Abhishek Banerjee

‘প্রথম দফাতেই সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে তৃণমূল’, দাবি অভিষেকের! শাহকে চ্যালেঞ্জ: ৪ তারিখ পর্যন্ত এখানে থাকুন

অভিষেক বলেন, ‘‘আমি জ্যোতিষী নই। তবে আমি যখনই রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছি, তা মেলে। ২০২১ সালে মিলেছে, ২০২৪ সালে মিলেছে, আর এ বারও মিলবে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২৬
Share:

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে! হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের সভা থেকে এমনই দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি শিবিরে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক বিরাজ করছে।’’

Advertisement

শুক্রবারের প্রচারসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছোড়েন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘বাংলায় এসে উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে মানুষকে। আমি বলছি, সৎসাহস থাকলে চার তারিখ বাংলায় থাকুন।’’ তার পরেই অভিষেক বলেন, ‘‘আমি জ্যোতিষী নই। তবে আমি যখনই রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছি, তা মেলে। ২০২১ সালে মিলেছে, ২০২৪ সালে মিলেছে, আর এ বারও মিলবে। আমি এখানে বলে দিয়ে যাচ্ছি। তৃণমূল কংগ্রেস কাল (বৃহস্পতিবার) সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে।’’

প্রথম দফার ভোটদানের হার নিয়ে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল এবং বিজেপি, দুই শিবিরই। প্রত্যেকেই নিজের নিজের মতো করে আসন জেতার সংখ্যা জানাচ্ছে। ভোট শেষ হওয়ার আগে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, তাঁর দল প্রথম দফাতেই ১২৫ আসেনর নীচে পাবে না। আর ভোটদানের হার নিয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্লেষণ করার পর শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে শাহ দাবি করেন, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে অন্তত ১১০টি আসনে বিজেপি জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে। আসন বাড়তেও পারে। আবার বৃহস্পতিবার তৃণমূল দাবি করে, খুব কম করে হলেও ১৫২টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন জিততে চলেছে তারা। শুক্রবার হাওড়ার সভা থেকে এ বার অভিষেক ‘সেঞ্চুরি’ পার করার কথা বললেন।

Advertisement

অভিষেক বলেন, ‘‘ওরা (বিজেপি) বলেছিল বাংলায় ভোট কেটে ক্ষমতায় আসবে। কাল প্রথম দফার ভোট হয়েছে। দেখেছেন তো বিজেপির মধ্যে কেমন ছটফটানি শুরু হয়ে গিয়েছে।’’ তার পরেই তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ বলেন, ‘‘বাংলায় এসে বলেছিল, ২৩ তারিখ বাঙালিকে ঘরে ঢুকিয়ে দেব। ২৯ তারিখ বাঙালিকে ঘরে ঢুকিয়ে দেব। আমাদের জন্মভূমিতে গুজরাতের গুন্ডারা এসে বলছে উল্টে ঝুলিয়ে দেবে। আমি খালি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলাম, গরম পড়েছে, মাথা ঠান্ডা রাখুন, জল বেশি করে খান। উনি বলছেন আমি নাকি গালাগালি করেছি। আমি কোনও খারাপ কথা বলিনি, শুধু তাঁকে শান্ত থাকতে বলেছিলাম। এটা ১০ দিনের ব্যাপার। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, চার তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে থাকুন।’’

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটদানের হার ৯২.৮৮ শতাংশ। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এই হিসাবই প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এ রাজ্যে তো বটেই, বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে সারা দেশে এই পরিসংখ্যান বিরল। প্রচলিত ধারণা বলে, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত প্রতিষ্ঠান বা স্থিতাবস্থাবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে তৃণমূল এই তত্ত্বে মান্যতা দিতে নারাজ। তৃণমূলের অনেকে এই প্রসঙ্গে গত লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের দৃষ্টান্ত টানছেন। পশ্চিমবঙ্গে সে বারও অনেক ভোট পড়েছিল এবং ভোটের ফল রাজ্যে শাসকের পক্ষে গিয়েছিল। অভিষেকও তাঁর বক্তৃতায় ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ টানলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement