গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শুধুই প্রশ্নফাঁস নয়, পরীক্ষার দিন টোকাটুকিও হয়েছিল নিট ইউজি-তে। এ বার সেই তদন্তে রাজস্থানের তদন্তকারী দলকে সাহায্যের আশ্বাস দিল এনটিএ।
গত ৩ মে নিট ইউজি পরীক্ষায় কারচুপি ঘটনার তদন্ত করছে রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশনস গ্রুপ। উল্লেখ্য, ওই সংস্থার তদন্তেই উঠে আসে, পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন হাতে পেয়েছিলেন অনেকে, যার সঙ্গে মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একাধিক মিল পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে, এনটিএ-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই পরীক্ষায় টোকাটুকি হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে এ-ও জানা গিয়েছে, পরীক্ষা শুরুর এক মাস আগেই হোয়াট্সঅ্যাপ মারফত নাকি ওই প্রশ্নের প্রতিলিপি দেশের বিভিন্ন পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গিয়েছিল। এই ঘটনায় রাজস্থান পুলিশের হাতে এখনও পর্যন্ত ১৩ জন গ্রেফতার হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ৩ মে পরীক্ষার দিন নজিরবিহীন ভাবে অসদুপায় অবলম্বন করেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। ঘটনার চার দিন পর, ৭ মে অভিযোগ স্বীকার করে এনটিএ। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে।
অন্য দিকে নিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। পাশাপাশি, রাজস্থান, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং কেরল জুড়ে ডাক্তারি পড়ুয়া, দালাল, কোচিং অপারেটর এবং প্রশ্নপত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধানও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হলেও আরও কেউ এই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে তদন্ত জারি রয়েছে।
উল্লেখ্য, নিট ইউজি-র প্রশ্নপত্র জিপিএসযুক্ত গাড়িতে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল এনটিএ। প্রশ্নপত্রে এমন চিহ্নও বসানো ছিল, যার সাহায্যে তা সহজেই ট্র্যাক করা সম্ভব। এ ছাড়াও পরীক্ষা চলাকালীন কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে নজরদারি করা হয়েছে। সব কেন্দ্রেই বসানো হয়েছিল ৫জি জ্যামারও। যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার না করা যায়।
যদিও উন্নতমানের সুরক্ষার চাদরে মোড়া কেন্দ্রে কী ভাবে টোকাটুকি চলল বা প্রশ্নফাঁস হল— তার কোনও ব্যাখ্যা নেই এনটিএ-এর কাছে। সংস্থার তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী যাতে তাঁদের প্রচেষ্টা ও সততার মূল্য পান, তা নিশ্চিত করা হবে।
ওই পরীক্ষা বাতিল করে ২১ জুন ফের পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে এনটিএ-এর তরফে। এ বারের পরীক্ষায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতে পারে ভারতীয় বায়ুসেনা। সংবাদমাধ্যমে কাছে বহু পরীক্ষার্থীই জানিয়েছেন, নতুন করে পরীক্ষায় যে কোনও অঘটন ঘটবে না, তা নিয়ে সুনিশ্চিত হতে পারছেন না তাঁরা।