TET

টেট বাধ্যতামূলক! অবস্থান স্পষ্ট করুক রাজ্য এবং কেন্দ্র, দাবি তুলে আন্দোলনের পথে শিক্ষকেরা

গত বছরই সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানিয়েছিল, দেশের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। যাঁরা ‘টিচার্স এলিজিবিলিট টেস্ট’ (টেট) উত্তীর্ণ নন, তাঁদের প্রাথমিক ভাবে ২০২৭-এর মধ্যে তা উত্তীর্ণ হতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সম্প্রতি এই সময়সীমা ২০২৮ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। তবে, যাঁদের অবসর পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে, তাঁদের এই নির্দেশের বাইরে রাখা হয়েছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১৯:১২
Share:

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কর্মরত শিক্ষকদের টেট উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এক বছর সময় বৃদ্ধি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরে সরকারের অবস্থান এখনও পরিষ্কার নয়, মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ। তাই তাঁরা চাইছেন, দ্রুত রাজ্য ও কেন্দ্র তাদের অবস্থান স্পষ্ট করুক। আগামী ১০ জুন কলকাতার পথে ফের নামছেন তাঁরা।

Advertisement

গত বছরই সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানিয়েছিল, দেশের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। যাঁরা ‘টিচার্স এলিজিবিলিট টেস্ট’ (টেট) উত্তীর্ণ নন, তাঁদের প্রাথমিক ভাবে ২০২৭-এর মধ্যে তা উত্তীর্ণ হতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সম্প্রতি এই সময়সীমা ২০২৮ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। তবে, যাঁদের অবসর পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে, তাঁদের এই নির্দেশের বাইরে রাখা হয়েছিল।

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিজেপি সরকার সমস্ত শিক্ষকের স্বার্থরক্ষায় প্রয়াসী হবে। সেই প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়েই এ বার পথে নেমে আন্দোলনের কথা ভাবছেন স্কুল শিক্ষকদের একাংশ।

Advertisement

নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল শনিবার জানান, আগামী ১০ জুন বেলা ১টায় সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মিছিল করে তাঁরা কলেজ স্কোয়ার যাবেন। সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ করবেন। সঙ্গে থাকবেন নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সদস্যেরাও। তাঁদের দাবি, টেট থেকে শিক্ষকদের অব্যাহতি দিতে দ্রুত অর্ডিন্যান্স জারি করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য মামলা করেছিল নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল বলেন, “মূলত দু’টি বিষয়ের দিকে বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রথমত, ২০০৯ সালে শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী ১ এপ্রিল ২০১০-এ আইন বলবৎ হয়। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জুলাই মাসে শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত আইন চালু হয়। সেখানে টেট বাধ্যতামূলক করা হয়। তাই এই আইন বলবৎ হওয়ার আগে থেকে যাঁরা শিক্ষকতা করছেন তাঁদের তাঁদের এই নির্দেশের আওতার বাইরে রাখা হোক।”

সংগঠনের দাবি, সারা দেশে কয়েক লক্ষ শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা টেট উত্তীর্ণ নন। শিক্ষার অধিকার আইন, আরটিই ২০০৯ এবং এনসিটিই ২০১০-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাশ করা ন্যূনতম এবং বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, টেট আবশ্যিক যোগ্যতা।

এই অবস্থায় শিক্ষকদের দাবি দ্রুত অর্ডিন্যান্স জারি করে তাঁদের টেট জট থেকে মুক্ত করতে হবে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী কলকাতায় এসে কথা দিয়েছিলেন, তাঁরা রাজ্যে সরকারে এলে কর্মরত শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক টেটের বিষয়টা দেখবেন। কিন্তু তারপরে আর তিনি কিছু বলছেন না। রাজ্য এবং কেন্দ্র, দু’তরফই এখন চুপ করে বসে রয়েছে। রাজ্য কি টেট-এর ব্যবস্থা করবে? কেন্দ্র কি অর্ডিন্যান্স জারি করবে? শিক্ষকেরা বিভ্রান্ত। এই জট থেকে মুক্তি চাই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement