dehydration prevention tips

জলশূন্যতার শিকার? শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে জলে মিশিয়ে নিন হেঁশেলের ৫ উপকরণ

কখনও কখনও জল খেয়েও ডিহাইড্রেশন কমে না। সে ক্ষেত্রে রান্নাঘরের কিছু সামগ্রী জলে মিশিয়ে দেখতে পারেন। শুধু স্বাদ বাড়বে এমনটা নয়, এই সব উপকরণ শরীর আর্দ্র রাখতেও সাহায্য করবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৭:২৯
Share:

জল খেয়েও ডিহাইড্রেশন কমছে না? ছবি: সংগৃহীত।

তাপমাত্রার পারদ চড়ছে। মাঝেমধ্যে বৃষ্টিও ভোগাচ্ছে। কখনও ভ্যাপসা গরম, আবার কখনও টানা বৃষ্টি। আপেক্ষিক আর্দ্রতাও বদলে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। আবহাওয়ার এমন ভোলবদলে নানা অসুখবিসুখ বাড়ছে, যার মধ্যে ‘সাইলেন্ট ডিহাইড্রেশন’ নিয়ে চিন্তায় চিকিৎসকেরা। গরমের সময়েই যে ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলশূন্যতার সমস্যা দেখা দেবে, তা নয়। পরিবর্তিত আবহাওয়াও এর কারণ হতে পারে। জল ও খনিজ লবণের ঘাটতি এমন ভাবে হচ্ছে যে, বাইরে থেকে বোঝার উপায় থাকছে না বেশির ভাগ সময়েই। ফলে হঠাৎ করেই দুর্বলতা, পেশিতে টান ধরা, খিঁচুনি বা মূত্রনালির সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে।

Advertisement

শরীরে জলের ঘাটতি হতে থাকে এবং বাইরে থেকে তার কোনও লক্ষণ তেমন ভাবে প্রকাশ পায় না। রোগ ধরা পড়ে আচমকাই। আবহাওয়ার ঘন ঘন পরিবর্তন ঘটলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেড়ে যায়, সেই সময়ে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বেরিয়ে যায়। বৃষ্টির দিনে গরম কম লাগে বলে বোঝা যায় না যে, ঘাম হচ্ছে। কিন্তু এই সময়েই শরীর থেকে জল ও গ্লুকোজ় বেশি পরিমাণে বেরিয়ে যায়। ঘাটতি হতে থাকে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামেরও। ফলে তলে তলে জলশূন্যতা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতি জল খাওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে কখনও কখনও জল খেয়েও ডিহাইড্রেশন কমে না। সে ক্ষেত্রে রান্নাঘরের কিছু সামগ্রী জলে মিশিয়ে দেখতে পারেন। শুধু স্বাদ বাড়বে এমনটা নয়, এই সব উপকরণ শরীর আর্দ্র রাখতেও সাহায্য করবে।

১) লেবু: জলে সামান্য লেবুর রস মেশালে কেবল স্বাদই বাড়ে না, বরং লেবু জল খেলে বার বার জল খাওয়ার ইচ্ছে বাড়বে, শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। লেবুতে পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি থাকে, যা গরমের সময় শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করতেও সাহায্য করবে।

Advertisement

২) পুদিনাপাতা: গরমের সময়ে জলের বোতলে কয়েকটি পুদিনাপাতা ফেলে দিলেও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমতে পারে। পুদিনা শরীর ঠান্ডা রাখে, গরমের দিনে পুদিনা জল খেলে তৃপ্তি আসে শরীরে। এর ঝাঁঝালো স্বাদের কারণে সেই পানীয়ে বার বার চুমুক দিতে ইচ্ছে করে। ফলে জল খাওয়ার ইচ্ছেও বাড়ে। যাঁদের জল খেতে ইচ্ছে করে না, তাঁরা পুদিনা জল খেয়ে দেখতে পারেন।

৩) চিয়া বীজ: ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দূর করতে চিয়া বীজও দারুণ উপকারী। চিয়া বীজ জলে ভিজিয়ে রাখলে তা ফুলে গিয়ে জেলির মতো হয়ে যায়। চিয়া বীজের জল ধরে রাখার ক্ষমতা অনেকটাই বেশি। সাধারণ জল, শরবত, ছাতু, লস্যিতে এই মিশ্রণটি মিশিয়ে খেলে শরীরে জলের অভাব হওয়ার কথা নয়।

৪) এক চিমটে নুন: শুনতে অবাক লাগলেও জলে এক চিমটে নুন মিশিয়ে খেলে শরীরে আর্দ্র ভাব বাড়বে। সোডিয়াম একটি অপরিহার্য ইলেকট্রোলাইট যা শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত তরল বেরিয়ে যাওয়াও আটকায়।

৫) শসা: শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখার অন্যতম সহজ ও সহজলভ্য উপায় হল শসার শরবত খাওয়া। শসায় প্রায় ৯৫ শতাংশই জল থাকে, এ ছাড়া এতে সামান্য পরিমাণে পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও রয়েছে। জলের ভিতরে কয়েকটি শসাকুচি ফেলে দিলে কেবল স্বাদ বাড়বে না, শরীরে জলের ঘাটতিও মিটবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement