্য একটি ‘ইউজ়ারনেম’ (ব্যবহারকারীর নাম) তৈরি করে নিজের ই-মেল আইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
সব শেষে আবেদনপত্রটি পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে। পিএমআরসি-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।