BJP Government

৪৫ দিনে মহার্ঘ ভাতা দেবে বিজেপি সরকার! রাজ্যের শিক্ষকমহল কোন আবেদন রাখছেন?

১৫ বছর পর বদলে গিয়েছে ক্ষমতার সমীকরণ, পাল্টে গিয়েছে সরকার। হিসাব বলছে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের পোস্টাল ব্যালটে ছিল এই বদলের ছাপ। ফলে ধরে নেওয়াই যায় ডিএ বা মহার্ঘ ভাতার প্রভাব অন্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে মিলেই প্রভাবিত করেছে ইভিএম-কে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ১৭:৩৬
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

মহার্ঘ ভাতা— ২০২৬ বিধানসভা ভোটের এক অন্যতম নির্বাচক-সমস্যা হয়ে ধরা দিয়েছিল। পথে নেমে আন্দোলন ঠিক যতখানি ঝাঁজালো হওয়ার কথা ছিল, হয়তো ততখানি হয়ে উঠতে পারেনি। তাই অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, আদৌ এর প্রভাব ইভিএম-এ পড়বে কি না! তৎকালীন সরকারও যেন সরকারি কর্মীদের ততটা গুরুত্ব দিতে চাইছিল না।

Advertisement

কিন্তু ১৫ বছর পর বদলে গিয়েছে ক্ষমতার সমীকরণ, পাল্টে গিয়েছে সরকার। হিসাব বলছে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের পোস্টাল ব্যালটে ছিল এই বদলের ছাপ। ফলে ধরে নেওয়াই যায় ডিএ বা মহার্ঘ ভাতার প্রভাব অন্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে মিলেই প্রভাবিত করেছে ইভিএম-কে।

রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে টানাপড়েন চলছে বহুদিন ধরে। ২০১৮-এ বহু আবেদন-নিবেদনের পর সরকারি কর্মচারীদের ১৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সে সময় তাঁর ‘মিউ মিউ-ঘেউ ঘেউ’ মন্তব্য নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। বিরোধীরা অসংবেদনশীলতার অভিযোগ তোলেন। এমনকি কলকাতা হাইকোর্টও এই মন্তব্যকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেয়।

Advertisement

তার পর গঙ্গায় গড়িয়েছে অনেক জল, বয়স বেড়েছে সরকারের। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে দ্বন্দ্বও বেড়েছে সরকার ও কর্মীদের মধ্যে। পথে নেমে আন্দোলন করেছেন শিক্ষকদের একাংশ। কিন্তু মহার্ঘ ভাতা পাওয়া যায়নি।

শিক্ষামহলের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরও শিক্ষকদের ‘গ্রান্ট ইন এড’ সংক্রান্ত বিষয়ে গড়িমসি করেছিল তৃণমূল সরকার। অন্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হলেও বাদ পড়ে গিয়েছেন শিক্ষকেরা। এমনকি সর্বশেষ বিধানসভায় বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাও দেওয়া হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের আদর্শ আচরণ বিধির দোহাই দিলেও তা নিতান্তই অজুহাত বলে দাবি শিক্ষকদের একাংশের। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত যে রিপোর্ট মমতার সরকার দিয়েছিল সেটা নিয়েও ব্যাপক আপত্তি ছিল শিক্ষকদের।

রাজ্যের তরফে গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টে ৬২ পাতার ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ পেশ করা হয়। জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের প্রায় ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার কর্মচারীকে ২০১৬ থেকে ২০১৯-এর সময়কালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বাবদ ৪ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর পরই ওঠে বৈষম্যের অভিযোগ। ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর নির্দেশ থাকলেও সরকার সেটা করেনি বলেই অভিযোগ। শিক্ষকদের দাবি, রাজ্য সরকার ৬২ পাতার যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তার মধ্যে সুকৌশলে ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’-এর কথা বাদ দিয়েছে।

বিগত রাজ্য সরকার মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার বিষয়ে দ্বিচারিতা করেছে বলেও সরব হয়েছেন শিক্ষকেরা। কারণ দফায় দফায় নবান্নে বৈঠকের পরেও বকেয়া মহার্ঘ ভাতার জট খোলেনি।

৯ মে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিয়েছেন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। নতুন সরকারের কাছে শিক্ষকেরা আবেদন জানাচ্ছেন মহার্ঘ ভাতার বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করার।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আবেদন জানিয়েছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকার বার বার শিক্ষকদের সঙ্গে বঞ্চনা করে এসেছে। ন্যায্য দাবি আদায়ে শুনতে হয়েছে যে ‘ঘেউ ঘেউ করবেন না’। তাই নতুন সরকারের কাছে আবেদন, শিক্ষকদের বঞ্চনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করুন।’’

নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, ‘‘আমরা আশা করব আজ যে সরকার গঠন হল, তারা সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে মহার্ঘ ভাতা প্রদানের বিষয়ে সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করবে।’’ বিজেপি টিচার্স সেলের শিক্ষক নেতা দীপল বিশ্বাস বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকারের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার বিষয়ে অনীহা আমরা সকলেই দেখেছি। বিজেপির তরফ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা এবং সপ্তম পে কমিশন চালু করা হবে। বিশ্বাস রাখুন বিজেপি সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা সেটা পূরণ হবে। মুখ্যমন্ত্রীও আশ্বাস দিয়েছেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement