মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
‘‘যে অত্যাচার করছে, অনাচার করছে, বাংলা চুপ আছে মানে মাথানত করে না, ইলেকশন কাউন্টিংয়ে গড়বড় করবেই। হারতে পারে না তৃণমূল। আজকেই আমরা জিতে বসে আছি। এর পর আমরা দুরমুশ করব। দুরমুশ!’’
‘‘কিছু তো একটা হচ্ছে। ধান্দাটা হচ্ছে, কাউন্টিংয়ে সে গুনে অ্যানাউন্স করে দিল। খাতায় লিখে নিল। কিন্তু জিতছেন হয়তো ৪ হাজার ভোটে। দেখাবে ২ হাজার ভোটে।’’
‘‘ভোটটা পুলিশ দেবে না। মিলিটারিও দেবে না। ভোটটা মানুষ দেবে। আমি মানুষকে বিশ্বাস করি। বলছে, কাউন্টিংয়ে খেলা হবে। একজন অফিসারের মেসেজ এল আমার কাছে। ওরা তো জানে না, আমি এগুলো কোথা থেকে পাই। আরে ভাই, আমারও তো কিছু বন্ধুবান্ধব আছে। ওরা পাঠিয়ে দেয়। লিখেছে, ‘কাউন্টিং কী দিন খেলা হোগা।’ কিয়া খেলা হোগা? প্ল্যানটা শুনুন। কাউন্টিংয়ের সময় গেলে বি অ্যালার্ট।’’
‘‘যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াচ্ছে। বাংলার উপর এত রাগ কেন ভাই বুঝি না। এ রাজ্যের মানুষ বাইরে কাজে গেলে মারছে। মানুষ মারা যাচ্ছেন, আমাদের নিয়ে আসতে হচ্ছে। বার বার বলছি, চলে এসো। এখানে কর্মসংস্থান আছে।’’
‘‘বাংলায় ভোট করার জন্য একঝাঁক বুট নিয়ে এসেছে। কাল রাতে আমায় একজন ফোন করে বলে, দিদি রাত থেকে আজানও শোনা যাচ্ছে না, হরিনামও শোনা যাচ্ছে না। খালি গটগট-গটগট শব্দ শোনা যাচ্ছে। মানে বাবুরা বন্দুক হাতে গটগট করে হেঁটে যাচ্ছে। আমি তো মেয়েদের বলেছি, ওরা গটগট করলে তোমরাও হিল পরে খটখট করবে।’’
‘‘কখনও কখনও কিছু কথা মনে আসে। এরা (প্রার্থী এবং নেতৃত্বের দিকে আঙুল দেখিয়ে) আমাকে বিশ্বাস করেনি। আমি বলেছিলাম ২০২৬ থেকে এদের পতন শুরু হবে। জানি না, কেন বলেছিলাম। কিন্তু দেখলাম, পতন তো শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২৬ সামলাতে পারবে কি না, আই অ্যাম ইন ডাউট। বাংলাকে টার্গেট করলে আমরা দিল্লিকে টার্গেট করি, এটা মনে রাখবেন।’’
‘‘এ বার যে ৯০ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়েছে, তার মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু, ৩০ লক্ষ মুসলমান। কী দরকার ছিল ভোটের আগে এঁদের বাদ দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী আপনি যদি এঁদের ভোটেই জিতে প্রধানমন্ত্রী হন, তা হলে তো আপনার প্রধানমন্ত্রিত্ব পদত্যাগ করেছেন। ওঁর আবার মন কী বাত! মন? কেঁদে বলেছিলেন, এঁরা আমাকে মহিলা বিল পাশ করতে দেননি। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিল পাশ হয়েছে। তিন বছর আগে। এত দিন কেন নোটিফিকেশন করোনি ভাই? আমি বলি, গেমপ্ল্যান নম্বর এ— সামনে মহিলা বিল নোটিফিকেশন, গেম নম্বর বি— ডিলিমিটেশন। ৫৪৩ আসনে ওঁর ভরসা নেই সাড়ে ৮০০ করতে হবে। দিয়েছি ঝামা ঘষে।’’
‘‘আমার কাছ থেকে আমার পুলিশ কেড়ে নিয়েছে অনেক দিন আগে। মনে রাখবেন, যাঁরা প্রশাসনে থাকে নিরপেক্ষ ভাবে ভোটটা করতে হয়। কিন্তু আমি এমন ওয়াশিং মেশিন কোথাও দেখিনি। আমি তো সাত বার এমপি হয়েছি। চার বার সেন্ট্রালের মন্ত্রী হয়েছি। আমি দেশটা চিনি। আমার কাছে অ্যাসেম্বলিটা মনে হয় ছোট। তার কারণ, এটা কন্ট্রোল করতে আমার এক সেকেন্ড লাগে। পার্লামেন্ট আমি অনেক বার কন্ট্রোল করেছি রেল বাজেট করে। সেই রেল বাজেট তো উঠিয়েই দিয়েছে।’’
‘‘হোম মিনিস্টার বলছেন, ‘আমি ২৯ তারিখ পর্যন্ত থাকব।’ নিয়ম হচ্ছে, থাকতে পারবেন না। ইউ আর আউটসাইডার। ইউ আর নট ভোটার অফ বেঙ্গল। ইউ মাস্ট নো দ্য রুলস্। গায়ের জোরে সব কিছু হবে নাকি। ৯০ লক্ষ মানুষের নাম কেটেছো। এ ভোটে আমরাই জিতব। অন্য কেউ নয়।’’
‘‘ঝালমুড়ি হবে। আগে ভেলপুরি হোক। উনি বলে গেলেন, ‘দেখা কিতনা শান্তি মে ভোট হুয়া!’ ওটা তোমার কৃতিত্ব? আবার ওখানে দাঁড়িয়েই বলছো, বাংলা নাকি জ্বলছে! লজ্জা করে না? দু’মুখো সাপ! এক জায়গায় তুমি বলছো জ্বলছে, একই জায়গায় বলছো, শান্তিপূর্ণ!’’
‘‘আজকে আমরা উদ্বাস্তু কলোনির প্রত্যেককে তাঁর জমি দেওয়ার জন্য বিল পাস হয়েছে। আর ঠিকানা কেউ হারাবেন না। এটার একটা নামও দিয়েছিলাম— স্থায়ী ঠিকানা। এখানে হাঁদাই-ভোঁদাই বলছে, ‘মমতাজি তো ঝুপড়ি বানা দিয়ে।’ তো গরিব মানুষ কোথায় যাবে? আমি স্ল্যাম এরিয়া বলি না। আমি বলি ‘উত্তরণ।’ কিছু ওয়ার্ড ছিল মানুষকে অসম্মানের ওয়ার্ড। আমরা সেগুলোর নাম দিয়েছি ‘শুভ’। চেয়ার কখনও কাউকে মিথ্যা প্রতিশ্রতি দেয় না। আমি তথ্য দিলে ক্রসচেক করে দিই।’’
‘‘আগে লড়াই ছিল সিপিএমের সঙ্গে। জেতার পর লড়াইটা বিজেপির সঙ্গে। আমাদের এখান থেকে ট্যাক্স নিয়ে যায়। আমরা ভেবেছিলাম, একটা ট্যাক্স হলে মানুষের সুবিধা হবে। জিএসটি-তে সমর্থন করেছিলাম। এখন দেখছি, ভুল করেছিলাম। জিএসটি-র নামে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। মাছের তেলে মাছ ভাজছে। কিন্তু আমাদের টাকা পরিমাণ মতো পাই না। ২ লক্ষ কোটি টাকা দেনা নিয়ে কাজ করতে নেমেছিলাম। ৬ লক্ষ কোটি টাকা শোধ করতে না হলে আরও কত কাজ হত।’’
জীবনে যে কোনও বড় কাজের আগে যাদবপুরের মাটি তিনি ছুঁয়ে যান। বারো ভূতের মাঠ তাঁর তালিকায় থাকেই। অরূপ, দেবব্রতের সমর্থনে সভায় জানালেন মমতা। তিনি জানান, ১৯৮৪ সালে যাদবপুর থেকে প্রথম নির্বাচনী জয় পেয়েছেন। তখন যাদবপুরের মানুষের দাবি মেনে উদ্বাস্তুদের ‘ল্যান্ড সেটেলমেন্ট’ করে দিয়েছেন।
এর আগের সভায় মমতা বলেন, ‘‘জানেন এত কেন ভোট পড়ছে? ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তুলেছি। ট্রাইবুনাল কিচ্ছু তুলতে পারেনি। সেটা ওদের নির্দেশে কাজ হয়েছে কি না জানি না। তবে মানুষ জানেন এটা তাঁদের অধিকার রক্ষার লড়াই।’’ তিনি জৈন মন্দিরে এ-ও বলেন, ‘‘আপনারা শুনলে খুশি হবেন, এ বার প্রচুর ভোট পড়েছে। আসলে এত নাম এ বার বাদ গিয়েছে। তাই এ বার কেউ রিস্ক নেননি। সকলে ভোট দিয়েছেন। এটা গুড সাইন। সকলে এসআইআর নিয়ে ভীত।’’ উল্লেখ্য, রাজ্যে প্রথম দফার ভোটে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জ আসনে। সেখানে ভোটদানের হার ৯৫.৩৪ শতাংশ। ভগবানগোলায় ভোট পড়েছে ৯৫.৩১ শতাংশ। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ভোট পড়েছে ৯০.০৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটদানের হার ৯১ শতাংশের বেশি।