— প্রতীকী চিত্র।
২০২৬ বিধানসভা ভোটে নির্ণায়ক হয়ে উঠেছিল রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা। বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই এ সংক্রান্ত ইতিবাচক ঘোষণা হবে বলে আশা করেছিলেন শিক্ষকেরা। কিন্তু মহার্ঘ ভাতা নিয়ে কোনও কথাই উচ্চারিত হল না।
বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে অন্তত মহার্ঘ ভাতা নিয়ে কোনও ঘোষণা না হওয়ায় হতাশ শিক্ষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমল থেকেই এই মহার্ঘ ভাতা নিয়ে নানা টালবাহানা চালছে। সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার রায় দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিক্ষকেরা তা আদৌ কিনা তা নিয়ে ধোঁয়শা রয়েছে। তৃণমূল সরকারের নানা পদক্ষেপ শিক্ষকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে গত ১৩ মার্চ ধর্মঘটে সামিল হন শিক্ষকদের একাংশ। তার পরই বিকাশ ভবন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দফতর স্থির করবে কোন পদ্ধতিতে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে।
গত ১ এপ্রিল নবান্নে একটি বৈঠকও হয়। তার পর নবান্নে, বিকাশ ভবনের মধ্যে চলেছে চিঠি আদান-প্রদান। কিন্তু জট কাটেনি। বিকাশ ভবন থেকে ভাতা সংক্রান্ত ফাইল নবান্নে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
এরই পাশাপাশি বিধানসভায় ঘোষিত হয়েছিল ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রদানের কথা। সেই অংশও পাননি শিক্ষকেরা। গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টে তৎকালীন রাজ্য সরকার যে ৬২ পাতার স্টেটাস রিপোর্ট দিয়েছিল, তা নিয়েও নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। রাজ্য সরকার ৬২ পাতার যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তার মধ্যে সুকৌশলে ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’-এর কথা বাদ দিয়েছে বলে দাবি করেছিলেন শিক্ষকেরা।
শিক্ষকেরা আশা করেছিলেন, বিজেপি সরকার গঠনের পরেই মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করা হবে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে বকেয়া ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে। সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে সিদ্ধান্ত হলেও বকেয়া ডিএ নিয়ে সিদ্ধান্ত তো দূরের কথা কোনও আলোচনাই হয়নি। অবাক হয়েছি। সবাই আশা করেছিলাম আজ হয়তো ডিএ ঘোষণা হবে। সত্যি হতাশ হওয়ার মতোই ঘটনা।’’
শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘সপ্তম পে কমিশনের কথা বলা হলেও পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও মহার্ঘভাতার বিষয়ে কোনও আলোচনা না হওয়ায় আমরা হতাশ। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে আজকের বিবৃতিতে নিশ্চিত কিছু পাওয়া গেল না। আমরা আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।” তিনি দাবি করেন, পূর্বতন সরকারের মতো নতুন সরকার যেন কোনও ভাবেই শিক্ষক-কর্মচারী সমাজকে প্রতারিত না করে।
মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘আগের মতো এই সরকারেও দান খয়রাতি নিয়েই থাকল। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্রাপ্য দেওয়ার বিষয়ে টালবাহানা। আমরা হতাশ।’’