রায়দিঘিতে নায়িকা সংবাদ, হতাশ কান্তি

এক জন পুরোদস্তুর রাজনীতিক। ‘ভূমিপুত্র’ও। মাটি কামড়ে এলাকায় পড়েছিলেন পাঁচ বছর ধরে। তাঁর প্রতিপক্ষ নায়িকা। এলাকায় দেখা যেত কালেভদ্রে।

Advertisement

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০১৬ ০৩:১৯
Share:

দুই ছবি। ফের পরাজিত কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর জয়ের হাসি দেবশ্রী রায়ের। — নিজস্ব চিত্র।

এক জন পুরোদস্তুর রাজনীতিক। ‘ভূমিপুত্র’ও। মাটি কামড়ে এলাকায় পড়েছিলেন পাঁচ বছর ধরে।

Advertisement

তাঁর প্রতিপক্ষ নায়িকা। এলাকায় দেখা যেত কালেভদ্রে।

রাজনীতিকের সঙ্গে তাঁর দলের সকলে তো ছিলেনই, সঙ্গে ছিল কংগ্রেসও। পক্ষান্তরে, নায়িকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল তাঁর দলের নেতাদেরই একাংশের।

Advertisement

অথচ, ফাইনাল ম্যাচে ‘ভূমিপুত্র’কে ফের এক বার ধরাশায়ী করে দিলেন নায়িকা। রায়দিঘিতে জোটপ্রার্থী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় পরাজিত হলেন তৃণমূল প্রার্থী দেবশ্রী রায়ের কাছে।

কোন অঙ্কে?

উত্তর খোঁজা শুরু করেছে সিপিএম। ‘‘হিসেব কিছুতেই মিলছে না,’’ বলছেন দলীয় নেতারা। ঠারেঠোরে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের অনেকেও। দেবশ্রী অবশ্য বলছেন, ‘‘এলাকা উন্নয়নে অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ করেছি। ফের রায়দিঘির উন্নয়নে জোয়ার আসবে।’’

অথচ, এই উন্নয়ন নিয়েই তো বিদায়ী বিধায়ক দেবশ্রীর উপরে চটে ছিলেন এলাকার দলীয় নেতৃত্ব! ২০১১ সালেও কান্তিবাবুকে হারিয়েছিলেন দেবশ্রী। তখন অবশ্য সিপিএম নেতারাও মেনে নিয়েছিলেন প্রবল ‘মমতা-হাওয়া’তেই উতরে গিয়েছেন নায়িকা। না হলে আয়লা-বিপর্যয়ে (২০০৯) কান্তিবাবু যে ভাবে কাজ করেছিলেন, তাতে তাঁর হারার কথা নয়। কিন্তু এ বার প্রচার-পর্বে পাল্লা ভারী ছিল কান্তিবাবুর দিকেই!

বস্তুত, আগের দফায় দেবশ্রী বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। দলের নেতাদের অনেকেরই অভিযোগ ছিল, বিধায়ককে কালেভদ্রে রায়দিঘিতে দেখা যেত। সেই ক্ষোভ এতটাই বেড়েছিল যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এক বার বলতে শোনা যায়, ‘‘এখানে উন্নয়ন তো আমিই করছি।’’ তার পরেও এ বার রায়দিঘিতে কান্তিবাবুর বিরুদ্ধে ফের দেবশ্রী প্রার্থী হওয়ায় পরাজয় এক রকম ধরেই নিয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। দলেরই বিক্ষোভের জেরে কয়েকটি কয়েক বার প্রচারেও বাধা পান দেবশ্রী।

উল্টো দিকে, প্রচার-পর্বেই দেখা গিয়েছে, কান্তিবাবু মানেই মানুষের ঢল। দিল্লি থেকে এসে তাঁর হয়ে প্রচারে পা মিলিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব অর্ধেন্দু সেনও। তার উপরে গত পঞ্চায়েত ভোটে রায়দিঘির অধিকাংশ পঞ্চায়েত বামেদের পকেটে যাওয়াটা বাড়তি ভরসা ছিল জোটের।

কিন্তু বৃহস্পতিবার দেখা গেল, দেবশ্রী পেয়েছেন ১ লক্ষ ১ হাজার ১৬১টি ভোট (৪৬.৬৫ শতাংশ)। কান্তিবাবু ৯৯ হাজার ৯৩২টি (৪৬ শতাংশ)। বাম শিবিরের কেউ কেউ মনে করছেন, এসইউসি-র প্রায় সাত হাজার ভোটের মধ্যে তিন হাজার তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে। কেননা, এসইউসি পেয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার ভোট। আর এটাই কান্তিবাবুর হারার কারণ। তৃণমূলের এক নেতা সেই জল্পনা নস্যাৎ করে দাবি করেছেন, ‘‘সিপিএমের দখলে থাকা পঞ্চায়েতগুলিতে কোনও উন্নয়ন হয়নি। সেটা মানুষ ভাল ভাবে নেননি। সেই কারণেও মানুষ কান্তিবাবুর থেকে বিরূপ হতে পারেন।’’

বেলা গড়িয়ে গেলেও হারের কারণ নিয়ে কান্তিবাবু নিজেও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। রায়দিঘির উত্তর কুমোপাড়ার বাড়িতে তাঁর গলায় আফসোস, ‘‘রাজ্য তৃণমূল ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ হয়েছে। আমিও ওই শতাংশ পেয়েছি। তফাত একটাই। ওরা বিজয়ী। আমি পরাজিত।’’

তবে, বিক্ষুব্ধ এক তৃণমূল নেতা অন্য কথা শুনিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘‘মানুষ দেবশ্রীকে ভোট দিয়েছেন কে বলল? ভোট তো মমতা পেয়েছেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement