— প্রতীকী চিত্র।
প্রায় এক দিন কেটে গেলেও প্রচারে বেরোনো তরুণী ও তাঁর বাবাকে মারধরের ঘটনায় কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলল সিপিএম। সোমবার পানিহাটির ওই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এবং পুরো ঘটনায় বিজেপি প্রার্থী তথা আর জি করের নির্যাতিতার মায়ের উস্কানি ছিল বলেও অভিযোগ।
বিজেপির হাতে প্রহৃত তরুণীর বাবা, সিপিএম কর্মী সুরজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অবাক লাগছে, নির্যাতিতার মা নিজেই গোলমালে উস্কানি দিলেন। এক বারও মঞ্চ থেকে নেমে এসে বললেন না, কেন মেয়েটাকে মারধর করছ?’’ আর জি করের সেই ঘটনার প্রতিবাদে ‘রাত দখল’ থেকে শুরু করে ‘দ্রোহের কার্নিভাল’, চিকিৎসকদের অনশন মঞ্চ, সোদপুরে একের পর এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন সুরজিৎ ও তাঁর মেয়ে শ্রীলেখা। বছর একুশের ওই তরুণী মঙ্গলবার বলেন, ‘‘বাবাকে মারছে দেখে প্রতিবাদ করি। তখন আমাকেও মারতে শুরু করে। আমার ডান হাতে দীর্ঘ দিন ধরে সমস্যা রয়েছে। মারধরে এখন খুব যন্ত্রণা হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভাবতেও খারাপ লাগছে, কাকিমা সব দেখেও চুপ করে থাকলেন।’’
সোমবার পানিহাটির আট নম্বর ওয়ার্ডে সকাল থেকে টোটোয় চড়ে প্রচার করছিলেন শ্রীলেখা ও সুরজিৎ। সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তের হয়ে মাইকে ঘোষণা করছিলেন ওই তরুণী। সুরজিতের দাবি, দুপুরে সেন্ট্রাল মোড়ের কাছে মঞ্চে তখন নির্যাতিতার মা বক্তব্য রাখলেও প্রচণ্ড আওয়াজের জন্য প্রথমে শুনতে পাননি। তাঁর কথায়, ‘‘যখন দেখলাম, উনি বক্তব্য রাখছেন, তখন মাইক বন্ধ করার আগেই বিজেপিরবহিরাগত এক দল কর্মী এসে মাইকের তার ছিঁড়ে দিল। তার পরে কলতানের ব্যানারটা ছিঁড়ে আমাদের মারতে শুরু করল।’’
খবর পেয়ে কলতান-সহ স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব থানায় গিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। কলতান বলেন, ‘‘বিজেপি যে নারী-বিদ্বেষী দল, পানিহাটিতেও তারপ্রমাণ মিলল। পাড়ার মেয়েকে চোখের সামনে মারধর করা হল, কিন্তু বিজেপির নেতারা একটি কথাও বললেন না। এঁরাই নাকি অভয়ার বিচারের কথা বলছেন।’’ এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফোন ধরে নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘‘প্রার্থী এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত আছেন। আর, এ সব ফালতু কথা। পাত্তা দেবেন না।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে