মন্দিরের বন্ধ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ভক্তের নিবেদন। —নিজস্ব ছবি।
বিদায়ী বিধায়কের ‘গড়ে’ পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু পুজো দেওয়া হল না। পুজো দিতে গিয়ে মন্দিরের তালাবন্ধ গেটের সামনে অপেক্ষা করতে করতে শেষে সেখান থেকেই পুজো সারতে হল বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রকে। রবিবার ওই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে।
বর্ধমান দক্ষিণের কাঞ্চননগরে কঙ্কালেশ্বরী কালীবাড়িতে পুজো দিতে গিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা। তাঁর আঙুল স্থানীয় বিধায়ক তথা প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাসের দিকে। পাশাপাশি শাসকদলের স্থানীয় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘মন্দিরে তো সবাই পুজো দিতে পারেন। আমি বিজেপি-র প্রার্থী বলেই এই ধরনের আচরণ করা হল। মন্দিরে ঢুকে পুজো দিতে পারলাম না। তৃণমূলের এক কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে এটা করা হল।’’ প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আদর্শ বিধিভঙ্গেরও অভিযোগ করেছেন মৌমিতা। তিনি বলেন, ‘‘বিধায়কের চালু করা ‘এক ফোনে খোকন’ এবং ‘অন্নজ্যোতি প্রকল্প’ এখনও চলছে। ওই প্রকল্পের প্রচারগাড়িতে বিধায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।’’
বিজেপি প্রার্থীর যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। পুজো দেওয়ার ইস্যু নিয়ে তৃণমূলের দাবি, মন্দির খোলার নির্দিষ্ট সময় আছে। তার আগে বা পরে গেলে কী ভাবে পুজো দেবেন? নিয়ম তো সকলের জন্য এক। তৃণমূল নেতা বাগবুল ইসলাম বলেন, ‘‘প্রতি দিন সকাল ১০টায় মন্দিরের দরজা বন্ধ করা হয়। বিজেপি প্রার্থী ১১টার পরে মন্দিরে গিয়েছিলেন। তখন মন্দিরের গেটে তালা দেওয়া ছিল। এটাই তো নিয়ম। এখানে তৃণমূল কী দোষ করল? ভোটের জন্য মিথ্যা বলছেন বিজেপি প্রার্থী।’’ পাশাপাশি, নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল।
অন্য দিকে, কালনার পর পূর্ব বর্ধমানের ভাতারেও প্রার্থীকে নিয়ে বিজেপির দলীয় কোন্দল প্রকাশে এসেছে। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার বিরুদ্ধে এলাকা জুড়ে পোস্টার সেঁটেছেন বিজেপিরই কর্মীরা। ভাতার বাজার, বলগোনা, নিত্যানন্দপুর, বনপাশ, খেতিয়ার মতো জায়গায় ওই পোস্টারগুলিতে লেখা, “টিএমসি উপপ্রধানের জামাই সৌমেন কার্ফাকে মানছি না, মানব না।” তলায় লেখা ‘সৌজন্যে ভারতীয় জনতা পার্টি।’
পরে সৌমেনের অনুগামীরা এলাকা ঘুরে ঘুরে পোস্টার সরিয়েছেন। ভাতারের তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোনারের খোঁচা, ‘‘বিজেপি অন্তর্কলহে জর্জরিত। আমরা আর কী করব।” তবে সৌমেনের দাবি, তৃণমূলের ইন্ধনেই ওই কাজ হয়েছে। তাঁর দলের কেউ এ কাজ করেননি।