গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম
কোন রাজ্যে কত টেট অনুত্তীর্ণ শিক্ষক রয়েছেন, জানতে চাইল কেন্দ্র। সূত্রের খবর, সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক।
গত বছর সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ এক রায়ে নির্দেশ দিয়েছিল, সারা দেশে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের টেট উত্তীর্ণ হতেই হবে। যাঁরা টেট উত্তীর্ণ নন, তাঁদের পরবর্তী দু’বছরের মধ্যে ওই পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। না হলে চাকরি ছাড়তে হবে, অথবা, চূড়ান্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরের জন্য আবেদন করতে হবে। শুধু অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল সেই সব শিক্ষককে, যাঁরা আগামী পাঁচ বছরে অবসর নেবেন।
গত বছরের শেষে এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য পশ্চিমবঙ্গ উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের তরফে চিঠি দেওয়া হয় কেন্দ্রের কাছেও।
তারই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের যুগ্ম সচিবের তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে কোন রাজ্যে কত শিক্ষক অসুবিধায় পড়তে চলেছেন। শুধু তা-ই নয়, রাজ্যগুলি কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য আলাদা করে চাকরি ও আর্থিক সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ করতে চলেছে, তা-ও প্রস্তাব আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে রাজ্যগুলিকে। রাজ্যের আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও জানাতে হবে কেন্দ্রকে। ১৬ জানুয়ারির মধ্যে তা পাঠাতে হবে কেন্দ্রকে।
এর আগেই এ রাজ্যের শিক্ষক সংগঠনগুলি দাবি করেছিল, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় কার্যকর হলে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক মিলিয়ে প্রায় ৯৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা কাজ হারাবেন। সারা দেশের হিসাবে সংখ্যাটা প্রায় ৭০ লক্ষ।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, “আমরা চাই কেন্দ্র অর্ডিন্যান্স জারি করে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করুক।” বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “কেন্দ্র সাড়া দিল অনেক দেরিতে। ২৩ অগস্ট ২০১০-এর আগে যাঁরা চাকরিতে ঢুকেছেন তাঁদের যাতে টেট না দিতে হয়, সে ব্যাপারে আগামী দিনে কেন্দ্র উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে বলে আমরা আশা করছি।’’