হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট পড়ার খুঁটিনাটি। ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্বায়নের প্রভাব পড়েছে শিল্পক্ষেত্রেও। এখন সফল কেরিয়ার গড়ার জন্য শিল্পের উপযোগী পেশাদার কোর্স বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় উচ্চমাধ্যমিক পাশের পরেই। চিরাচরিত বিএ, বিকম, বিএসসি পাস বা অনার্স না পড়েও ভিন্ন পেশাভিত্তিক কোর্স বেছে নেওয়া যায়। গত দু’তিন দশকে বৃত্তিমুখী কোর্সগুলির মধ্যে জনপ্রিয় হল হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট, হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, এবং হোটেল ম্যানেজমেন্ট।
এই প্রতিবেদনে হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কী পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে এবং পাঠ্যক্রম শেষের পর কোন কোন পদে কী কী চাকরির সুযোগ রয়েছে— তা আলোচনা করা হল।
হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট কী?
একটি হাসপাতালের পরিষেবা ঠিক রাখা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব থাকে হসপিটাল ম্যানেজারের হাতে। এই পেশায় হাসপাতালের প্রশাসনিক, ব্যবসায়িক ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তিনি তদারকি করেন। চিকিৎসক, নার্স-সহ অন্য কর্মীরা তাঁদের কাজ সুষ্ঠু ভাবে করছেন কি না, সে দিকেও তাঁকে নজরে রাখতে হয়।
এই পেশার গুরুত্ব কেন বাড়ছে?
গবেষণা বলছে, বর্তমানে সরকারি ছাড়াও বেসরকারি ক্ষেত্রে প্রচুর মাল্টি-স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল গড়ে উঠছে। চিকিৎসকেরা মূলত চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাই হাসপাতালের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা ও অন্য দিকগুলি সামলানোর জন্য দক্ষ ম্যানেজারের প্রয়োজন ক্রমশ বাড়ছে। এটি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে মন্দার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। তাই তরুণ প্রজন্ম ঝুঁকছে এই পেশায়।
পড়াশোনা
হসপিটাল ম্যানেজমেন্টের ব্যাচেলর ডিগ্রি কোর্স রয়েছে। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাচেলর অফ বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পড়ার সুযোগ রয়েছে। হসপিটাল অ্যান্ড হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মাস্টার অফ বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পড়া যায়। মাস্টার অফ হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট পড়েও এই পেশায় নিযুক্ত হওয়া যায়।
যোগ্যতা
যে কোনও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়ে এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করা যায়। যে কোনও বিভাগের পড়ুয়াই স্নাতক স্তরে ভর্তি হতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ নম্বর-সহ দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হতে হবে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
কী পড়তে হয়?
এই কোর্সে সাধারণত বেসিক কনসেপ্ট অফ হেলথ, হেলথকেয়ার সার্ভিস, হসপিটাল বেসড হেলথকেয়ার, হেলথ এডুকেশন, কমিউনিকেশন, বেসিক ইনফরমেশন টেকনোলজি, প্রিন্সিপাল অফ ম্যানেজমেন্ট, অরগানাইজেশনাল বিহেবিয়ার, কোয়ানটিভি ম্যানেজমেন্ট, ফার্মেসি ম্যানেজমেন্ট, ইনভেনটরি ম্যানেজমেন্ট, বিলিং এবং রিকভারি-সহ নানা বিষয় পড়ানো হয়। কোর্স চলাকালীন ছয় মাসের ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ থাকে।
কোন কোন পদে চাকরির সুযোগ?
হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, হেলথ কেয়ার ম্যানেজার, অপারেশনস্ ম্যানেজার, মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট, পেশেন্ট কেয়ার কো-অর্ডিনেটর, হেলথ সার্ভিস ম্যানেজার এবং ফিন্যান্স এগজিকিউটিভ পদে নিয়োগ করা হয়।
কী কী কাজ করতে হয়?
১) রোগী ভর্তি এবং ছুটির সমস্ত নথিগত কাজ করতে হয়।
২) সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। হাসপাতালের ‘ফ্রন্ট অফিস’ (রোগী ও তাঁদের পরিবার) এবং ‘ব্যাক অফিস’ (চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসন)-এর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার কাজ করতে হয়।
৩) হাসপাতাল সরকারি নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা নিশ্চিত করাও অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
৪) সঙ্কট পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা সামাল দেওয়াও কাজের আওতায় পড়ে। পাশাপাশি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও ঠান্ডা মাথায় তা মোকাবিলা করতে হয়।
৫) উন্নত মানের বেসরকারি হাসপাতালে ওষুধের মজুতদারি থেকে চিকিৎসার যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণও তাঁর নজরদারিতে থাকে।
তবে, পদ অনুযায়ী কাজের পরিসর নির্ভর করে। সাধারণত হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদে নিযুক্ত হলে তাঁকে প্রশাসনিক সমস্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। অন্যদিকে, পেশেন্ট কেয়ার কো-অর্ডিনেটর পদে থাকলে রোগীর পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্ত কাজ দেখতে হয়।
কোথায় চাকরি পাওয়া যায়?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনে চাকরি পাওয়ার সুযোগও মিলে যেতে পারে।
এ ছাড়াও সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে, নার্সিং হোমে, সেচ্ছাসেবী সংস্থায়, ফার্মাসি-সহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা সংস্থা অথবা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ রয়েছে। বেতন নির্ধারিত হয় পদ এবং কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে।