SSC Group C and D Recruitment Exam 2026

হাওয়াই চটি রাখতে হবে পায়ে! শিক্ষাকর্মী নিয়োগ পরীক্ষায় কড়া নির্দেশিকা জারি এসএসসি-র

মার্চের প্রথম দিনই শুরু হচ্ছে পরীক্ষা। ইতিমধ্যে পরীক্ষার্থীরা অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন অনলাইনে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৯
Share:

প্রতীকী চিত্র।

কোনও ভাবে জুতো পায়ে দিয়ে ঢোকা যাবে না পরীক্ষাকেন্দ্রে। মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে চাকরিপ্রার্থীদের পায়ে দিয়ে যেতে হবে সাধারণ চটি বা হাওয়াই চটি। আসন্ন গ্রুপ-সি, গ্রুপ-ডি নিয়োগ পরীক্ষার জন্য এমনই নির্দেশিকা জারি করল এসএসসি।

Advertisement

ভোটের আগে আগামী ১ ও ৮ মার্চ শিক্ষাকর্মী নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করতে চলেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। ২০১৬ এসএসসি-র প্যানেল বাতিল হওয়ার পর নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা তাদের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ভোটের আবহে সারা রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা সে সময় বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা। তাই কোনও রকম ফাঁক রাখতে চাইছে না এসএসসি।

এর আগেই কোনও রকম গহনা পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কমিশন। এমনকি একাদশ-দ্বাদশ ও নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বিবাহিত মহিলাদের হাত থেকে লোহা খুলে রেখে পরীক্ষা দিতে যেতে হয়েছিল। কেউ কেউ এ বিষয়ে মৃদু আপত্তি তুললেও স্বচ্ছতার খাতিরে তা নিয়ে কোনও বিতর্ক তৈরি হয়নি। এ বার জুতো পরে পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করল কমিশন।

Advertisement

মার্চের প্রথম দিনই শুরু হচ্ছে পরীক্ষা। ইতিমধ্যে পরীক্ষার্থীরা অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন অনলাইনে। সেখানেই এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় জুতো নয়, পরে থাকা যাবে সাধারণ চপ্পল বা হাওয়াই চটি।

সদ্য শেষ হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এ বছর রাজ্য সাক্ষী থেকেছে এক ভিন্নতর অভিজ্ঞতার। স্কুল জীবনে প্রথম পরীক্ষা দিতেও পরীক্ষার্থীরা ঢুকেছে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, অন্তর্বাস এবং জুতোর ভিতর মোবাইল নিয়ে ঢুকেছে তারা। তার পর কৃত্রিম মেধার সাহায্য নিয়ে চলেছে উত্তর দেওয়া প্রচেষ্টা। ব্যতিক্রম নয় উচ্চ মাধ্যমিকও। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই জুতোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করছে স্কুল সার্ভিস কমিশন।

কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, “পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যে কোন‌ও ধরনের মোবাইল বা বৈদ্যুতিন যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ জন্য আমরা সব রকম পদক্ষেপ করব। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে জুতোর মধ্যে মোবাইল লুকিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা। সে দিকে লক্ষ রেখেই নয়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।”

কমিশনের জারি করা নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীরা যে কলম ব্যবহার করবেন তা-ও ‌স্বচ্ছ হতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জলের বোতলও হতে হবে স্বচ্ছ। ঘড়ি পরেও পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। যদি কোনও পরীক্ষার্থী কোনও গহনা বা যে কোনও ধরনের ধাতব বস্তু সঙ্গে রাখেন, তা পরীক্ষাকেন্দ্রের নির্দিষ্ট ঘরে রেখে যেতে হবে পরীক্ষায় বসার আগে। পাশাপাশি কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোন পরীক্ষার্থী যদি কোনও রকম বৈদ্যুতিন যন্ত্র বা মোবাইল ফোন-সহ ধরা পড়েন, তা হলে তাঁর পরীক্ষা সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য হবে।

যদিও জুতোয় নিষেধাজ্ঞা নিয়ে খানিক আপত্তি রয়েছে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। অনেকেই দাবি করছেন, বহু দূর থেকে ট্রেনে-বাসে চড়া পরীক্ষা দিতে যাওয়া প্রার্থীদের পক্ষে হাওয়াই চটি বা চটি পরে যাওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সকলে জুতো খুলে রেখে পরীক্ষা দিতে ঢুকতে চাইলে জটিলতা বাড়বে বলেই মনে করছেন অনেকে।

গ্রুপ সি চাকরিহারা ‘যোগ্য’ বিভাস ধর এ বার ফের পরীক্ষায় বসবেন। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সে দিকে নজর না দিয়ে এসএসসি অহেতুক পরীক্ষার্থীদের উপর চাপ তৈরি করছে বলেই আমি মনে করি। দেহতল্লাশির ক্ষেত্রে আরও জোর দেওয়া উচিত ছিল প্রশাসনের।”

যদিও এ প্রসঙ্গেই উঠে এসেছে পুলিশকর্মী অপ্রতুল থাকার আশঙ্কাটিও। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের আগে প্রশাসনিক নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে পারেন পুলিশকর্মীরা। সে ক্ষেত্রে যথাযথ নজরদারির ব্যবস্থা করতে সমস্যা হতে পারে। তাই আগে থেকেই সব দিক সামলে রাখতে চাইছে কমিশন।

উল্লেখ্য, প্রায় ৮ লক্ষ ১৩ হাজার পরীক্ষার্থী গ্রুপ-সি এবং প্রায় ৮ লক্ষে ২০ হাজার পরীক্ষার্থী গ্রুপ-ডি পরীক্ষায় বসবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ জন্য প্রায় ১৭০০ মতো পরীক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থা করেছে কমিশন। গ্রুপ-সি নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা হবে ৬০ নম্বরের। আর গ্রুপ-ডি লিখিত পরীক্ষা হবে ৪০ নম্বরের। দু’টি পরীক্ষাই শুরু হবে দুপুর ১২ থেকে। গ্রুপ-সি পরীক্ষা হবে ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। গ্রুপ ডি-র পরীক্ষা হবে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement