Calcutta University

তিন বছর অন্তর স্নাতক পাঠ্যক্রম পরিবর্তন! যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে চায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

স্নাতকের পাঠ্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী করার ভাবনাচিন্তা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানান, ২০২৩ থেকে নতুন পাঠ্যক্রমে স্নাতকের পঠনপাঠন চলছে। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত ভাবে অন্তত তিন বছর অন্তর পাঠ্যক্রমের পর্যালোচনা প্রয়োজন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০৩
Share:

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । ছবি: সংগৃহীত।

তিন বছর পর পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন চাইছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এ নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন কর্তৃপক্ষ। আগামী সোমবার ওই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে পড়ুয়াদের অকৃতকার্য হওয়ার হার নিয়েও। কী ভাবে এই প্রবণতা রোখা যায়, কী ধরনের পদক্ষেপে আখেরে লাভ হতে পারে পড়ুয়াদের, তার রূপরেখা মিলতে পারে ওই বৈঠকে।

Advertisement

স্নাতকের পাঠ্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী করার ভাবনাচিন্তা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানান, ২০২৩ থেকে নতুন পাঠ্যক্রমে স্নাতকের পঠনপাঠন চলছে। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত ভাবে অন্তত তিন বছর অন্তর পাঠ্যক্রমের পর্যালোচনা প্রয়োজন। সেই তাগিদেই পাঠ্যক্রমে বদল আনার কথা ভাবা হচ্ছে। আমূল বদল না হলেও কোন কোন ক্ষেত্রে এই পাঠ্যক্রমের বিশেষ সংযোজন বা বিয়োজন প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখতেই স্নাতকের বোর্ড অফ স্টাডিজের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলে তিনি জানান।

তবে, তেমন কোনও বড় পরিবর্তন হলে তা আগামী শিক্ষাবর্ষে কার্যকরী হবে না। বরং ২০২৭ থেকে ওই পাঠ্যক্রম মেনে পঠনপাঠন শুরু হবে। আপাতত স্নাতকোত্তরের বিষয়ে পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের ভাবনাচিন্তা নেই বলেই তিনি জানিয়েছেন।

Advertisement

এরই পাশাপাশি উঠে আসছে স্নাতক পড়ুয়াদের আরও একটি বিষয়। কলেজ শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, স্নাতকে ‘মাইনর’ বিষয়ে অকৃতকার্যের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, এমনও দেখা গিয়েছে কোনও পড়ুয়া চতুর্থ সেমেস্টারে মেজর বিষয়ে ৭০ শতাংশের উপরে নম্বর পেয়েও মাইনের উত্তীর্ণ হতে পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী ষষ্ঠ সেমেস্টারে কোনও মেজর বিষয়ে ৭৪ শতাংশ নম্বর থাকলে সেই পড়ুয়া ‘অনার্স উইথ রিসার্চ’ পড়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন। কিন্তু ওই পড়ুয়া যদি কোনও মাইনর বিষয়ে পাশ না করে থাকেন, তা হলে তিনি ওই কোর্স পড়তে পারবেন না।

কেন এমন হচ্ছে, কারণ খতিয়ে দেখে সমাধান সূত্র খোঁজার চেষ্টা হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা। কোন বিষয়গুলিতে পড়ুয়াদের অসুবিধা হচ্ছে সেই বিষয়ে কলেজগুলির তরফে রিপোর্ট নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করতে চায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। পাঠ্যক্রমে পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

এরই সঙ্গে আরও একটি প্রস্তাব আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে মাইনর বিষয়গুলির জন্যে প্রশ্নপত্রের সংকলন তৈরির কথা ভাবছেন কর্তৃপক্ষ। যু্ক্তি হিসেবে এক কর্তা দাবি করেন, “মেজর এবং মাইনরে বিষয় এক হলেও প্রশ্নের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। হয়তো পড়ুয়াদের তা আয়ত্ত করতে সমস্যা হতে পারে। একটি ‘কোয়েশ্চেন ব্যাঙ্ক’ থাকলে শিক্ষক ও পড়ুয়ার সকলেরই বাড়তি সুবিধা হবে।”

যদিও কলেজ শিক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, অতীতে যা পাস-অনার্স হিসাবে পরিচিত ছিল, এখন তা-ই মাইনর-মেজর। পাস কোর্সের বিষয়গুলিকে অবহেলা করার প্রবণতা পুরনো পদ্ধতির পড়ুয়াদের মধ্যেও ছিল। কিন্তু সমস্যা হল, বর্তমানে মেজর ও মাইনর— উভয় কোর্স থেকেই নম্বর যুক্ত হয়। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, “সোমবারের বৈঠকে সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে। সকলের মতামত শুনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement