— প্রতীকী চিত্র।
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুদান কমছে, গত কয়েক বছরে বার বার উঠেছে এমন অভিযোগ। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার পাশাপাশি রাজ্যের উদাসীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকদের একাংশ। গত দেড় দশকে শিক্ষাক্ষেত্রে শূন্যপদ পূরণ হয়নি। বরং বেড়েছে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা। এর ফলে আদতে ক্ষতি হয়েছে শিক্ষার, অভিযোগ এমনই। তা ছাড়া, রাজ্যের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই স্বাধিকার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হতেই আশায় বুক বাঁধছে শিক্ষামহল।
সূত্রের খবর, ২০১৯-এ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০০ কোটি টাকা অর্থ সাহায্যের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রের তরফে। কিন্তু ৪৭ কোটি টাকা ২০২৬-এও বকেয়া বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটা-র সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়। এক আধিকারিকের দাবি, রুসার দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থ না পাওয়ায় ইআরপি ব্যবস্থা চালুর এবং অত্যাধুনিক কম্পিউটার কেনার পরিকল্পনা বন্ধ। এ সব দিকে নজর পড়ুক চাইছেন শিক্ষকেরা।
আবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পূর্ববর্তী সরকার যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের আগে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সূত্রের খবর, তৃণমূল সরকার জানিয়েছিল, কোনও সম্মেলনের আয়োজন বা কোনও পাঠসামগ্রী ক্রয় করে তার খতিয়ান সরকারকে পাঠালে টাকা পাওয়া যাবে। এ নিয়ে সে সময়ই প্রশ্ন উঠেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন কুটা-র সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষ বলেন, “এটা বেশ ঝুঁকির। প্রায় কেউই এই টাকা খরচ করে ফেলতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয়কে আগে অর্থ বরাদ্দ করাই নিয়ম।” তিনি দাবি করেন, নতুন রাজ্য সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ করুক। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপও যেন না ঘটে, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে।
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, কেন্দ্রের আর্থিক সাহায্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের তরফে ২০২২-২৩ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সামান্য কিছু বরাদ্দ হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই সামান্য অর্থ দিয়ে দু’টি অর্থবর্যের খরচ চালানো অসম্ভব ছিল। তিনি বলেন, ‘‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুবই সঙ্গীন। তবে নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। আশা করি সমস্যা মেটাতে নতুন সরকার উদ্যোগী হবে।’’
তবে শুধু আর্থিক প্রসঙ্গ নয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষোভ, ‘ইনস্টিটিউট অফ এমিন্যান্স’-এর খেতাবও তাদের দেয়নি কেন্দ্র সরকার। যদিও ইউজিসি-র সুপারিশও ছিল। রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠন হয়েছে। উৎকর্ষের বিচারে এ বারে যাদবপুরের মুকুটে এই নতুন পালক যুক্ত হয় কি না, সে দিকেও তাকিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া-শিক্ষকেরা।
শিক্ষামহলের দাবি, শিক্ষাক্ষেত্রের সম্মান পুনরুদ্ধারও প্রয়োজন। স্বাধিকার ভঙ্গ যাতে কোনও ভাবেই না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ প্রসঙ্গে নতুন করে চর্চায় উঠে আসে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উক্তি ‘টাকা দিই তাই নাক গলাবো’। শিক্ষকেরা দাবি করছেন, এমন পরিবেশ শিক্ষাক্ষেত্রের সম্মান নষ্ট করে। তাই যে কোনও পদাধিকারীর উচিত, এ বিষয়ে সচেতন থাকা।
কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুটার সাধারণ সম্পাদক নিলয়কুমার সাহা বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিচালন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে নতুন সরকারকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার রক্ষার পাশাপাশি গবেষণার জন্য আর্থিক সাহায্য একান্ত প্রয়োজন। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নিতর জন্য সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান নেবে এটা আশা করছি।’’
উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তরফ থেকেই বড় অঙ্কের অর্থ সাহায্য পাওয়া যেত রাষ্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযান বা রুসার মাধ্যমে। কিন্তু ২০২৩-এ কেন্দ্র এই প্রকল্পের আগে প্রধানমন্ত্রী অর্থাৎ ‘পিএম’ শব্দবন্ধ যুক্ত করে। বিরোধিতা করে তৎকালীন তৃণমূল তা গ্রহণ করেনি। ফলে কেন্দ্রও আর অর্থ বরাদ্দ করেনি। থমকে গিয়েছে নানা গবেষণার কাজ। এ বারে অন্তত সেই জট কাটার অপেক্ষায় শিক্ষকেরা।