সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত।
অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে, এ অভিযোগ উঠেছে আগেই। স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় এ বার সিলেবাস কমিটির তিন সদস্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার ওই মামলার শুনানিতে তিন সদস্যকে পাঠ্যরচনার জন্য ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করল শীর্ষ আদালত।
এ দিনের শুনানিতে, মাইকেল ড্যানিনো, শিক্ষিকা সুপর্ণা দিবাকর, আইন গবেষক অলোকপ্রসন্ন কুমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রকে দেওয়া নির্দেশে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ওই তিন জন কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না। কোনও সরকারি বেতনভুক্ত কাজে যোগদান করতে পারবেন না। এমনকি ভবিষ্যতে কোনও পাঠ্যক্রম তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকতেও পারবেন না।
এ দিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এঁরাই যদি কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে দায়িত্ব পান, তা হলে পরবর্তী প্রজন্মের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।” তবে তিনি জানিয়েছেন, এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন আদালতে।
এনসিইআরটি-র জমা দেওয়া হলফনামা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। আদালতের পর্যবেক্ষণ বলা হয়, ওই হলফনামায় স্পষ্ট করা হয়নি কারা বিতর্কিত অধ্যায়টির সংশোধিত সংস্করণ লেখার কাজে জড়িত ছিলেন, কারা তা খতিয়ে দেখেন এবং কোন পদ্ধতি মেনে পাঠ্যক্রমে ওই অধ্যায় রাখা হয়। তাই নতুন করে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, যারা এনসিইআরটি-র সংশোধিত অধ্যায়টির বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখবে।
ওই কমিটিতে রাখতে হবে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, পেশাদার আইনজীবী এবং একজন অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদকে। ভোপালের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমি-র সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করবে কমিটি। পাঠ্যে যাতে তথ্যগত কোনও ভুল থেকে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।