ছবি: এআই।
ভারতীয় অর্থব্যবস্থায় প্রযুক্তির সংযোজনের কারণে বাজারে বিশেষজ্ঞের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন শুধুমাত্র ব্যাঙ্কিং, কিংবা ফিন্যান্স ম্যানেজমেন্ট-এ দক্ষতাই যথেষ্ট নয়। অনলাইনে আর্থিক লেনদেন সুরক্ষিত ভাবে যাতে হতে পারে, সে দিকেও নজর রাখতে হয় বিশেষজ্ঞদের। এর জন্য কৃত্রিম মেধা, ব্লকচেন, ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগ ডেটা, ক্রিপ্টোকারেন্সি-র মতো বিষয়ও জেনে রাখা প্রয়োজন। এই সমস্ত কিছুই বর্তমানে আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে শেখার সুযোগ রয়েছে।
ফিনটেক ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে। তাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগও পাবেন। অঙ্ক, রাশিবিজ্ঞান, অর্থনীতি, হিসাবশাস্ত্র, বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ফিন্যান্স নিয়ে পড়াশোনার পর যাঁরা ফিনটেক-এ কেরিয়ার গড়তে চাইছেন, তাঁদের কী কী বিষয়ে দক্ষ হতে হবে?
১। যাঁরা ফিন্যানশিয়াল অ্যানালিস্ট হতে চাইছেন, তাঁদের ফিন্যানশিয়াল মডেলিং সফট্অয়্যার নিয়ে কাজে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অর্জন করতে হবে চার্টার্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালিস্ট-এর শংসাপত্র। তবে, ফিন্যান্স বিষয়ে স্পেশ্যালাইজ়েশন-সহ এমবিএ-ও করা যেতে পারে।
২। ফিনটেক কনসালট্যান্ট হিসাবে অর্থনীতি, ফিন্যান্স-এর পড়ুয়ারা চাকরি পেতে পারেন। তবে, তাঁদের ফিন্যান্স বা টেকনোলজি বিষয়ে এমবিএ থাকাও প্রয়োজন।
৩। বিজ়নেস অ্যানালিস্ট পদে কাজ করতে আগ্রহীদের অর্থনীতি, বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে উচ্চশিক্ষা থাকা প্রয়োজন। তাঁদের বিজ়নেস অ্যানলিসিস-এ সরকারি অনুমোদন সংগ্রহ করতে হবে।
৪। কমপ্লায়েন্স অফিসার হওয়ারও সুযোগ রয়েছে অর্থনীতি, ফিন্যান্স-এর পড়ুয়াদের কাছে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের আর্থিক লেনদেনের নিয়মবিধি জানা আবশ্যক।
তা ছাড়াও ফিনটেক-এ বিভিন্ন বিভাগে অন্য কোন বিষয়ের বিশেষজ্ঞেরা চাকরির সুযোগ পেয়ে থাকেন?
১। ডেটা সায়েন্টিস্ট হতে চাইলে মেশিন লার্নিং; পাইথন, আর-এর মতো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জানা চাই। এই বিভাগে চাকরির সুযোগ পেয়ে থাকেন অঙ্ক, রাশিবিজ্ঞান, ডেটা সায়েন্স-এর পড়ুয়ারা। তবে, তাঁদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা চাই।
২। ব্লকচেন ডেভেলপার হিসাবে কম্পিউটার সায়েন্স বা সফট্অয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে। তাঁদের ইথারিয়াম, হাইপার লেজার-এর মত ব্লকচেন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে দক্ষ হওয়া প্রয়োজন।
৩। প্রোডাক্ট ম্যানেজার পদে ডিজ়াইন, কম্পিউটার সায়েন্স-এ উচ্চশিক্ষা থাকলে কাজের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তাঁদের বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্পর্কে জ্ঞান এবং প্রোডাক্ট ডিজ়াইনে দক্ষতা থাকা বিশেষ প্রয়োজন।
৪। সাইবার সিকিওরিটি স্পেশ্যালিস্ট হিসাবেও ফিনটেক ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়। কোটি কোটি টাকার লেনদেন সুরক্ষিত রাখার জন্য তাঁদের ইনফরমেশন সিস্টেমস সিকিউরিটি প্রফেশনাল কিংবা এথিক্যাল হ্যাকার-এর সার্টিফিকেশন থাকতে হবে।
উল্লিখিত পদ ছাড়াও ফিনটেক-এ কাজ করতে আগ্রহীদের আলাদা করে সরকারি অনুমোদন অর্জন করতেই হয়। এর মধ্যে রয়েছে চার্টার্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালিস্ট সার্টিফিকেশন এবং ফিন্যানশিয়াল রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেশন। প্রযুক্তিগত দক্ষতা রয়েছে, এমন নবীন পড়ুয়ারা ওই শংসাপত্র অর্জন করতে পারলে চাকরির ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে, চাকরি পাওয়ার পর নিয়মিত ভাবে প্রযুক্তির চর্চার সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাপনা যাবতীয় রদবদল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। তবেই কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।