তৃণমূল প্রার্থী সমীর জানার (বাঁ দিকে) সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার পাথরপ্রতিমায়। ছবি: সংগৃহীত।
ভোটের প্রচার শুরু করলেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সাল থেকে তিনি তাঁর নির্বাচনী কর্মসূচি শুরু করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটেও তার অন্যথা হল না। মঙ্গলবার অভিষেকের জনসভা ছিল পাথরপ্রতিমার তৃণমূল প্রার্থী সমীর জানার সমর্থনে। সেই সভামঞ্চ থেকেই তিনি জানিয়ে দিলেন, ২৭ এপ্রিল প্রচার শেষও করবেন দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই। সেই কর্মসূচি হবে তাঁর লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে।
২০১১ থেকে পাথরপ্রতিমায় জিতছেন সমীর। তৃণমূলের এখনও হাতে গোনা যে কয়েক জন ধুতি-পাঞ্জাবি পরেন, সমীর তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁকে পাশে নিয়ে অভিষেক জয়ের ব্যবধান বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। অভিষেক বলেন, ‘‘২০২১ সালে সমীরদা জিতেছিলেন ২১ হাজার ভোটে। ২০২৪ সালের লোকসভায় সেই ব্যবধান বেড়ে হয় ২৫ হাজার। এ বার সেটাকেই ৪০ হাজার করতে হবে।’’
মঙ্গলবার ফের এক বার নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি-কে এক বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘ওরা আপনাদের এসআইআরের লাইনে দাঁড় করিয়েছিল। আপনারা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ওদের জবাব দিন।’’
তৃণমূলের বিএলএ-দের অর্থের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘যে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনে, তা চলে গিয়েছে বিজেপির হাতে। তৃণমূলের বিএলএ-দের ফোন করে বিজেপি টাকার বিনিময়ে কাজ করার প্রলোভন দেখাচ্ছে। কারণ ওদের বুথে লোক নেই।’’
গত সপ্তাহে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বক্তৃতাতেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন অভিষেক। জানান, চতুর্থ বার সরকার হওয়ার পরে পাথরপ্রতিমাতেও ডায়মন্ড হারবার মডেলে উন্নয়নের কাজ আরও তরান্বিত হবে। স্মরণ করিয়ে দিতে চান, স্বাধীনতার পর থেকে ৬৪ বছর পাথরপ্রতিমার অবস্থা কী ছিল— আর মমতার ১৫ বছরে কী হয়েছে। বুধবার অভিষেকের কর্মসূচি রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। নন্দীগ্রামেও কর্মিসভা করবেন তিনি।