— প্রতীকী চিত্র।
পড়ুয়ারা স্কুলের ব্যাগ, জুতো এবং স্কুলের পোশাক পেয়েছে কি না, সরেজমিনে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিল স্কুলশিক্ষা দফতর। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের উদ্দেশে জারি করা এই নির্দেশিকার মধ্যে রাজনীতি দেখছেন বিরোধীরা। আর তাতেই তৈরি হচ্ছে বিতর্ক।
সাধারণত প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়াদের জুতো দেওয়া হয়। স্কুল ব্যাগ দেওয়া হয় শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের। আর স্কুলের পোশাক দেওয়া হয় প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। এই পরিষেবা সকল পড়ুয়ার কাছে পৌঁছেছে কিনা খতিয়ে দেখাই উদ্দেশ্য। শুধু তা-ই নয়, ওই সব জিনিসের মান কেমন তা-ও দেখে নিতে বলা হয়েছে স্কুল পরিদর্শকদের।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সব জেলা স্কুল পরিদর্শকদের কাছে একটি নির্দেশিকা পৌঁছোয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে দফতরের এক কর্তা স্কুলের ব্যাগ, স্কুলের পোশাক এবং জুতোর মান যাচাই করতে স্কুলে যেতে চান। সে কারণে আগে থেকেই ডিআইদের স্কুল পরিদর্শন করে দেখে নিতে হবে সব পড়ুয়া সেগুলি পেয়েছে কিনা। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে এই নির্দেশিকায়।
তবে শিক্ষকদের একাংশই বলছেন, আসলে ভোটের মুখে সরকার নিশ্চিত হতে চাইছে পরিষেবা সকলের কাছে পৌঁছেছে কিনা। প্রশ্ন উঠছে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের প্রকল্প নিয়ে কোনও কাজ আদৌ করা যায় কিনা!
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের দাবি, ‘‘এই পরিদর্শনের প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে ভোট। কারণ যদি পড়ুয়ারা সরকারের এই সুবিধাগুলি না পেয়ে থাকে তা হলে তার প্রভাব অভিভাবকদের ভোটে পড়তে পারে। ভোটের তল মাপতে চাইছে শাসকদল, উন্নয়নের নয়।’’ তাঁর দাবি, স্কুলে বহু সমস্যা রয়েছে। সেগুলি উপেক্ষিতই রয়ে গিয়েছে।
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, ‘‘নির্বাচনের আদর্শ আচরণ বিধি জারি হয়েছে এ রাজ্যে। তার মধ্যে আদৌ এটা করা যায় কিনা সেটা যাচাই করা প্রয়োজন।’’
তৃণমূলপন্থী শিক্ষকদের তরফে অবশ্য দাবি, বিষয়টির মধ্যে কোনও অভিনবত্ব নেই। বিরোধীরা নেহাতই সব কিছুর মধ্যেই রাজনীতি খোঁজার চেষ্টা করছেন। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি প্রীতমকুমার হালদার বলেন, ‘‘এই বিষয়কে নিয়ে অযথা রাজনীতির চেষ্টা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে আগেই এ সব দেওয়া হয়েছে। তার মান যাচাইয়ের মতো একটি দৈনন্দিন ঘটনাকে ভোটের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া দুর্ভাগ্যের। শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকার কখনও রাজনীতি করেনি, করবেও না।’’
তবে, আদর্শ আচরণ বিধির মধ্যে পড়ুয়াদের নতুন করে কোনও সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্কুলগুলি। দমদমের এক স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, ‘‘বুধবার স্কুল ব্যাগ স্কুলে পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের কারণে এখনই পড়ুয়াদের সেগুলি দিতে নিষেধ করা হয়েছে। ভোটের ফলপ্রকাশের পর তা বিতরণ করা হবে।”