ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
গবেষণাগারে পরাগরেণুর অঙ্কুরোদ্গমের মতো বিষয় হাতেকলমে করে দেখাতে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। অথচ, উচ্চ মাধ্যমিকে প্র্যাকটিকাল পরীক্ষার জন্য সময় ধার্য করা হয় সেই ৩ ঘণ্টাই। তা হলে প্রশ্ন, একজন পড়ুয়া ওই সীমিত সময়ের মধ্যে পরাগরেণুর অঙ্কুরোদ্গম কখন দেখাবে? বাকি পরীক্ষাই বা সে কখন দেবে?
আবার ডিএনএ নিষ্কাশন করার জন্য যে ‘স্পেক্টফটোমিটার’-এর প্রয়োজন হয়, তা রাজ্যের অধিকাংশ স্কুলেই নেই। গোটা বছর পড়ুয়ারা ওই কাজ করতেই পারেনি গবেষণাগারে। পরীক্ষার সময়ে কী ভাবে তা করবে তারা?
এমনই সব প্রশ্ন উঠে আসছে উচ্চ মাধ্যমিক চতুর্থ সেমেস্টারের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা নিয়ে। উঠছে পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমস্যার কথাও। যেমন, কলকাতার একটি স্কুলের পদার্থবিদ্যার এক শিক্ষক জানিয়েছেন, চুম্বকের বলরেখা নির্ণয়ের মতো বিষয় যে পাঠ্যক্রমে রয়েছে, তা জানা গিয়েছে গত বছর অগস্টে। কিন্তু পরবর্তী অর্থবর্ষের আগে নতুন যন্ত্র কেনা সম্ভব নয়। ফলে শুধু বইয়ে পাতায় প়ড়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে চতুর্থ সেমেস্টারের।
এর পরই অভিযোগ উঠেছে, দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞানের প্র্যাকটিকাল পরীক্ষায় অবাস্তব পদ্ধতিতে পাঠ্যক্রম স্থির করা হয়েছে। প্রশ্নও করা হচ্ছে সে ভাবেই। শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ বহু ক্ষেত্রেই ‘নামমাত্র’ মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। সঠিক মূল্যায়নের জন্য প্র্যাকটিকাল-এর পাঠ্যক্রমে দ্রুত বদল প্রয়োজন বলে তাঁদের দাবি।
গত ১৬ মার্চ বহু স্কুলে শেষ হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের বিভিন্ন প্র্যাকটিকাল পরীক্ষা। কিন্তু সেখানে হিমশিম খেতে হয়েছে পড়ুয়াদের। কারণ যে প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সেখানে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা পড়ুয়ারা হাতেকলমে শেখার সুযোগই পায়নি। সেই পরিকাঠামোই নেই স্কুলে।
জীববিদ্যার এক শিক্ষক বলেন, “পাঠ্যক্রমের বাইরে থেকে প্রশ্ন এসেছে এমনটা নয়, কিন্তু হয়তো সবটা আমরা শিখিয়ে উঠতে পারিনি। পরিকাঠামোর অভাবেই এমন ঘটছে। পড়ুয়াদের তো দোষ নয়, তারা পরীক্ষা দেবে কী করে?” শিক্ষকদের দাবি, যাঁরা প্রশ্নপত্র তৈরি করছেন, তাঁরা বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, “স্কুলগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সংসদের উচিত পাঠ্যে পরিবর্তন আনা। না হলে এই শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার কোনও মূল্যই থাকছে না।”
এ দিকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার অবশ্য এই অসুবিধার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “প্র্যাকটিকাল পরীক্ষার জন্য যে পরিকাঠামোর প্রয়োজন, তা স্কুলগুলিতে রয়েছে। পড়ুয়াদের কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।”