নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।
আমি বনাম আমি! ২৯৪ বনাম ২৯৪!
রাজ্যে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনকে তাঁদের দু’জনের লড়াইয়ে ক্রমশ বেঁধে ফেলতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা আগেই বলেছেন, কে প্রার্থী দেখার দরকার নেই। সব আসনে তিনিই প্রার্থী। প্রধানমন্ত্রী মোদীর মুখে রবিবার সেই সুরই শুনল পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল কংগ্রেস যাকে ‘মমতার নকল’ করা বলে কটাক্ষ করছে!
শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে জনসভায় রবিবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘বাংলার নির্বাচনে বিজেপির জয় বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। আমার কাছে আপনারা সবাই, প্রার্থীরা সবাই মোদী! আপনারা কংগ্রেস, বামফ্রন্ট, তৃণমূল কংগ্রেসকে সুযোগ দিয়েছেন। এক বার মোদীকে সুযোগ দিন।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘বাংলার মেয়েদের সুরক্ষার জন্য এক বার মোদীকে সুযোগ দিন। অনুপ্রবেশ থেকে বাংলাকে বাঁচাতে এক বার সুযোগ দিন। বাংলায় শিল্প ফেরাতে এবং মাফিয়া-রাজ শেষ করতে মোদীকে সুযোগ দিন। ভারতীয় সংস্কৃতিকে বাঁচাতে মোদীকে ভোট দিন!’’
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এবং দমদমের তৃণমূল প্রার্থী ব্রাত্য বসুর কটাক্ষ, ‘‘প্রধানমন্ত্রী সব কিছুতেই মমতাদি’কে নকল করেন। ভোটের প্রচারেও তা-ই করছেন।’’ আর স্বয়ং মমতা আসানসোল-সহ চার জায়গায় নির্বাচনী সভা করতে গিয়ে এ দিনও বলেছেন, ‘‘আমার নেতৃত্বে যদি সরকার চান, প্রার্থী দেখবেন না। মনে রাখবেন, ২৯৪টা কেন্দ্রে আমিই আপনাদের প্রার্থী! আমার মুখ দেখে ভোট দেবেন।’’
তিনটি সভা এবং শিলিগুড়িতে রোড-শো সেরে শনিবার উত্তরবঙ্গের চা-বলয়েই রাত কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরে এ দিন তাঁর সভা ছিল কাওয়াখালিতে। সেখানে ফের অনুপ্রবেশ-প্রশ্নে সুর চড়িয়েছেন। মোদী বলেছেন, ‘‘উত্তরবঙ্গের জেলায় অনুপ্রবেশের জেরে জনবিন্যাসে কত পরিবর্তন হচ্ছে, আমি দেখছি। সামাজিক স্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। ভাষা, সংস্কার, সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসছে। অনুপ্রবেশকারীরা শ্রমিকদের কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে। এটা এখনই না-আটকালে অনেক দেরি হয়ে যাবে। তাই আমার মন্ত্র মনে রাখুন। পদ্ম ফোটাও, অনুপ্রবেশকারীদের ভাগাও!’’
এরই পাশাপাশি কাওয়াখালির ময়দান থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘শিলিগুড়ি এবং উত্তরবঙ্গে ভূমি মাফিয়া এবং টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং রয়েছে। যারা উত্তর-পূর্ব ভারতকে ভাগ করে দিতে চায়, তাদের লোকজনকে তৃণমূল সংসদে জায়গা দেয়।’’ যদিও বিরোধীরা মনে করিয়ে দিচ্ছে, পৃথক রাজ্যের দাবি তোলা অনন্ত মহারাজ এখন রাজ্যসভায় বিজেপির সাংসদ। কামতাপুরী আন্দোলনের বংশীবদন বর্মণকে কিছু দিন আগেই দলে নিয়েছে বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গে কেন ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার দককার, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকারে বাংলার দ্রুত বিকাশ হবে। বঙ্গ বিজেপি উত্তরবঙ্গের জন্যে অনেক ভাল ভাল ঘোষণা করেছে। এখানকার যুবকদের জন্য আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ, ক্যান্সার হাসপাতাল, ফ্যাশন ডিজাইনিং ইন্সটিটিউট উত্তরবঙ্গে হবে। এটা বঙ্গ বিজেপির সঙ্কল্প। এটা মোদীর গ্যারান্টি।’’ তাঁর আরও মন্তব্য, ‘‘দার্জিলিং উত্তরবঙ্গের একটা বড় বিষয়, এটা চায়ের ক্ষেত্র। এখানকার চায়ের স্বাদ আমার চেয়ে কেউ ভাল জানে না! কিন্তু দেখছেন, এই নির্মম সরকার চা-বাগান শেষ করে দিচ্ছে।’’ অসমের নাম না-করেই তিনি বলেছেন, ‘‘পড়শি রাজ্যে বিজেপি সরকার চা-বাগানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগারের ব্যবস্থা করছে। জমির পাট্টা দিচ্ছে। বাংলায় বিজেপি চা-বাগান পরিবারের জন্য সঙ্কল্প নিয়েছে। শ্রমিক পরিবারের জমি পাট্টা, ঘর, জল, বিদ্যুৎ, রোজগার দেবে।’’
হুগলির সাহাগঞ্জের সভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিনই বলেছেন, ‘‘মোদীজি ‘পাল্টানো দরকার’-এর কথা বলেন। ওরা যে পরিবর্তন চায়, তা কেবল আপনাদের এসআইআর-এর লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং, আপনারা কী খাবেন বা কী পরবেন, সেটাও দিল্লি ও গুজরাতের নেতারা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবেন।’’ অভিষেকের পাল্টা আহ্বান, ‘‘যারা আপনাদের অপমান করেছে, শোষণ করেছে এবং আপনাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে, এই বছরের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ভাবে তাদের জবাব দিতে হবে। নোটবন্দি, এসআইআর, এলপিজি বিতরণ এবং আরও অনেক কিছুর সময়ে মোদী ও অমিত শাহের বিজেপি মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে। আপনারা আর এক বার এই বিজেপির লাইনে দাঁড় করানোর বিরুদ্ধে ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন!’’
কলকাতায় ব্রাত্যও বলেছেন, ‘‘উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলার সমালোচনা করছেন, তখন তাঁদের ডাবল ইঞ্জিনের রাজ্য মণিপুরে মালদহের এক তরুণ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে। কী জবাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী? মণিপুরে ৮৬০ দিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুন দেখতে পান না ওঁরা! যেতে পারেন না এক বার। আর বাংলা দখল করতে, বাংলায় অশান্তি তৈরি করতে চাইছেন।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে