Zoology Career Scope

ডিজ়িজ় বায়োলজি বা ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজি, প্রাণিবিদ্যার উচ্চশিক্ষায় খোলা নানা পথ

ইকোলজি, ফিশারি সায়েন্স-এর মতো বিষয় যেমন বেছে নেওয়া যেতে পারে বিশেষপত্র হিসাবে। তেমনই মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে চর্চাও করা যেতে পারে। এ বিষয়ে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে, পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে। জীবজগতের উপর মাইক্রোপ্লাস্টিকের কী প্রভাব তা গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ০৯:০০
Share:

প্রতীকী ছবি।

বিজ্ঞান পড়ুয়াদের মধ্যে প্রাণিবিদ্যা (জ়ুলজি) নিয়ে উচ্চ শিক্ষার আগ্রহ রয়েছে বরাবরই। মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি এই বিষয়ে অ্যানিমাল সায়েন্স বা অ্যানিমাল বায়োলজি-র সঙ্গে জুড়ে থাকে আচরণগত জীববিজ্ঞান (বিহেভিয়ারাল বায়োলজি), বায়োকেমেস্ট্রি, ইকোলজি, মলিকিউলার বায়োলজিও।

Advertisement

পড়ার সুযোগ কেমন?

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী চার বছরের স্নাতক কোর্সে দু’রকম সুযোগ পেতে পারেন পড়ুয়ারা। প্রথমত গবেষণার সঙ্গে পড়াশোনা। না হলে গবেষণা ছাড়াও অনার্স বেছে নেওয়া যায়। যে সব পড়ুয়া গবেষণার সঙ্গে অনার্স পড়তে চান, তাঁদের চতুর্থ বছরে গবেষণা ভিত্তিক পড়াশোনা করতে হয়। এই সময় ইন্টার্নশিপও করতে হয়।

Advertisement

গবেষণার পরিধি কেমন?

চতুর্থ বর্ষে গবেষণাপত্র বাছাই করে নিতে হবে প্রাণিবিদ্যার যে কোনও একটি ভাগ নিয়ে। সে ক্ষেত্রে ইকোলজি, ফিশারি সায়েন্স-এর মতো বিষয় যেমন বেছে নেওয়া যেতে পারে। তেমনই মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে চর্চাও করা যেতে পারে। এ বিষয়ে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে, পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে। জীবজগতের উপর মাইক্রোপ্লাস্টিকের কী প্রভাব তা গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ সায়েন্সেস-এর বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কৌশিক প্রামাণিক বলছেন, ‘‘ভারতে দু’টি ক্ষেত্র কখনোই পিছিয়ে পড়বে না। কৃষিবিদ্যা সংক্রান্ত বিষয় এন্টোমোলজি এবং ফিশারি। কারণ দেশ জুড়ে ভাগ শহরেই মাছের চাহিদা রয়েছে। ফলে কাজের চাহিদাও রয়েছে।”

ডিজিজ় বায়োলজি, এনভায়রমেন্টাল, ফিশারি, এগ্রিকালচার নিয়ে পড়ার সুযোগ প্রাণিবিদ্যার এক একটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। যেমন ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো অসুখ মশাবাহিত। এমন অনেক মশা রয়েছে যেগুলি কোনও রোগের বাহক নয়, সুতরাং কোন জায়গার কোন মশা মারণরোগ ধারণ করতে পারে সে গবেষণাও করার সুযোগ রয়েছে প্রাণিবিদ্যায়। ডিজিজ় বায়োলজি, এনভায়রমেন্টাল, ফিশারি, এগ্রিকালচার-সহ একাধিক ভাগ রয়েছে এই বিষয়ে।

কোথায় কোথায় পড়ানো হয়?

দ্বাদশের পর এই বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। রাজ্যের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় (লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের অধীনে প্রাণিবিদ্যা পড়ানো হয়), যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকে। তবে, আবেদনের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হতে হয় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ নম্বর নিয়ে। তবে সে ক্ষেত্রে দ্বাদশ শ্রেণি বিজ্ঞান বিষয়ের সঙ্গে উত্তীর্ণ হতে হয়। তার পর মেধাতালিকা অনুযায়ী ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকে কলেজগুলিতে। যদিও স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশিকা দিতে হয়।

পাঠ্যক্রম কেমন?

কৌশিক জানাচ্ছেন, প্রাণিবিদ্যার পাঠ্যক্রমের পরিধি বিস্তৃত। অ্যানিম্যাল সায়েন্সের প্রাথমিক পাঠ দিয়ে শুরু হত স্নাতক। সেখানে শ্রেণিবিন্যাস পড়ানো হয় প্রথমে। তার পর মডেল ধরে ধরে অ্যানাটমি পড়ানো হয়। তারপর আসে বিবর্তনের পাঠ। এর পর আসে অ্যানিম্যাল বিহেভিয়ার। কোনও কুকুর কেন বিশেষ একটি সময়ই কেন প্রজনন করে, পাখির ডাক ভোরবেলাই কেন বেশি শোনা যায়— এই সবই আচরণগত বৈশিষ্ট্য। তাই যাঁরা আগ্রহী, তাঁরা গবেষণার কাজে আনন্দ পেতে পারেন।

ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজিস্ট হওয়ার সুযোগ

প্রাণিবিদ্যার আরও একটি পেশাগত দিক ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজিস্ট। এই বিষয় নিয়েও বিশেষ গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বেশির ভাগ ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজিস্ট-ই প্রাণিবিদ্যা নিয়ে পড়ার সঙ্গে স্পেশ্যালাইজ়েশন করেন ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজি পত্রের উপর।

এনইপি-র নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য বিষয়েরগুলির মতো প্রাণিবিদ্যার ক্ষেত্রেও দু’বছর বেসিক বিষয়গুলি পড়তে হয়। এর পরের দু’বছরই গবেষণার পাঠ এবং হাতে কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ বেশি থাকে।

নেট দেওয়ার সুযোগ

এই বিষয় নিয়ে কেউ যদি পিএইচডি করতে চান অথবা জেআরএফ হয়ে কাজ করার ইচ্ছে থাকে তা হলে তাঁকে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট উত্তীর্ণ হতে হয়। তবে নেট দিতে হয় লাইফ সায়েন্সস বিষয়ের উপরই। দেশের মধ্যে চাকরির চাহিদাও যেমন রয়েছে দেশের বাইরেও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে গবেষণার পরিসর অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement