— প্রতীকী চিত্র।
নির্বাচনের আগে স্থগিতই হল প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল জানান, নির্বাচন কমিশন অনুমতি না দেওয়ায় আপাতত ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হল।
জানা গিয়েছে, নির্বাচনী বিধির মেয়াদ শেষ হলেই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে গৌতম পাল দাবি করেন, আইনগত ভাবে পর্ষদের অবস্থানে কোনও ভুল ছিল না। এমনকি আদালতের দ্বারস্থ হলে রায় পর্ষদের পক্ষে থাকত। কিন্তু সে জটিলতায় তাঁরা যেতে চাননি।
পর্ষদ সূত্রের খবর, ২০২২-এ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৩,৫০৬ প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য ২০২৫-এর ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম থেকে চতুর্থ দফার ইন্টারভিউ শেষ হয়েছে আগেই। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্ষদ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে পঞ্চম থেকে দশম দফায় নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার ইন্টারভিউ শুরু করে। গত ১৯ মার্চ পঞ্চম পর্যায়ে নদিয়া জেলার ইন্টারভিউ সম্পন্ন হয়েছে। ষষ্ঠ পর্যায়ে গত ২৩ মার্চ পুরুলিয়া জেলার জন্য ইন্টারভিউ শুরু হয়। কিন্তু তত দিনে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে।
দশম পর্যায়ের ইন্টারভিউ আগামী ২৯ মে পর্যন্ত স্থির করা হয়েছিল। নির্বাচন প্রক্রিয়া জারি থাকায় আদৌ ইন্টারভিউ শেষ করা যায় কিনা, তা নিয়েই কিছু প্রশ্ন উঠেছিল। গত ১ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া স্থগিত করে পর্ষদ।
পরের দিন ২ এপ্রিল এক সাংবাদিক বৈঠকে পর্ষদ সভাপতি জানান, গত ২৭ মার্চ নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চেয়ে স্কুল শিক্ষা দফতরকে চিঠি দেয়। ৩০ মার্চ সেই চিঠি পৌঁছয় পর্ষদে। সে দিনই বিস্তারিত জানানো হয় পর্ষদের তরফে। তিনি জানিয়েছিলেন, যে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলছে তার বিজ্ঞপ্তি নির্বাচন ঘোষণার আগেই করা হয়েছে এবং যে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে তা-ও নির্বাচনের পরেই হবে। এতে নির্বাচনী আদর্শ বিধি কোথাও লঙ্ঘিত হচ্ছে না। ফলে ইন্টারভিউ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাইছেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, স্কুলশিক্ষা দফতরও কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। কিন্তু মঙ্গলবার জানা গেল কমিশন আপাতত সেই অনুমোদন দেয়নি। পর্ষদের তরফে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, আইনি পরামর্শ তাঁরা নিয়েছিলেন এবং আদালতে গেলে জয় তাঁদেরই হত। কিন্তু আদালতে মামলা করা, শুনানির দিন পাওয়া এবং তারপরে রায় পেতে যে সময় লাগতে পারে তাতে হয়তো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। তাই আপাতত কয়েকদিন অপেক্ষা করবেন বলেই সিদ্ধান্তই নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
এরই পাশাপাশি বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষক (স্পেশ্যাল এডুকেটর) নিয়োগের প্যানেল প্রকাশের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তা-ও স্থগিত করা হচ্ছে। ওই প্যানেলও নির্বাচনের পরেই প্রকাশ করা হবে বলে জানান সভাপতি। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘ওই প্যানেল সম্পূর্ণ তৈরি। নির্বাচন বিধির মেয়াদ শেষ হলেই আমরা তা প্রকাশ করব।’’