শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
রাজ্যে সরকারি উদ্যোগে ২০ জুন তারিখটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালন করাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও সপ্তমে উঠল। তারকেশ্বরে এই দিনটির গুরুত্ব ব্যাখ্যার পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান ভুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধীদের নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রেক্ষিতে বিজেপির বিরুদ্ধে বিকৃত ইতিহাস প্রচারের অভিযোগ তুলে পাল্টা রাস্তায় নেমেছে বাম, কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। বামেদের আরও বক্তব্য, ১৯৪৭-এর ২০ জুন আসলে বাংলা ভাগের জেরে ছিন্নমূল মানুষের যন্ত্রণার ইতিহাসের শুরু হয়েছিল।
তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেছেন, “কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, তৃণমূল সরকার শ্যামাপ্রসাদের অবদানকে ভুলিয়ে দিতে সরকারি ভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করেনি। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বার রাষ্ট্রবাদী ডাবল ইঞ্জিন সরকার সরকারি ভাবে দিনটি পালন করছে।”
এই প্রেক্ষিতেই, পাল্টা প্রচার শুরু করেছে বিরোধীরাও। আজ, ২১ থেকে ২৪ জুন ৪০টি জায়গায় ‘মানুষের দরবারে মানুষের ইতিহাস’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশভাগ, তৎকালীন সময়ে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা নিয়ে প্রচার-কর্মসূচি নিয়েছে সিপিএমের কলকাতা জেলা কমিটি। দলের জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার এ দিন বলেছেন, “২০ জুন তারিখটিকে কেন্দ্র করে দেশভাগকেবিকৃত ভাবে দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। দেশভাগ আসলে উদ্বাস্তু মানুষের জন্য যন্ত্রণার। শ্যামাপ্রসাদ, মুসলিম লীগ, তৎকালীন নেতৃত্ব ক্ষমতা দখলের জন্য এই দেশভাগকে চেয়েছিলেন।” সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই স্লোগান তুলেছে ‘২০ জুনের ইতিহাস জানো। বিকৃত ইতিহাস বাতিল করো।’ তাদের আরও বক্তব্য, ‘২০ জুনের ইতিহাস আসলে দেশভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের ছিন্নমূল ও রক্তাক্ত হওয়ার ইতিহাসের সূচনা। সরকারি নির্দেশে এই দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালন আসলে বাংলার মানুষকে বিকৃত ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার শুরু।’
একই ভাবে ‘বাংলা ভাগের ইতিহাস: বিজেপির মিথ্যা প্রচার’ নাম দিয়ে অবস্থানে বসেছে কংগ্রেসও। দলের দফতর বিধান ভবনের সামনে হওয়া অবস্থান থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করেছেন, “বিজেপির নিজেদের কোনও স্বাধীনতা সংগ্রামী নেই। তাই তারা স্বাধীনতার ইতিহাসটাকে গুলিয়ে দিতে চাইছে।”সরব হয়েছে অন্য বাম দলগুলিও। সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেছেন, “নরেন্দ্র মোদীর সরকার দেশভাগের বিভীষিকাকে স্মরণ করতে ১৪ আগস্ট দিনটি পালন করে। ১৯৪৭-এর ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় গৃহীত বাংলা ভাগের প্রস্তাব ছিল ভারত বিভাজনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তা হলে ২০ জুন কী ভাবে পশ্চিমবঙ্গের জন্য গর্বের দিন হতে পারে? এই স্ববিরোধিতার কোনও ব্যাখ্যা আছে?” পাশাপাশি, এসইউসি-ও বলেছে, ‘দেশভাগের ভয়ঙ্কর পরিণতির শিকার ছিন্নমূল মানুষদের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানোর চেষ্টা হিন্দুত্ববাদীরা শুরু থেকেই করছেন। ২০ জুন দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসাবে চালানোর চেষ্টা সেই একই হীন উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে