ছবি: সংগৃহীত।
মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকেরা কোনও ভাবেই আগামী ১৩ মার্চ 'লিভ অফ অ্যাবসেন্স অন ডিউটি' নিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানিয়েছে পর্ষদ। অর্থাৎ পরোক্ষে তাঁদের সকলকেই স্কুলে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই দাবি শিক্ষকদের একাংশের।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হয়েছে বলে সরব হল একাধিক শিক্ষক সংগঠন। আগামী ১৩ মার্চের ধর্মঘটকে সফল না করতে দেওয়ার জন্য পর্ষদ এই নির্দেশ দিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব স্কুলের প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক এবং স্ক্রুটিনির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, সাধারণত মাধ্যমিকের খাতা দেখা, নম্বর জমা দেওয়া-সহ পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত রয়েছেন তাঁরা স্কুল থেকে 'লিভ অফ অ্যাবসেন্স অন ডিউটি' নিয়ে থাকেন। অর্থাৎ সেই দিন গুলি তাঁরা স্কুলে যান না।
যে হেতু ১৩ মার্চ বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবি-সহ নানা দাবিতে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে তাই ঘুরিয়ে সকলকে স্কুলে হাজির হতে বলা হচ্ছে। তাঁর কথায়, "সরকার যে ভাবে শিক্ষক কর্মচারীদের বঞ্চিত করছে তাতে এই ধর্মঘটে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাবে বুঝতে পেরে পর্ষদ মাঠে নেমেছে। কিন্তু যতই ফতোয়া জারি করুক না কেন ধর্মঘট হচ্ছেই এবং তাতে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং সরকারকে উপযুক্ত জবাব দেবেন।"
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত বসু বলেন, "ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার অধিকার সরকার তো কেড়ে নিতে পারে না। শিক্ষকের উপরে ঘুরিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে স্কুলে যেতেই হবে এটা পর্ষদ কোনও ভাবেই করতে পারে না এবং আইনসিদ্ধ নয়।"