বিধানসভায় নিজের অফিস ছেড়ে দিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। ঠিক তার পরের দিনই বিধানসভায় নিজের অফিস ছেড়ে দিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভায় নিজের দফতরে আসেন তিনি। দ্রুতই দফতরের আধিকারিকদের তাঁর যাবতীয় মালপত্র গাড়িতে তুলে দিতে বলেন। স্পিকারের নির্দেশ পাওয়ামাত্রই কাজ শুরু করে দফতর। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই স্পিকারের জন্য বরাদ্দ দু’টি গাড়িতে স্পিকারের মালপত্র তোলার যাবতীয় কাজ শেষ হয়ে যায়। এই সময়ে বিধানসভার অন্দরে রটে যায়, স্পিকার বিমান আর কিছু সময় পরেই নিজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে বিধানসভা ছেড়ে বেরিয়ে যাবেন। বিধানসভায় কর্মরতরা সকলেই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন।
বিধানসভায় নিজের ঘর ছেড়ে শেষবারের মতো বেরোনো মাত্রই স্পিকারকে বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান কর্মীরা। সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তাঁর সঙ্গে কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান। অনেকেই তাঁকে বিধানসভার গাড়িবারান্দা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে আসেন। তাঁর এ হেন প্রস্থান প্রসঙ্গে বিমান বলেন, ‘‘ক্ষমতায় এলে এক দিন তো যেতেই হয়। আমি বিষয়টিকে এ ভাবেই দেখছি। আর সব কিছু সহজ ভাবে গ্রহণ করা উচিত বলে আমার মনে হয়।’’ তবে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি বিধায়ক হিসাবে তো বিধানসভায় আসবই, তখন সবার সঙ্গে দেখা হবে।’’
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে পরিবর্তনের নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে প্রথম বার বিধায়ক হন বিমান। সে বারই তাঁকে স্পিকার পদে বসান তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতেও তাঁকে স্পিকারের পদে রেখে দেন মমতা। এ বারও তাঁকে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তিনি ১৭,৮৬২ ভোটে জয়ী হয়েছেন। যেহেতু তৃণমূল পরাজিত হয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, তাই তিনি যে আর স্পিকার পদে থাকবেন না, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই তৃণমূলের পরাজয়ের পরদিনই তিনি বিধানসভায় স্পিকারের জন্য বরাদ্দ ঘর ও অফিস ছেড়ে দিলেন।