— প্রতীকী চিত্র।
একাদশ শ্রেণির পঠনপঠন, পরীক্ষা এবং তার মূল্যায়ন পদ্ধতি আদৌ যথাযথ ভাবে হচ্ছে কি না, এ বার তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে চাইছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। সে কারণে স্কুল পরিদর্শনের উপর জোর দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
সংসদ সূত্রের খবর, নানা কারণে একাদশ শ্রেণির পঠনপাঠন গুরুত্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষকদের একাংশ। সেই প্রবণতায় রাশ টানাই সংসদের লক্ষ্য। একাদশ শ্রেণির প্রশ্নপত্র, পরীক্ষার মূল্যায়ন সবই স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজের মতো পরিচালনা করেন। একাদশ শ্রেণির পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে দ্বাদশের চূড়ান্ত পরীক্ষার আর কোনও যোগ নেই। তার ফলেই একাদশ শ্রেণি পড়ুয়াদের কাছেও গুরুত্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ।
শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, সময় মতো পাঠ্যক্রম শেষ হচ্ছে না। যতটুকু পড়ানো হচ্ছে, তার উপরই প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কোনও কোনও স্কুল বাইরের কোনও সংস্থার থেকে প্রশ্নপত্র কিনে পড়ুয়াদের পরীক্ষা নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র না ছাপিয়ে বোর্ডে লিখে দেওয়া হয় পরীক্ষার প্রশ্ন, অভিযোগ এমনই। শুধু তা-ই নয়, একাদশ শ্রেণির প়ড়ুয়াদের উপস্থিতির হার নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অধিকাংশ স্কুলে পড়ুয়ারা নিয়মিত ক্লাসে আসে না বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষকেরাই।
সংসদ অবশ্য দাবি করছে, সর্বভারতীয় বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষায় একাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। সংশোধিত পাঠ্যক্রমে যে ভাবে পাঠ্যবিষয় সাজানো হয়েছে, তাতে একাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমের অবহেলা করে পরবর্তীতে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই একাদশ শ্রেণিকেও দ্বাদশ শ্রেণির মতই গুরুত্ব দিতে চাইছে সংসদ।
অল পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, “একাদশ শ্রেণির গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে হলে উচ্চ মাধ্যমিকের মার্কশিটে একাদশ শ্রেণির নম্বরের উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।” যদিও সংসদ এখনই মার্কশিট এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়মে বদল আনতে চাইছে না।
তবে, পঠনপাঠন ও অন্য পরিস্থিতির উপর নজর রেখে এগোতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ। তাই বেশ কিছু ভাবনা রয়েছে বলে জানান এক কর্তা। তাঁর বক্তব্য, “স্কুলগুলিতে আচমকা পরিদর্শন করা হবে। কী ভাবে প্রতিদিনের ক্লাস রুটিন বানানো হয়েছে দেখা হবে। তৈরি করে দেওয়া হবে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার। পড়ুয়াদের হাজিরার সাপ্তাহিক পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখবে সংসদ।” এর পাশাপাশি জানানো হয়েছে, পরীক্ষার পরে সব স্কুলকে বাধ্যতামূলক ভাবে সংসদের পোর্টালে প্রশ্নপত্র আপলোড করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি প্রীতমকুমার হালদার বলেন, “সংসদ সব সময়েই পড়ুয়ার স্বার্থে কাজ করে। সহযোগিতার জন্য আমরা সব সময়ে পাশে রয়েছি। কোনও কোনও স্কুল বাইরে থেকে প্রশ্ন কিনে আনে, এ অভিযোগ আমাদের কাছেও রয়েছে। এ অভ্যাস ঠিক নয়। পড়ুয়াদের স্বার্থে আমাদের সকলের কাজ করা উচিত।”
সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার বলেন, “ আমরা চাই পড়ুয়ারা গুরুত্ব দিয়ে একাদশ শ্রেণিতেও পড়াশোনা করুক। সব নিয়ম যথাযথ পালন করলে আগামী দিনে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে। পরিদর্শন করার অর্থ কোথাও যদি কোনও খামতি রয়েছে বলে মনে হয় সেটি সংশোধন করে নেওয়া।”